Showing posts with label বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম. Show all posts
Showing posts with label বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম. Show all posts

Wednesday, August 21, 2019

বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (৩য় পর্ব)

---ঠাসসসসস,,,,
"নিশাত অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। প্রতিদিন এইভাবে থাপ্পড় দিতে কি ছেলেটা আমার সামনে আসে? আর কিছু না কিছু অঘটন ঘোটে যায়। আর ওমনি ঠাসসসসস করে গালের মধ্যে লাগিয়ে দেয়।
চোখের মাঝে অশ্রু টলমল করছে। সংকেত ছাড়া অবিরামভাবে বৃষ্টি ঝরতে থাকবে।
ফারহান তারপর বলে উঠলো,
---এই মেয়ে তোমার কি মনে হয়? আমি বখাটে। তোমার ওড়না আমি টান দিয়েছি। আমি তো বাইক চালাচ্ছি কেমনে টান দেব। তোর ওড়না আমার মুখের উপর এসে পড়ে। তখন হাত দিয়ে ছাড়াতে বাইক ব্রেক করাতে আধটু টান লেগে যায়। আর তুই মনে করেছিস আমি। শোন তোদের মত মেয়েদের আমার ভালো করে চেনা আছে...
.

ফারহান কথাগুলি বলে থেমে যায়।
নিশাত মাথা নিঁচু করে নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
ফারহান হাত চোখ মুঁছতেছে।
তারপর আবার বলতে শুরু করলো ফারহান,
---আমি অন্যান্য দশ পাঁচটা ছেলের মতো না । আমার মা-বাবা আমাকে মেয়েদের সম্মান দিতে শিখিয়াছে। কিভাবে তাদের সম্মান দিতে হয়। এটা শুনে রাখিস, তোদের মত মেয়েদের আমি ঘৃণা করি। তোদের ওড়না তো দূরের কথা। তোদের ছায়াকে ঘৃণা করি। বুঝলি কিছু।
.
কথাগুলি বলে ফারহান আবার বাইকে উঠে পড়লো। তারপর মনে মনে ভাবতে থাকে "একটু বেশি বেশি হয়ে গেলো না। মেয়েটাতো কিছু করে নাই! এই কথাটার জন্য চড় না মারলে হতো। তাহলে কেনো তাকে এভাবে প্রতিদিন চড় মারছিস। যারা তোর সাথে এমন করেছে তাদের ঘৃণা কর। অযথা অন্য মেয়েটাকে কেনো মারতে গেলাম।
মেরেছি ভালো করেছি। সেও একদিন কারও না কারও সাথে অভিনয় করবে। ওদের এরকম শিক্ষা দেওয়া উচিত।
কথাগুলি মনে মনে বলে একবার ফারহান নিশাতের দিকে তাকিয়ে বাইক স্টার্ট দিয়ে চলে গেলো তার গন্তব্যপথে।
.
এদিকে নিশাত কতবার ওড়না দিয়ে চোখ মুঁছেছে তার কোন হিসাব নেই।
মনে মনে নিজের উপর রাগ হচ্ছে। কেনো বলতে গেলাম কথাগুলি।
আর ছেলেটার কিসের এতো তেজ? কিসের এতো অহংকার? কিসের এতো মেয়েদের প্রতি ঘৃণা? এসব জেনে কি হবে!
আমি আর কখন তার সাথে কথা বলবো না। কোন অপরাধ করলে বলবো না। এভাবে প্রতিদিন পাব্লিক প্লেসে অপমান একদম সহ্য না।
চোখটা মুঁছে ফোন বের করে নিশাত। কি মনে করে ফোনটা ব্যাগের মধ্যে রেখে দেয়।
ওড়না দিয়ে চোখ মুঁছে একটা রিক্সাওয়ালা যেতে দেখে নিশাত ডাক দিল।
রিক্সায় উঠে রিক্সাওয়ালাকে যেতে বলতে রিক্সাওয়ালা যেতে লাগলো।
.
সন্ধ্যার দিকে শপিং করে এসে খুব ক্লান্ত। আজ অনেক হেঁটেছে। পুরো শপিংমল ঘুরেছে।
তাই ফ্যানটা ছেড়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে। মাথায় সারাক্ষণ এই একটা কথা ঘুরপাক
খাচ্ছে। তোদের মত মেয়েদের আমি ঘৃণা করি। তোদের ওড়না তো দূরের কথা তোদের ছায়াকে ঘৃণা করি।
ও আর হ্যা! ছেলেটা কোন বাসায় থাকে? আর আমার সাথে সব সময় দেখা হয়? নাকি এই বাড়িওয়ালার ছেলে। শুনেছি বাড়িওয়ালার ছেলে খুব ভালো, ভদ্র, বাড়িওয়ালা বলেছেন । সে হতে পারে না। কিন্তু, সে কে? নাকি উপরের ফ্লাটের ভাড়া নিয়েছে? নাহ্! উপরের ফ্লাটে তো এক আন্টি থাকে। তার ছোট ২টা বাঁচ্চা। তাহলে, ছেলেটার কিছু হয় কি বাড়িওয়ালা? হুমম হতে পারে। মামা, চাচা, খালু! যাই হোক। আর কখন তার সাথে কথা বলবোনা। সে অপরাধ করলে কিছুই বলবো না। কিন্তু, আমি যে সহ্য করতে পারি না। না, না আমাকে পাড়তে হবে। যে করে হোক।
বিছানা থেকে নিশাত ওয়াশরুমে চলে গেলো!
.
রাতে খেয়ে আর পড়তে বসলাম না।
বিছানায় গা এলিয়ে জহির রায়হানের উপন্যাস পড়তে লাগলাম।
.
