Wednesday, August 21, 2019

বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (১২তম পর্ব)

ভোরবেলা থেকে বিরামহীন বৃষ্টি।
সকালে একটু থেমেছিল। কয়েক মিনিট পর আবার আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামল।
নিশাত বৃষ্টি দেখছিল বিছানায় শুয়ে শুয়ে। আম্মু একবার ভোরবেলা ডাকতে এসে ছিল। তখন আম্মুকে বলেছিলাম"" জানালার পর্দা সরিয়ে দিয়ে যাও আম্মু,,। আম্মু তখন মৃধু হেসে জানালার পর্দা সরিয়ে দেয়। তারপর পাশে এসে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।

---এখন উঠে ফ্রেশ হয়ে পড়াশোনা কর। দুদিন ধরে কোন পড়াশোনার নাম গন্ধ নেই।
.
আম্মুর কথাটা শুনে হাতটা বালিশের মাথার নিচে দিয়ে চোখটা বন্ধ করে বললাম,
---বৃষ্টির মধ্যে আমার পড়তে একদম মন চাচ্ছে না আম্মু,,
---এমা,,! কি বলিস এসব নিশাত,,,! তোর আব্বু যদি এসব শোনে তাহলে কি হবে বুঝতে পাড়ছো,,।
---তুমি বললে তো শুনবে। তাই তুমি আব্বুকে বলবা না। ব্যাস,,! আব্বু জানতে পাড়বে না।
---এসব বলতে নেই। আব্বু জানলে খুব কষ্ট পাবে।
---আম্মু এখন ঘুমাতে দাও তো,,
---আবার ঘুমাবি,,,?
---উমমম,,
---আচ্ছা ১০ মিনিট,,
---১০ মিনিটে ঘুম শেষ হবে আমার।
---আচ্ছা যা,, ৩০ মিনিট ।
---ঠিক আছে তুমি যাও,,,
---মনে থাকে যেন,, ৩০ মিনিট।
.
৩০ মিনিট তো দূররে কথা। কয় ঘন্টা ঘুুমিয়েছি জানি না।
বারান্দায় দাঁড়ালে চোখ অনেক দূর পর্যন্ত চলে যায়। খোলা প্রান্তরে বৃষ্টি দেখতে অন্যরকম লাগে। সাদা একটা পর্দা যেন আকাশ থেকে নেমে এসেছে। বাতাস পেয়ে পর্দাটা কাঁপতে থাকে, একেবেঁকে যায়। বড় অদ্ভুত লাগে। শুয়ে থেকে এই বৃষ্টি দেখা যায় না।

কফির মগটা নিয়ে মাজেদা বেগম রুমে ঢুকলেন। রুমে ঢুকতে দেখে নিশাত কিছু একটা ভাবছে আনমনে ।
---এই নি,,,
.
কথাটা বলতে বলতে ড্রেসিংটেবিলের টুলবক্স টেনে বসলো মাজেদা বেগম খাটের কাছে।
মায়ের কথাটা শুনে নিশাত তাকালো। কফির মগ থেকে ধৌয়া বের হচ্ছে।
---আমি তো এখনও ফ্রেশ হই নাই আম্মু।
---এখনও,,,
---উমমম।
---তোর আব্বুকে বলবো,,,।
---না না আম্মু,,আমি যাচ্ছি,,,
.
নিশাত বিছানা থেকে উঠে জানালাটির কাছে যায়।
---কি রে বৃষ্টি অনুভব না করে ফ্রেশ হয়ে কফি খেতে খেতে অনুভব কর। দেখবি মনটা যতটা এখন ভালো আছে তার থেকে দ্বিগুণ ভালো হবে।
.
কথাটা শুনে নিশাত জানালার কাছ থেকে এসে মাকে জড়িয়ে ধরে বললো,
---সত্যি বলছো,,,
---হুমম। তোর আব্বু এই একি কথা বলেছিল। আমার হালকা হালকা জ্বর ছিল শরীরে। উঠতে মন চাচ্ছিল না। জোর করে আমাকে কোলে তুলে ওয়াশ রুমে নিয়ে যায়। তারপরে আমি ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি তোর আব্বু বারান্দায় বসে আছে দুকাপ কফি নিয়ে। আমি মৃধু হাসি। পরে তোর আব্বু বললো, "এই নাও কফি। আমি কফির মগটা নিয়ে বৃষ্টি অনুভব করলাম। তখন যে কি অনুভূতি হয় তোকে ঠিক বুঝাতে পাড়বো না। তারপর তোর আব্বুকে বললাম, " আচ্ছা তুমি এতো রোমান্টিক কেনো,,? জানিস তোর আব্বু কি বলেছিল,,,?
---কি আম্মু,,,?
---বলছিল,, তোমার জন্য।
---তাই,,,
---হুম। তারপর আমি লজ্জায় মরে যাই অবস্থা। তুই যা ফ্রেশ হয়ে নি।
---ওকে,,,
---কফিটা টেবিলে রেখে দিচ্ছি,,,
.
মাজেদা বেগম কফিটা রেখে চলে যেতে লাগলো।

নিশাত ফারহানকে নিয়ে কল্পনা সাগরে ডুবে যাচ্ছে।
মাজেদা বেগম দাড়িয়ে পড়ে। নিশাতের দিকে তাকায়। দেখে একা একা মৃধু হাসছে নিশাত। তাই দেখে মাজেদা বেগম চলে যায় নিশাতের কাছে।
---কি ম্যাডাম,,। কি ভাবছেন,,? বুঝি তাকে নিয়ে কল্পনা জৎতে চলে গেছেন।
.
মায়ের কথাটা শুনে একটু লজ্জা পায় নিশাত।
---তুমি না আম্মু,,,
---বেষ্ট ফ্রেন্ড,,,
---হাহাহাহা,,,
---আর হাসতে হবে না।
---উম্মা,,,,,
.
নিশাত মাজেদা বেগমকে লম্বা একটা চুমু দিয়ে ওয়াশ রুমে চলে যায় দৌঁড়ে।
মাজেদা বেগম মেয়ের কান্ডকর্ম দেখে মনে মনে হেসে বলে উঠলো, "পাগলি একটা,,,
মাজেদা বেগম চলে গেলো।
.
.
সামনের ক্যানভাসটার দিকে গভীর মনোযোগে তাকিয়ে আছে ফারহান। মুখে কিছুটা বিরক্তির ছাপ।
গত দুদিন ধরে জ্বর এসেছে ফারহানের। রকিং চেয়ারে বসে আছে। আজ কোন বই নেই হাতে।
---ভাইয়া জ্বর কেমন এখন,,?
---একটু কমেছে,,
---দেখি।
.
কথাটা বলে চৈতী ফারহানের কপালে হাত দিয়ে দেখে। জ্বর তো কমেনি। তার মানে ভাইয়া বুঝতে পারছে না।
---তুই কেমন বল তো ভাইয়া,,,!
ছোটবোনটার কথাটা শুনে অবাক হয়ে তাকায়। কেমন মানে,,,? কি বলতে চাচ্ছে।
---কেমন আমি,,,?
---নিজের কতটুকু জ্বর, সেটুকু বলতে পারিস না তুই। তুই কি আধৌও ছোট বাঁচ্চা থেকে যাবি।