এদিকে ফারহান খাটের সাথে গা এলিয়ে হাতে বই নিয়ে বসে আছে।
রাতে খাবার খেতে মা-বাবার ও ছোট বোন ডেকে যায়। কিন্তু, আজ খেতে মন চাচ্ছে না, বলে দেয় কথাটা ফারহান । মা-বাবা আর কিছু না বলে রুম থেকে চলে যায়।
আজ একটা পৃষ্টারও পড়তে পারে নাই ফারহান । ভেবেছিল নিমাই ভট্টাচার্য স্যারের #মেমসাহেব উপন্যাসটা পড়ে শেষ করবে আজ। কিন্তু, মেয়েটার জন্য কিছুই হলো না। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার সময়। একটু ভালো লাগে নি। চলে আসে সেখান থেকে। বন্ধুরা জিজ্ঞেস করাতে বলেছিল "ভালো লাগছে নারে। কাল দেখা হবে।
কথাটা বলে সেই যে বাসায় এসে শুয়ে আছি। একটুও উঠি নাই।
.
মেয়েটার ওড়না কি আমি টান দিয়েছি? নাহ্ তো। মুখের উপর পড়াতে তখন হয়তো হাত দিয়ে সরাতে টান লেগে যেতে পারে। তাই বলে ঠাসসসসস করে চড় দেওয়াটা ঠিক হয় নাই। আর সব মেয়ে তো এক হয় না। আমার ভুল হয়েছে। কিন্তু, মেয়েটার চেহারাটা তিথির মত।
তাহলে কি এই মেয়েটাই কি সে, যার জন্য অপমান হয়েছি?
বাট, সেদিন যে সায়েম বললো। না, না এটা হতে পারে না। আর হ্যাঁ, মেয়েটা যদি সত্যি তিথি হতো, তাহলে আমাকে চিনতে পাড়তো। আমার মাথাটা ঝিম, ঝিম করছে।
কিন্তু, সায়েমের কথায় ঠিক। মেয়েটা তিথি না।
কাল মেয়েটাকে খুঁজে ক্ষমা চেয়ে নিব।
কখন থেকে মনে মনে একা একা বকবক করে যাচ্ছে ফারহান। চৈতীর কথায় সব উল্টাপাল্টা বকবক মাথা থেকে পালিয়ে যায়,
---ভাইয়া,,, আমি কি ভেতরে আসবো?
---আচ্ছা আয়!
.
চৈতী এসে বিছানায় বসে পড়ে ফারহানের পাশে।
---কিছু বলবি?
---হুমম।
---নিশাতকে তুই চিনিস?
---কোন নিশাত? আর নিশাত কে?
---সেদিন সকালে যে বললি মেয়েটার কথা, সে আমাদের নতুন ভাড়াটিয়া। আমাদের ভার্সিটিতে পড়ে অন্য ডিপার্টমেন্টে ।
---কোন মেয়ে?
---যাকে কলেজে চড় মেরেছিস।
---কি বলিস তুই। আমাদের নতুন ভাড়াটিয়া। আর তোদের সাথে পড়ে। (আশ্চর্য হয়ে)
---হুমম।
---কেমনে জানতে পারলি? তুই তো অনেক দূরে ছিলি।
---আমার এক বান্ধুবী দেখেছে। তোদের পিছনের পাম্পগাছে ওর বয়ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলছিল। তোর কথা শুনে তাকিয়ে দেখে তুই । তারপর তুই চড় মেরেছিস। সে অবাক হয়ে যাই। পরে আমাকে বললো।
"
ফারহান কথাটা শুনে অবাক হয়ে যায়। তারপর বলে উঠলো,
---আচ্ছা ওই ভাড়াটিয়া ৩ তালায় থাকে নাকি ৪ তালায়?
---৩ তালার ভাড়াটিয়া। তুই তো নানুবাড়ি ছিলি সেই জন্য কিছু জানিস না। ওরা নতুন এসেছে।
.
যাক আর খুঁজতে হবেনা।
---থ্যাংক ইউ মাই সুইট আপ্পি,,,,
---কেনো রে ভাইয়া ?
---আমার ভুল হয়েছে। আমি মনে করেছিলাম মেয়েটা তিথি...
"কথাটা বলে জিব্হা কামড় দিলাম।
---তিথি,,, কোন তিথি রে ভাইয়া? যে মেয়েটার জন্য অপমান হতে হয়েছে।
---হুমম। তুই তো তিথিকে দেখিস নাই। ওই মেয়েটার চেহারা আর তিথির চেহারা একদম সেম। আবার সায়েম বললো যে তিথি ফিরে এসেছে। তাই আমি তিথি ভেবে প্রতিদিন একটা কিছু অঘটন নিয়ে চড় দিয়েছি। কিন্তু, আমি মনে করেছি তিথি হয়তো স্যরি বলার জন্য ঘ্যাণ, ঘ্যাণ করছে।
---হোয়াট,,! কি বলিস এসব। আমাকে আগে বলবিনা।
---আজকেউ চড় দিয়েছি বিকালে।
---আজকেউ,,, বেঁচারী এই সপ্তাহে ভার্সিটিতে যাই নাই।
---এখন বুঝতেছিনা কি করে ক্ষমা চাইবো।
---মেয়েটা খুব ভালো। তুই সামনা সামনি গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিস।
---ঠিক আছে,,,
---আচ্ছা রাজবন্দী জবান বন্দী বইটা কিনে এনেছিস।
--নারে কাল এনে দিব।
---তাহলে আমি গেলাম।
"চৈতী রুম থেকে চলে গেলো।
মনে মনে ফারহান ঠিক করে নিল কাল ওদের ফ্লাটে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিবে।
.