ছোটবোনটার কথাটা শুনে হাসবে,,! নাকি কি বলবে বুঝতে পারছে না।
---আমি জানি না। এটা ছোট্টবেলা থেকে অভ্যাসটা। আমি নিজে থেকে কিছু বলতে পারি না।
---হয়ছে হয়ছে। এখন ঘুমিয়ে পড়।
---এতো তাড়াতাড়ি ঘুমাবো।
---ডাক্তার আংকেল কি বলেছে সেটা ভুলে গেলি নাকি। আর কত বাজে সেটা খেয়াল করেছিস ভাইয়া,,!
---নাহ্ তো,,!
---১১:৫৭ বাজে।
---সত্যি,,,
---আমি কি সব সময় ফান করি বল।
---না,,।
---তাহলে,,,
.
চাদরের ভেতর থেকে হাত বের করে দেখি হাত খালি। তার মানে তখন হাতে কিছু নেই অনুভব করেছি। তার মানে ঘড়িটা,,!
---তোর ঘড়ি তোর টেবিলে রাখা।
---তুই যা ঘুমিয়ে পড়।
---মানে,,! তুমি ঘুমাবা না ভাইয়া।
---আমার আর এক,,,,
---চুপ,,। চল তো ভাইয়া।
.
ফারহান যেতে না চাইলে চৈতী জোর করে চেয়ার থেকে উঠিয়ে জোর করে রুমে নিয়ে যায়।
তারপরে বিছানায় ঘুম শুয়ায়ে দেয়। চাঁদরটা শরীরের উপর দিয়ে লাইট বন্ধ করে বলে উঠলো,,
---আমি দরজা লাগিয়ে দিচ্ছি। গুড নাইট ভাইয়া।
---গুড নাইট পিচ্চি বুড়ি,,,
---ভাইয়াআআআআ,,,
---হাহাহাহাহাহাহাহাহাহা,,,
.
হাসিটা শোনার আগে রুমের দরজা লাগিয়ে চলে যায় চৈতী।
ফারহান ভাবতে থাকে। হয়তো এটাই ছোট/বড় বোনের স্নেহ, ভালোবাসা,,,,,
পৃথিবীতে যদি নিঃস্বার্থে ভালোবাসা থাকে। তাহলে তার মধ্যে এই ছোট/বোনের ভালোবাসা তার মধ্যে অনন্যতম।
.
.
ভার্সিটি থেকে ফিরেই নিশাত প্রথম কাজ ধুপ করে তার ব্যাগটা ছুঁড়ে ফেলে দেয়া। তারপর জুতাটা খুলে ফেলে কোনরকম ভাবে মোজাটা তাতে গুঁজে ধপাস করে কাজী নজরুল ইসলামের বই নিয়ে বিছানায় ঝাঁপ দেওয়া। এটা নিশাতের এখন প্রতিদিনের রুটিন। হাত- মুখ ধোয়া না, খাওয়া না- তার আগেই বইয়ের ভেতর মুখ গোঁজা তার প্রথম কাজ।
---নিশাত...নিশাত... আরে এই নিশাত...
---হু! (মায়ের চীৎকারে নিশাত কোনমতে জবাব দেয়।)
--- এই মেয়ে, হাত- মুখ ধুয়ে নে... খাবার দিচ্ছি...
---হু!
---হু ... হু... না বলে আগে যা বলছি তাই কর...নাহলে মার খাবি কিন্তু... তোর এই বই পড়া আজই বন্ধ করে দেব...
এহেন হুমকিতে তো আর বসে থাকা যায় না। তড়াতাড়ি করে উঠে সে বাথরুমে ছোটে। ফ্রেশ হয়ে খেতে বসে।
খাওয়া দাওয়া শেষ করে লম্বা একটা ঘুম দেয়। ঘুমানোর আগে একটু বই পড়তে ভোলে না নিশাত।
.
.
চৈতী আর মমতা রহমান খাবার শেষ করে টিভি দেখছে।
---আম্মু একটা কথা বলি।
মেয়ের কথাটা শুনে ভ্রুঁ কুঁচকে তাকালো মমতা রহমান।
---কি কথা,,,?
---নিশাতকে তোমার কেমন লাগে,,? আর তোমার পছন্দ হয় আম্মু,,?
---এই কথাটা বলতে আমার পারমিশন লাগবে।
---এই জন্য বলি নাই।
---তাহলে,,?
---আগে বল কেমন লাগে আর তোমার পছন্দ হয় কিনা,,!
---নিশাতের মত মিষ্টি মেয়েকে কে না পছন্দ করবে। যে দেখবে সেই পছন্দ করবে। আর নিশাতের আম্মার কাছে শুনেছি নিশাত নাকি খুব লক্ষি একটা মেয়ে।
---আলহামদুলিল্লাহ্,,! একটা কাজ করলে কেমন হয়।
---কি কাজ,,
---যদি নিশাতকে ভাইয়ার বউ করে ঘরে আনো তিহলে কেমন হবে।
---তুই ঠিক বলেছিস চৈতী,,। কিন্তু, যদি ফারহান পছন্দ না করে। তুই তো জানিস ফারহান মেয়েদের বেশি পছন্দ করে না।
---তুমি বললে ঠিক রাজি হবে।
---কিন্তু, নিশাত ও নিশাতের ফ্যামিলি যদি রাজি না হয়।
---এসব নিয়ে তোমার চিন্তা করতে হবে না।
---কিন্তু, আমার তো ফারহানকে নিয়ে টেনশন লাগে।
---দূর! এসব চিন্তা কর না। একটা আইডিয়া আছে আমার মাথায়।
---কি আইডিয়া,,
---তোমার কানে কানে বলি,, নাহলে কেউ শুনে ফেললে ভাইয়াকে বলে দিবে।
---বল,,,
---ব্লা,,,ব্লা,,,ব্লা,,,ব্লা,,
---ঠিক বলছিস তুই।
---তুমি খালি দেখে যাও।
---ঠিক আছে। কিন্তু নিশাত কখন আসবে।
---সন্ধ্যার সময় আসার কথা । হয়তো আজ আসবে না।
.
কলিং বেলের শব্দ শুনে মমতা রহমান মনে মনে বলে উঠলো,,
এ সময়ে আবার কে এল,,?
---চৈতী,,,,
---জ্বী আম্মু,,!
---দেখতো মা কে এসেছে,,,।
---আচ্ছা যাচ্ছি,,।
.
চৈতী টিভির রিমুটটা সোফায় রেখে চলে গেলো দরজা খুলতে।

দরজা খুঁলে দেখে নিশাত এসেছে। আহ্ আজ নিশাতকে দেখতে অপ্সরীর মত লাগছে। হলুদ কালারের শাড়ি পড়েছে। চোখে কাজল, চুলগুলি খোঁপা করেছে। তার মাঝে সূর্যমুখী ফুল দিয়েছে। হাতে নিল চুড়ি আরও অনেক কিছু বর্ণনা করতে পারবোনা হিংসে হয় । নিশাত চৈতীকে দেখে মৃধু হেসে দিল।
---ভিতরে এসো,,,
---আংকেল কি বাসায় আছে,,?
---কেনো,,?
---আংকেলকে দেখে খুব ভয় করে।
---হাহাহা,, কিন্তু, আব্বুর সাথে কথা বললে একদম ধারণা পাল্টে যাবে। আচ্ছা চল,,
.
নিশাত রুমের ভেতর চলে আসে। চৈতী দরজা লাগিয়ে মায়ের কাছে বসে পড়ে। নিশাতকে দেখে মমতা রহমান বলে উঠলো,
---মাসঅাল্লাহ্,,! দাড়িয়ে কেনো বস।
.
নিশাত চৈতীর পাশে বসলো।
---তোমাকে দেখতে একদম অপ্সরীর মত লাগছে।
.
কথাটা শুনে নিশাত লজ্জা পেয়ে নিচের দিকে তাকায়।
---আরে লজ্জা পাচ্ছো কেনো মা।
---আম্মু তুমি এখন রুমে যাও আব্বুর কাছে। আমরা কিছু কথা বলবো।
---ঠিক আছে ।
.
মমতা রহমান চলে গেলো।
---নিশাত চশমা কোথায়?
---এই যে হাতে।
---হাতে কেনো। চোখে পড়।
---আমার না লজ্জা করে।
---হাহাহাহা,,
---হাসছো কেনো,,
---তোমার কথা শুনে।
---আমি চশমা পড়তে পছন্দ করি না। কিন্তু, তোমার কথামত তিন ধরে রুমের মধ্যে নিয়ে আয়নার সামনে দাড়িয়ে দেখি কেমন লাগে। আগে ভাবতাম কানা কানা লাগবে। কিন্তু, নাহ ভালো দেখা যায়।
---হাহাহা।
---আচ্ছা আমি কি মিষ্টির মত সেজেগুজেছি ।
---একদম সেরকম।
---আমি না আমার আম্মু সাঁজিয়ে দিছে। আচ্ছা বাদ দাও। তোমার ভাইয়া কি রুমে আছে।
---হুমম।
---আমি যাব।
---হুম।
---লজ্জা করছে। কোন দিন সেজেগুজে কারও সামনে যাই নাই তো তাই।
---দূর। এখন যাবা। আর প্লান মত কাজ না করলে ভালোবাসা ভালোবাসা রয়ে যাবে।
---কালকে যাব।
---দূর! চল তো,,
.
জোর করে নিশাতকে পাঠিয়ে দেয়।
তারপর চৈতী এসে টিভি দেখতে থাকে।
.
নিশাত ঘরে ঢুকে থমকে গেল।
সারা গায়ে চাদর জড়িয়ে ফারহান বসে আছে। রাত নটার মতো বাজে। এই সময় তিনি সাধারণত চাঁদ দেখেন, নয়তো বই পড়েন।