পরেরদিন সকালে মর্নিং ওয়াল্ক (Morning Walk) বের হয়ে পার্কে বসে আছি।
বসে হাঁপাচ্ছি। অনেক দৌড়ে হয়রান। ঘাড় ঘুরিয়ে সামনে তাকাতে দেখি মেয়েটা (নিশাত) পার্কে এসেছে মর্নিং ওয়াল্কে।
এখন ক্ষমা চেয়ে নেই। বসা থেকে উঠে দাঁড়ালাম।
মেয়েটার কাছে চলে গেলাম।
---গুড মর্নিং!
"আমার কথাটা শুনে মেয়েটা আমার দিকে তাকালো। আমাকে দেখে মেয়েটা চমকে উঠে।
.
নিশাত মনে মনে বলে --" এই ছেলে এখানে কি করে? আমাকে ফলো করে নাকি সারাক্ষণ? যাই হোক আজ কিছু বলবো না। এখানে অনেক মানুষ। মাথা গরম হলে কি থেকে কি বলবো তার ঠিক নেই।
.
ফারহান মনে মনে বলে ---" আজ কিছু করবো না। মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে।
---আপনার সাথে কিছু কথা আছে!
"
নিশাত পাশ কাঁটিয়ে যেতে লাগলো। তখন ফারহান আবার বলতে লাগলো,
---আপনাকে কিছু বলছি আমি।
---আমার কোন কথা নেই।
.
নিশাত কথাটা বলে যেতে লাগলো। তখন ফারহান নিশাতের হাত ধরে ফেলে,,
---আমার হাঁত ছেড়ে দিন। এখানে সবাই দেখছে প্লিজ ছেড়ে দিন।
---আমার কথাটা শুনে যাও একবার।
---হাত ছেড়ে দিন বলছি। (রেগে)
---আমার কথাটা শুনে যাও।
---আপনার আর কি কথা শুনবো। স্যরি বলবেন তাই তো। আপনার মত ছেলেদের আমার ভালো করে চেনা।
---আপনি রাগাবেন না আমাকে।
---রাগালে কি করবি তুই,,, মারবি মার। তোরা তো বখাটে। তোরা তো এটাই পারিস। রাস্তা, ঘাটে মেয়েদের টিচ করিস। আবার সেদিন তো বড় বড় কথা বলেছিলি। আমাকে আমার মা-বাবা মেয়েদের কিভাবে সম্মান দিতে হয় সেটা শিখিয়েছে ! এই পাব্লিক প্লেসের সামনে একটা মেয়ের হাত ধরে টানাটানি করছিস। এই তোদের শিক্ষা ছিঃ, ছিঃ তোর মা-বাবা,,,
কথাটা শেষ না হতে ফারহান ঠাসসসসস করে নিশাতের গালে মেরে দিল চড়,,,
---ঠাসসসসস,,,,
.
.
.
.
চলবে,,,,

বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (২য় পর্ব)

---ঠাসসসসস,,,,
"আমি গালে হাত দিয়ে নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। আজকেউ আমাকে ঠাস করে থাপ্পড় লাগিয়ে দিল।
ছেলেটা চোখটা বড় বড় করে বললো,
---ভদ্রতা বোঝায় রাখবেন Next Time....
"আমি তার দিকে তাকালাম অশ্রু জোড়া চোখ নিয়ে। ছেলেটার চোখে অশ্রু জমে গেছে। তারপর বলে উঠলো,
---নিজেকে কি ভাবো? খুব বড় কিছু। নাকি কোন বড় রাজকন্যা ? নিজের দিকে একবার কখন আয়নায় তাকিয়ে দেখেছো! মনে হয় নিজেকে খুব বড় কিছু ভেবে আছো।

.
কথাগুলি বলে থেমে গেলো। আমি মাথা নিঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি অশ্রু জোড়া চোখ নিয়ে।
তারপর আবার বলতে থাকলো,
---একবার নিজেকে ভেবে দেখবা তারপর নিজেকে সবার সামনে অপস্থাপন করবে।....ও আর হ্যা একটা কথা, আমি বই পড়ছিলাম তাই কথা বলি নাই। আমি কখন ভাব নেই না। কিন্তু, আমি সবার থেকে অন্যরকম। বই পড়ার সময় কেউ ডিস্টার্ব করলে তার পরিরক্ষিত এরকম কিছু একটা হয়। শুধু, আমার ফ্যামিলি ব্যতিত।
.
কথাটা বলে ছেলেটা ফোন বের করে কাকে ফোন দিল। তার পর কোন দিকে চলে গোলো সেটা খেয়াল নেই। কি বললো কিছুই জানি না। আমি কিভাবে এখানে দাঁড়িয়ে আছি সেটা "আল্লাহ্ ছাড়া কেউ জানে না। চোখ দিয়ে অশ্রু ঝড়ছে না। কিন্তু ভেতরে বৃষ্টির মত অশ্রু ঝড়ছে।
একটু পর টুম্পা আমাকে বললো,
---ওই দেখ চৈতী ছেলেটার বাইকে করে যাচ্ছে।
---কে যাবে না যাবে আমার দেখার টাইম নাই। (কাঁন্না কন্ঠে+জোরে)
---আরে দোস্ত মন খারাপ করিস না।
.