কিন্তু, আজ বই পড়ছে না। তাহলে কি হয়েছে,,?
নিশাতের চোখে চশমা, বিছানায় মোটা একটি ইংরেজি বই–The Psychopathic Mind. দারুণ মজার বই। সে বইয়ের পাতা উল্টাল। ফারহানের দিকে একবারও না তাকিয়ে মনে মনে বলল, ভয় লাগার মত কোন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে বলে তো মনে হচ্ছে না।

ঘুটি ঘুটি পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে নিশাত। মনের ভেতর কেমন জানি মায়া মায়া কাজ করছে। কাঁদছে না তো,,?
নিশাত বলল,
---তোমার কি শরীর খারাপ,, ?
.
নিশাতের কথা শুনে ফারহান চমকে যায়। একটু ঘাড় গুড়িয়ে তাকায় ফারহান। একটু অবাক হয়ে যায়। এতটা ভাবনায় ভেতর ছিল যে,, কন্ঠটা ঠিকমত বুঝতে পারে নাই।
---তুমি,,!
---কেনো,,? অবাক হচ্ছে নাকি,,,।
.
ফারহান বেশি অবাক হয়ে যাচ্ছে নিশাতের দিকে তাকিয়ে। হলুদ শাড়ি, চোখে চশমা। মাথায় সুন্দর করে খোঁপা করেছে। তার মাঝে সূর্যমুখী ফুল গাঁথা। কি অসাধারণ সাঁজগোজ করেছে,,,। তারচেয়ে বেশি সুন্দর লাগছে নিশাতের মুখের অর্ধমুখে এসে পড়েছে চাঁদের আলো ।
---ওমন করে কি তাকিয়ে দেখছো রহান,,।
---কি,, কিছুনা। আর তুমি করে বলছো কেনো,,?
---তুমি তো প্রথম থেকে বলছি,,।
.
ফারহান একটু মনে করার চেষ্টা করলো। তাই তো। তুমি করে বলছে।
---আমি জানি তুমি এখন কি ভাবছো,,।
.
নিশাতের কথাটা কেমন জানি ভেতরের রক্ত তিব্র বেগে বেড়িয়ে আসার প্রতিযোগিতা করছে। কোথাও কাঁটা বা ছুড়ি দিয়ে কেটে দিলে সেখান দিয়ে রক্ত তির ছুটে বের হবে।
---এই মেয়ে তোমাকে কতবার বলছি আমার সামনে আসবা না। আর এই নাম ধরে ডাকতে নিষেধ করেছিনা।
---আমার ইচ্ছা হয়েছে তাই।
---তুমি বেশি বোঝ না।
---তুমি কেনো তুমি করে কথা বলছো,,!
---তুমি আমার ছোট। ছোটদের তুমি করে বলতে হয়। আর আমি তোমার বড়। So, আপনি করে কথা বল।
---আমি তোমাকে ভালোবাসি। আর ভালোবাসার মানুষটাকে কেউ আপনি করে সম্বদন করে।
.
ফারহান বুঝতে পারে নিশাতের সাথে কথায় পারা যাবে না। তাই পাশ কেটে ফারহান চলে যেতে লাগলো।
নিশাত বুঝতে পারে ফারহান আর কিছু বলবে না। আমি কি অতটা অপছন্দ,,? জানি না ফারহান পছন্দ হয় কি,, না,,।
---এই তুমি পালিয়ে যাচ্ছো কেনো।
.