আমি আর একটু দেড়ি না করে দৌড় দিয়ে বের হয়ে এলাম ক্যাম্পাস থেকে। ততক্ষণে চোখের পানিটা গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়েছে।
টুম্পা কয়েকবার ডাক দিয়ে ছিল। আমি সারা না দিয়ে দৌড়ে চলে এলাম।
এক দৌড়ে ম্যাইন রোডে চলে এলাম।
---এই মামা যাবা...
---হ আপা যামু ।
.
আমি রিক্সায় উঠে বসলাম। রিক্সাওয়ালা মামা চলতে শুরু করলো।
.
এদিকে টুম্পা আর শান্তা কথা বলছে,,
---নিশাত দৌড়ে বের হয়ে গেলো কেনো কাঁদতে কাঁদতে? কিছু হয়েছে? (শান্তা)
---হুমমম। আজকেউ ছেলেটা থাপ্পড় দিয়েছে নিশাতকে।
---আমি জানতাম এই ছেলেটা থাপ্পড় দিবে। ছেলেটা ভদ্র কিন্তু অতিরিক্ত কথাবার্তা পছন্দ করে না। একদম শান্ত। আর এমনিতে নিশাত একটুও ভাব পছন্দ করে করে না। হয়তো কিছু বলেছে রাগে আর ওমনি।
---আগে বললা না কেনো তুমি!
---আমার ভুল হয়েছে....আর শোন তুমি কি এখন বাসায় যাবে?
---হ্যা,,, নিশাতের ফোন রেগে ফেলেগেছে সেটা দিয়ে বাসায় যাব।
---ও তাহলে যাও। আমার একটা জরুরি কাজ আছে।
---আচ্ছা তাহলে যাও,,,,ফোনে কথা হবে।
---ওকে বাই,,,
.
টুম্পা আর শান্তা দুজনে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে টুম্পা নিশাতের বাসার দিকে চলে গেলো। শান্তা চলে গেলো তার জরুরি কাজে।
.
রাত,,
চৈতী আর ফারহান ড্রয়িংরুমে বসে আছে। দুজন দুই কাজে ব্যস্ত। চৈতী ফোন নিয়ে আর ফারহান বই নিয়ে।
---ভাইয়া,,,
"
চৈতীর কথাটা শুনে ফারহান চৈতীর দিকে তাকাল।
---কিছু বলবি,,,!
---হুমম,,,
---বল,,,
---আগে বল ভাইয়া রাগ করবি নাতো,,,,!
---চৈতী রাগ করার মতো কিছু বললে তো রাগ করবো।
---তাহলে থাক বলবো না।
---আচ্ছা বল,,,
---প্রমিস,,,
---ওকে প্রমিস,,,
---তুই মেয়েটাকে চড় মারলি কেনো?
"চৈতীর কথাটা শুনে ফারহান অবাক হয়। মনে মনে বলে উঠলো "চৈতী কি দেখে ফেলেছে?
---আচ্ছা তুই কি দেখেছিস,,,?
---হুমম দূর থেকে দেখলাম। কিন্তু, কেনো?
---তুই তো জানিস আমার কাজে কেউ বিরক্ত করলে আমার মাথায় রক্ত উঠে যাই। আর তুই তো ভালো করে জানিস। আমি মিথ্যে কথা পছন্দ করি না একদম।
---হুমম তা বুঝলাম। কিন্তু, তুই তো এইটুকুতে রেগে যাওয়ার ছেলে না। হ্যা, আমি জানি তুই #বই_পাগল কিন্তু পাবলিস প্লেসে এরকম রিয়েক্ট করিস না। আমার কেমন জানি ডাউট হচ্ছে।
---তোর আবার কি ডাউট মনে হচ্ছে? (ভ্রুঁটা উঁচু করে)
---তুই কি মেয়েটাকে আগে থেকে চিনতিস!
---বাদ দে তো এসব কথা। ফোনে যা করছিস তাই কর।
---ভাইয়া বল না। নাকি তুই মেয়েটাকে পছন্দ করিস? নাকি মেয়েটা তোকে?
---তোর প্রশ্ন একটাও সঠিক না।
---কিছু একটা তো আছে এর ভেতর। বল না প্লিজ ভাইয়া,,,,
---কাল বলবো ,,,,
---এখন,,,
---বলছি না কাল,,,
---ঠিক আছে। বই পড় তাহলে,,,
.
ফোনটা নিয়ে চৈতী রুমে চলে গেলো। ফারহান বই পড়তে গিয়ে ফোন বেজে উঠলো,
---হ্যালো,,,
---দোস্ত কেমন আছিস?
---অালহামদুলিল্লাহ্ ভালো,,, তুই,,?
---অালহামদুলিল্লাহ্ ভালো,,,। আমাদের তো ভুলে গেলি।
---আরে দোস্ত ভুলি নাই কাউকে ।
---বাসায় এসেছিস ২ দিন হয়ে গেছে। কিন্তু, আমাদের সাথে দেখা করিস নাই।
---আরে দোস্ত বলিস না। ছোট বোনটাকে কলেজ থেকে নিয়ে আসি আবার কলেজে রেখে আসি। এই তো কাজ। বাবাকে তো চিনিস। যা বলে তা না করলে কি হবে বুঝতে পারতেছিস।
---হ্যা দোস্ত। কিন্তু, আংকেল কিন্তু হেব্বি একটা জিনিস। কাল মামার দোকানে চলে আয়। আড্ডা হবে।
---ঠিক আছে।
---বাই,,,
,
ফোনটা রেখে দিলো সায়েম। আমার ছোটবেলার বন্ধু। সেই হাই স্কুল থেকে ভার্সিটি পর্যন্ত এক সাথে পড়াশোনা করেছি। যাক এসব কথা। এখন খেতে যেতে হবে।
ফারহান বই রেখে গেলো।
.
এদিকে নিশাত ঘুুমিয়ে গেছে। মা কখন থেকে টেবিলে বসে ডাকছে ভাত খাওয়ার জন্য। কিন্তু, কোন শব্দ পেলো না। তাই আমজাদ সাহেব বলে উঠলো,
---এই তুমি নিশাতের রুমে গিয়ে দেখ তো। কি হয়েছে নিশাতের।
---আচ্ছা তুমি বসে খাও। আমি ডেকে নিয়ে আসছি।
.
"নিশাতের মা নিশাতের রুমে চলে গেলো। রুমের ভেতর গিয়ে দেখে যে নিশাত ঘুুমিয়ে আছে। মুখের উপর ওড়না দিয়ে ডেকেগেছে। মাজেদা বেগম গিয়ে মেয়ের মুখের উপর ওড়না সরিয়ে অবাক হয়ে যায়। দেখে যে গালে ৫ আঙ্গুলের ছাপ। ফর্সা গালে একদম স্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছে ।
---নিশাত,,, এই নিশাত। (ধাক্কা দিয়ে)
.
নিশাত ঘুম থেকে জেগে উঠে তাড়াতাড়ি করে মুখ ডেকে নিল।
---কি হয়েছে মা।
---তোর গালে কে চড় মেরেছে?
---ক,,কই,,,
---তাহলে ওড়নাটা দিয়ে গাল ডেকে রাখলি কেনো?
"নিশাত মাথা নিঁচু করে মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলো।
---আরে কি হয়েছে বল আমাকে।
---কিছুনা আম্মু।
---তাহলে কাঁদছিস কেনো?
---আপুর কথা মনে পড়ছে খুব।
---মিথ্যে বলছিস।
---সত্যি বলছি আম্মু।
---কিন্তু গালে ওরকম হয়েছে কেমন করে। আর তোর গায়ে জ্বর এসেছে।
---টুম্পা তিথিকে মারতে গিয়ে আমার গালে বসিয়ে দিছে। ও কিছু না আম্মু।
---কিছু লুকাচ্ছিস না তো।
---না আম্মু,,,
---সেই জন্য আজ রুমের মধ্যে আছিস সারাদিন । মেডিসিন লাগিয়েছিস কোন।
---না আম্মু।
---তাহলে আমার ড্রয়ারের ভেতর আছে খেয়ে লাগিয়ে নিস।
---আম্মু আব্বু,,,,
---ঠিক আছে এক্সট্রা নাপা আর ক্রিম দিয়ে যাচ্ছি। তুই এখানে থাক।
---আমার সুইট আম্মু।
---আমার লক্ষি মা,,,আমি যাব আর আসব।
---ওকে আম্মু।
.
মাজেদা বেগম রুম থেকে বের হয়ে আসতে আমজাদ সাহেব বলে উঠলো,
---নিশাতের পড়া হয় নাই এখন।
---তুমি খাও । মেয়েটার শরীর ভালো লাগছেনা। আমি ওর রুমে গিয়ে ভাত খায়ে দিচ্ছি।
---কি হয়েছে?
---নিশাতের জ্বর এসেছে।
---আচ্ছা আমি দেখে আসছি।
---তোমার যেতে হবে না। তুমি খাও। আমি দেখছি।
---আমার ড্রয়ারে মেডিসিন আছে খাওয়ায়ে দাও।
---ঠিক আছে,,,আমি ঔষুধ নিয়ে আসছি। তুমি কষ্ট করে সব নিয়ে খাও।
---আচ্ছা আমি খাচ্ছি। তুমি আগে মেয়েটাকে মেডিসিন খাওয়ায়ে আসো।
.
মাজেদা বেগম চলে গেলো রুমের ভেতর।
এদিকে নিশাত বিছানা থেকে উঠে ড্রেসিংটেবিলের কাছে গিয়ে গাল দেখে কতটুক ফুঁলে গেছে। মনে মনে বললো, কেনো যে বলতে গেলাম এগিয়ে কথা বলার জন্য। নাহলে এমন করে আম্মুকে মিথ্যে বলতে হতো না। আর এমন কেনো, ছেলেটা এইটুকুতে রেগে যায় কেনো? নাকি মেয়েদের এভয়েড (Avoid) করে চলে? কিছু একটা রহস্য আছে। কিছু প্রশ্ন মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে।
মাজেদার বেগমের (নিশাতের মা) কথা শুনে সব প্রশ্ন পালিয়ে যায় মাথা থেকে।
---কি রে মা আয়নার সামনে বসে কি ভাবছিস গালে হাত দিয়ে।
"নিশাত পিছন ফিরে তাকিয়ে বলে,
---কিছুনা আম্মু।
---ও,,,আয় ভাত খেয়ে, ঔষুধ খেয়ে মেডিসিন লাগা।
,
মাজেদা বেগম মেয়েকে খায়ে দিচ্ছে।
অর্ধভাগ খাওয়া শেষ। নিশাত বেশম খেলো,, উঁহুম,, উঁহুম,,,
---এই নি পানি খা।
,নিশাত পানি খেয়ে মাকে বললো,
---মা আমি কি দেখতে খারাপ!
"মেয়ের ওমন কথা শুনে মাজেদা বেগম খুব অবাক হয়ে যায়।
---কে বলেছে তুই দেখতে খারাপ?
---আগে বলো আমি দেখতে খারাপ কিনা।
---না একদম না। আমার মেয়ে একটা পরী। একদম পরীর মতো সুন্দর।
---মিথ্যে বলছো নাতো।
---আরে মিথ্যে বলবো কেনো। যেটা সত্য সেটাই বলেছি। একদম পরীর মতো অসম্ভব সুন্দরী।
---Thank You Ammu.....