ফারহান একবার তাকিয়ে আবার রুমের ভেতর চলে যায়।
নিশাতও রুমের ভেতর চলে যায়।
---তুমি এতো ভিতু কেনো,,! একটা মেয়ে তোমার সামনে সেজেগুজেছে তা দেখবে। কিন্তু, ভয় পাচ্ছো দেখছি।
---নিশাত আমি ভয় পাই না। আর তুমি রুম থেকে চলে যাও।
---যাব না।
---বেশি বোঝনা।
---বেশি বুঝলে কি করবে শুনি,,,
---কি করবো দেখবা,,,
.
কথাটা বলে ফারহান নিশাতকে দেওয়ালের সাথে লেপ্টে ধরে। চোখটা আগুনের মত ধারণ করেছে। এ কেমন চোখ,,?
---এই তোকে কতবার বলছি আমার সামনে আসবি না। তুই তো শুনছিস না। তোর এমন কিছু করবো যে তুই আমাকে তোর মুখ দেখাতে ঘৃণা করি।
.
আমি খুব ভয় পেয়ে যাই। ফারহান কেমন জানি হয়ে উঠছে। হয়তো তার পিশাচ রুপ ধারণ করছে।
---আমি ইচ্ছে করলে তোর রুপের আগুনে পুরতে পারতাম। কিন্তু, তোদের মত মেয়েদের ঘৃণা করি।
---আপনি শুধু ভাব নিতে পারেন। আর কিছু,,,
.
ফারহান নিশাতের ঠোঁটের উপর আঙ্গুল রাখলে। নিশাতের শরীর কেঁপে উঠে। চোখটা বন্ধ করে। কেমন জানি অনুভূতিপ্রবণ বেড়ে যাচ্ছে। চোখটা খুলতে খুব ভয় পাচ্ছে।
---দেখবি আমি কি করতে পারি,,!
.
ফারহানের কথাটা শুনে আমার হৃদপিন্ড মুখের কাছে আসার জোগাড়! সত্যি কি আমাকে,,, না না সেটা কখনও হতে পারে না। আমি আমার বুকের সাহস নিয়ে বলে উঠলাম,,
---যে ছেলে সব কিছু পেয়ে কিছু করে নাই। সে কি করে আমাকে কি করবে।
.
ফারহান অবাক হয়ে যায় কথাটা শুনে। একথা জানলো কেমনে,,,? নাকি মিষ্টির কিছু হয়,,!
---কি হলো কি ভাবছো। আমি জানলাম কেমন করে। তাই তো।
---এই মেয়ে তুমি জানলা কেমন করে,,?
---অনেক কিছু জানি,,,।
---কিছুই জানো না তুমি।
---রুমের ভেতর কি হয়েছে সেটাও জানি।
.
ফারহান আশ্চর্য হয়ে যায়! এসব কি করে জানলো,,? চৈতী তো বলে নাই,,,। হয়তো বলেছে ।
---চুপ একদম চুপ। আর কোনদিন আমার সামনে আসবা না।
---আসবো।
---বেশি বোঝ না। এর পরিণতি ভালো হবে না।
---ভালোবেসে যদি পাগলামি করতে হয় করবো।
---আমি তোমাকে ঘৃণা করি। I Hate You,,,
---I Love You Rhan,,,
.
ফারহান রেগে গিয়ে হাতটা আরও জোরে চেপে ধরে। নিশাত কষ্ট পাচ্ছে। তবুও কিছু বলছে না। ভালোবাসার জন্য অল্প একটু কষ্ট পেলে মরে যাব না। আমি তোমার এই ধারণা ভুল প্রমাণ করে দেব। সব মেয়ে এক হয় না।