---পাগল একটা।
---না না পাগল না। পাগলি আমি।
"হাহাহাহা করে হেসে উঠে মাজেদা বেগম। সাথেও নিশাতও হেসে উঠে।
.
খাওয়া শেষ করে জ্বরের ঔষুধ খাওয়ায়ে গালে মেডিসিন লাগিয়ে দিয়ে মাজেদা বেগম মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে দেয় ।
কিছুক্ষণের মধ্যে আবার নিশাত ঘুমিয়ে যায়।
.
পরেরদিন আর কলেজে যায় না। এখনও গালে স্পষ্ট দাগ দেখা যাচ্ছে।
তাই কলেজে যায় না। বাবাকে এড়িয়ে যায়। কিন্তু রাতে খেতে বসে দেখে ফেলে। মাজেদা বেগম সেটা ম্যানেজ করে নেয়। পরে রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ে।
এভাবে ২দিন কেটে যায়।
.
৩য় দিন ,
বিকালে বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আছে রিক্সার জন্য। শপিং করতে যাবে নিশাত।
কিন্তু, রিক্সার কোন দেখা পাচ্ছেনা। তখন ফোনটা বেজে উঠলো। ফোন বের করে দেখে টুম্পা ফোন দিয়েছে।
---হ্যালো,,,
---কোথায় রে তুই ,,?
---বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। কোন রিক্সা নাই রে দোস্ত।
---প্লিজ তাড়াতাড়ি আয় দোস্ত,,,
---ও,,,,
"কথাটা শেষ না হতে নিশাতের ওড়নাটা ধরে কেউ টান দিয়েছে ভেবে পিছন ঘুরে দেখে ছেলেটার (ফারহান) হাতের ভেতর ওড়না।
নিশাতের রেগে যায়। তখন বলে উঠে,,,
---অসভ্য কোথাকার। তোর ঘরে কি মা বোন নেই। রাস্তায় এমন করে মেয়েদের ওড়না ধরে টান দিস। তোরা কি খালি মেয়েদের ডিস্টার্ব করিস। ইডিয়েট!
"কথাটা শুনে ফারহান বাইক স্টার্ট করে । নিশাত মনে করে স্যরি বলার জন্য স্টার্ট করেছে বাইক। ফারহান এসে নিশাতকে ঠাসসসসস করে গালে লাগিয়ে দিল,,,,
.
.
.
.
চলবে,,,,

বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (১ম পর্ব)

রাস্তা দিয়ে হাটতেছি এমন সময় বাংলা মুভির মতো ধাক্কা খাইলাম। রাস্তায় পড়ে গিয়ে বাইকের দিকে তাকাইয়া দেখি ছেলে নাহ যেন আগুন। 

এই ছেলে আমার ভাবনার জগতকে এক Accident করে ভেঙ্গে দিলো। বাইকটা রেখে আমার কাছে চলে এলো। আমি ততক্ষণে উঠে পড়লাম। আহ্ একটু ব্যথা লেগেছে পা-এ।
---এই সমস্যা কি তোর? চোখ কি আক্কাশে রেখে গাড়ি চালাস! (নিশাত- রেগে )
---জি আন্টি কোনো সমস্যা নাই।আমার হর্ণ নষ্ট হয়েগেছে। তাই হর্ণ দিতে পারি নাই আন্টি। (ছেলেটা)
.
"পোলাটার কথাটা শুনে মেজাজটা আরও ১২০০ বোল্ড হয়ে গেলো। কয় কি শালা! আমি নাকি আন্টি হই।
---ঐ আন্টি কে রে? থাপ্রাইয়া কানের পট্রি গড়ম করে ফেলমু।ফাজিল একটা।
---ওমাহরেএএএ এখনকার মেয়েদের আপু ডাকলেও দোষ, আন্টি ডাকলেও দোষ, তাহলে কি বলমু যে ওগো শুনছো........
---কি বললি তুই! তোর তো সাহস কম না। আমাকে ওগো শুনছো,,, বলছিস।
---জ্বী,,,
---আবার জ্বী জ্বী বলিস। থাপ্রাইয়া দাঁত ফালাইয়া দিমু। বেয়াদব।
---আস্তে কথা বলুন আর ভদ্র ভাবে কথা বলুন।
---আমার ইচ্ছা জোরে জোরে বলবো। তাতে তোর কি। এক্সিডেন্ট করে আবার বড় গলায় বলে , আস্তে কথা বলুন আবার ভদ্র ভাবে কথা বলতে বলিস।
"
এই কথা বলতে বলতে থাপ্পড় মাইরাই দিল ছেলেটা নিশাতকে । তারপর ছেলেটা বললো,
---রাস্তা ঘাটে চলার সময় চোখ কান খোলা রাইখা হাটবি নাহলে ঠ্যাং ভেঙ্গে ফেলমু। রাস্তার মাঝখানে দিয়ে হাঁটলে এরকম এক - দুইটা এক্সিডেন্ট হবে।
.
আমাকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ও চলে গেলো।
পিছন থেকে টুম্পা আইসা বলল...
---কিরে খুব তো পাকনামি করস কিন্তু এখনতো দেখি থাপ্পড় খাইয়া আলচচ।
---মোশারইপ্পার ভাষায় কথা বলো তাই না?
---আচ্ছা স্যরি। চল কোনো রেস্টুরেন্টে গিয়ে কথা বলি।
---হুম চল।
.
তারপরে ওখান থেকে দুজন একটা রেস্টুরেন্টে যাই।
---কি বলবি বল?
---তোরে একটা ছেলে থাপ্পর মারল কিন্তু তুই কিছুই করলি না।
---শালা এটা পাব্লিক প্লেইস। যদি ছেলেটা কিছু করে বসতো। এখানে কোনো কিছু করলে মান ইজ্জতের একটা ই আছে না।
---তুই কি কস? ও তো ছেলে আমরা পাব্লিক প্লেইসে মার খাইতাম না।
---আর শালাতো হেলমেট পড়া ছিল। কেমনে পাল্টা থাপ্পড় মারমু।
---দুর মনে ছিল না। শালা খচ্চর বেটা। ---পরে দেখে নিমু।
---ঠিক আছে পরে দেখে নিমু। কিন্তু, ছেলেটা এখানকার মনে হচ্ছে।
---হুম নতুন মাল হইলে বুঝাইতাম আমি কি জিনিস।
---তো এটারে কি করবি?
---ওরে একটু অন্যভাবে সাইজ করমু।
---কেমনে?
---ওকে চিনিস?
---না।
---ও কোন জায়গায় পড়ালেখা করে জানিস?
---জানি না। তবে চিন্তা করিস না। শান্তাকে বললে সব ডিটেল্স বের করে দিবে। শান্তা এই এলাকায় সব ছেলেদের চিনে।
---হুমমম শান্তারে দিয়া খোজ লাগা।
---হুমম সেটা হইয়া যাইবো।
.
কিছুক্ষণ নিশাত একা একা ভাবতে থাকে। বেটা খচ্চর ছেলেটারে কিভাবে শায়েস্তা করতে হবে। টুম্পা খেতে খেতে বললো,
---কিরে খাস না কেনো?
---এমনিরে। খেতে মন চাচ্ছে না।
---আরে দোস্ত কোন টেনশন করিস না তো। শালাকে পেয়ে আচ্চা মতো ধোলাই দিমু।
---তা তো দিব। খচ্চর বেটাকে এমন শিক্ষা দিব যাতে কখন মেয়ের সাথে কথা বলতে ভয় করে।
---উচিত শিক্ষা দিতে হবে বেটাকে,,,,,এই তোরা ওই বাসাটা ছেড়ে দিলি কেনো?
---ওই কাল বলবো। আম্মু ফোন দিচ্ছে।
---ঠিক আছে চল।
.
রেস্টুরেন্টের বিল দিয়ে দুজনে বাসার দিকে রওনা দিল।
বাসার কাছাকাছি চলে আসে ১০ মিনিট পর।
---দোস্ত চল আমাদের নতুন বাসায়।
---নারে অন্য একদিন যাব।
---ঠিক আছে,,,,, আল্লাহ হাফেজ।
.
কথাটা বলে রিক্সা থেকে নেমে বাসায় ভেতর চলে যায়।
কলিং বেল বাজিয়ে দরজার কাছে দাড়িয়ে আছি। প্রচন্ড রাগ নিয়ে বার বার বেল বাজাচ্ছি।
একটুপর নিশাতের মা দরজা খুলে দিয়ে বললো,
---কিরে আজ এতো বেল বাজাচ্ছিলি কেনো? কিছু হয়েছে?
"নিশাত মা'এর দিকে চোখটা বড় বড় করে তাকিয়ে রুমের দিকে যেতে লাগলো। নিশাতের মা দরজা বন্ধ করে পিছন থেকে বলে উঠলো।
---কি রে তোর কি হয়েছে? এমন রেগে ফায়ারিং হয়ে আছিস।
---আমার কিচ্ছু হয়নি। (চিৎকার দিয়ে)
"কথাটা বলে নিশাত দরজাটা বিকট আওয়াজ করে দরজা লাগিয়ে দিল। নিশাতের মা মনে মনে বলে উঠলো "কোন ছেলে যে আজ আমার মেয়েটাকে রাগিয়েছে সেটা আল্লাহ তায়ালা ভালো জানে।
.
ফুল স্পিডে সিলিং ফ্যান ছেড়ে দিয়ে নিশাত কাঁন্না করছে। এরকম কোন ছেলে তাকে আজ পর্যন্ত থাপ্পড় দেই নি পাব্লিক প্লেসে। থাপ্পড় তো দূরের কথা তার কথায় প্রতি উত্তর করে নাই কখন কোন ছেলে। আর আজ একটা ছেলে তাকে। কখন সেটা মেনে নেওয়া যাবে না। প্রতিশোধ নিতে হবে। কঠিন প্রতিশোধ।
.
রাত ৯ টার সময় নিশাতের মা ডাকতে এসে দেখে নিশাত পড়ছে। পাশে চেয়ার টেনে এনে বসলো। তখন নিশাত মা'এর দিকে একবার তাকিয়ে পড়তে লাগলো।
একটু পর বললো,
---আম্মু কিছু বলবা?(মন খারাপ করে)
---ভাত খাবি না!
---আজকে আমার ক্ষুধা নেই আম্মু। তোমরা খেয়ে নাও।
---তোর আব্বু ডাকছে ভাত খেতে ।
---বলছি তো আমার ক্ষুধা নেই। (রেগে)
---তোর আব্বুকে গিয়ে বল কথাটা ।
---আমার ভালো লাগছেনা তাই খাব না। তুমি বলে দাও,,,
"কথাটা বলা শেষ না হতে আমজাদ সাহেব (বাবা) বলে উঠলো,
---কি হয়েছে আমার Princes এর?
---কিছু না আব্বু।
---আমি জানি!
"নিশাত চমকে যায় বাবার কথাটা শুনে। আব্বু কি সব দেখেছে! দুর! আব্বু অফিস থেকে কেমনে দেখবে।
---কি জানো আব্বু?