---আর একদিন যদি আমার সামনে আসিস,, তাহলে তোর এমন কিছু করবো সেটা কল্পনাও করতে পারবি না। (দাঁতে দাঁত চেপে)
---যার অন্তরে আল্লাহ্ তায়ালার ভয় আছে। সে কখন এরকম কাজ করতে পারবেনা।
.
চোখটা বড় করে তাকালো ফারহান নিশাতের দিকে।
---নিশাত,,, এই নিশাত,,,
.
ডাকতে ডাকতে চৈতী রুমের ভেতর ঢুকে পরে।
এদিকে ফারহান নিশাতকে ছেড়ে দেয় চৈতীর কন্ঠটা শুনে।
চৈতী এসে নিশাতের কাছ দাঁড়ায়।
---এই নাও তোমার ফোন। তোমার আব্বু ফোন দিচ্ছে বাড়ে বাড়ে।
---ও,,
---এই তুমি কাঁদছো কেনো,,,?
---কিছুনা।
.
কথাটা বলে নিশাত রুম থেকে বের হয়ে যাই।
---নিশাত,,, এই নিশাত দাড়াও,,,
.
নিশাতের পিঁছু পিঁছু চৈতী চলে গেলো।
.
ফারহান জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। ভাবতে থাকে। এসব কি হচ্ছে,,? মেয়েটা আমার পিছু ছাড়ছে না কেনো,,? কি এমন আমার কাছে আছে যে, আমাকে ভালোবাসতে চাই। সে তো আমার সম্পর্কে জানে না। আর আমার ভালোবাসা নামে জিনিসটা মরে গেছে।
---ভাইয়া নিশাতকে কিছু বলেছিস,,,?
চৈতীর কথায় পিছনে ফিরে তাকায় ফারহান।
---কিছু হয়েছে,,?
---নিশাতকে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলো যে।
---আ,,আমি কিছু করি নাই চৈতী বিশ্বাস কর।
---তাহলে যে,,,আচ্ছা বলতো নিশাতকে তুই ভালোবাসিস,,? মিথ্যে বলবি না।
---না,, আমি কাউকে ভালোবাসি না আর বাসবো না।
---নিশাত কি তোকে ভালোবাসে,,
---জানি না,,, আর ও আমার সম্পর্কে কিছু না জেনে আমার সাথে এমন করছে কেনো বলতো।
---হয়তো অনেক ভালোবাসে তাই,,,
---কি বললি তুই,,,
---কিছুনা,,,
---এখন আমাকে একা থাকতে দে তো প্লিজ,,,
---ওকে,,, গুড নাইট,,,
.
চৈতী চলে গেলো।
ফারহান ড্রয়ার খুলে দেখে যে ঘুমের ঔষুধ ২ টা আছে।

জগ থেকে এক গ্লাস পানি ঢেলে ঔষুধ খেয়ে নিল। তারপরে খাটের উপর শুয়ে পড়ে।
মেয়েটা এমন করছে কেনো,,? বারবার এমন পরিস্থিতি হচ্ছে তবুও আমার পিছু ছাড়ছে না। কিছুক্ষণ এলোমেলো চিন্তা করলো ফারহান,,,

একটু পর ঔষুধ খাওয়ার কারণে চোখটা লেপ্টে আসছে। চোখের পাতা বার বার লাগছে। তাকিয়ে থাকতে পারছেনা । ঘুমেরর কারণে চোখটা কেমন করছে। ফারহান ঘুুমিয়ে পড়ে।
.
.
.
চলবে,,,

No comments:

Post a Comment