---কোন ছেলে আজ আমার Princes কে রাগিয়েছে। নয়তো প্রোপজ করেছে! তাই না!
---আব্বু! তুমি না। সব সময়।
---হাহাহা। এখন চল তো মা খেয়ে গল্প করবো।
---আব্বু আমার,,,,
---চল চল,,,
"আমজাদ সাহেব মেয়ের বই বন্ধ করে। জোর করে মেয়েকে নিয়ে গেলেন খেতে।
নিশাত প্রচন্ড ভয় পায় আব্বুকে। কিন্তু, আমজাদ সাহেব খুব ভালোবাসে। খুব বললে ভুল হবে। অনেক অনেক ভালোবাসে।
এমনিতে প্রায় বাবারা মেয়েদের বেশি ভালোবাসে।
.
.
পরদিন কলেজে আমি আর টুম্পা গেলাম।
ক্লাস শেষ করে পাম্প গাছের কাছে আড্ডা দিচ্ছি। তখন চোখটা আটকে গেলো। বাইক আর ছেলেটার দিকে। যাহ্ আজকে শালা খচ্চর বেটাকে চরম শিক্ষা দিব।
কিন্তু, শালা খচ্চর বেটা কোন ডিপার্টমেন্টে পড়ে? সিনিয়র নাকি জুনিয়র? যা হলে হোক এতো ভাবা ভাবির টাইম নাই। আগে প্রতিশোধ তারপর যা হবে দেখা যাবে পরে। পরে না হয় ছোট চাচ্চুকে বললে সব দেখে নিবে।
টুম্পাকে বললাম,
---ঐ তোর শান্তারে দেখা যাইতাছে ডাক দে(শান্তা আমাদেরই ক্লাসমেট কিন্তু টুম্পার সাথে রিলেশন হয়ছে ৪ বছরের মতো হয়বো আর এটা আমি নিজেই সব করিয়ে দিছিলাম)
---কিরে কেমন আছিস?(আমি)
---হুমমম ভালো তুই?(শান্তা)
---হুমমম ভালো আর কই,কাল যা ঘটছে বলার মতন নাহহহ। কলেজে নতুন একটা ছেলে আসছে।ওরে কি চিনস?
---ছেলেটা কে?
---ওই গাছ তলায় বই নিয়া বসে আছে যে ঐটা।
---ওহহ এটাতো আমার বড়ভাইয়ের বন্ধু। এখানকার দারোগার ছেলে নাকি। ওর বাবা রিটার্ন পেয়েছে এই বছরে।
---কিহ্! ওর বাবা দারোগা? (টুম্পা )
---হুমমম কিন্তু কেনো? (শান্তা)
---ওর সাথে প্রেম করমু,তুই খালি আমার সাথে একটু তাল মিলাবি।(আমি)
---ওকে কিন্তু,
---কিন্তু কি?
---আমার বড় ভাইয়ের ফ্রেন্ড। ছেলেটা খুব ভালো।
---তাহলে তো ভালো।
---যাহহ ঐখানটা খালি আছে দুইজনে আড্ডা দে।
---তুই কই যাস?
---কোনো এক ফাঁকা জায়গায়।
---আমাদের সাথেই বসবি আই।
---না। দুজনে বেটার।
---টুম্পা তুই কোথায় যাস? (আমি)
---তুই যা। আমি আর শান্তা এইদিকে গিয়ে বসি। (টুম্পা)
---ভয় করে।
---হাহাহা।
"হাহাহা করে শান্তা আর টুম্পা হেসে উঠে।
---হাসছিস কেনো শালারা।
---তুই ভয় খাচ্ছিস। এই প্রথম তোর মুখ থেকে ভয় করে শুনলাম। হাহাহাহাহাহাহ!
---টুম্পা। (চোখটা বড় বড় করে)
---দোস্ত স্যরি। চল।
.
"আমি আর টুম্পা ছেলেটার দিকে যেতে লাগলাম। মনে মনে নানা রকম ফাঁদ তৈরি করতেছি।
---দোস্ত।
---বল।
---ওই ছেলেটা কি কালকের ছেলেটা।
---আরে গাধা দেখ কালকের সেই বাইকটা ।
---ওহ্ তাই তো। চল,,,
.
"আমি টুম্পা ছেলেটার কাছে চলে গেলাম। ছেলেটা একা একা বসে আছে। হাতে একটা বই।
---এক্সকিউজ মি,,,
"ছেলেটা আমার দিকে তাকালো। আবার বই পড়তে শুরু করলো। ছেলেটার মাস-অাল্লাহ চেহারা। একদম হিরো। তাই আবার বললাম,
---হ্যালো,,,!
"ছেলেটা আর তাকালো না। মেজাজটা ১২০০ ভোল্ট হয়ে গেলো। কলেজের অনেক ছেলে আমার সাথে কথা বলার জন্য চাইতো। আমি পাত্তা দেই না। আর খচ্চর বেটার সাথে এগিয়ে এসে কথা বলছি এখন ভাব নিচ্ছে।
---হ্যালো ম্যান,,,
---নিশ্চুপ।
"রাগকে আর কন্ট্রোল করতে পারলাম না। বলে উঠলাম,
---এই ছেলে নিজেকে কি ভাবো হ্যা? খুব ভাব দেখাও হ্যা। কখন থেকে কথা বলছি কোন উত্তর দাও না। নিজেকে কি ভাব হুম...
"কথাটা শেষ না হতে ঠাসসসসস করে গালে লাগিয়ে দিল ছেলেটা,,,,,,
.
.
চলবে....