![]() |
| রাস্তা দিয়ে হাটতেছি এমন সময় বাংলা মুভির মতো ধাক্কা খাইলাম। রাস্তায় পড়ে গিয়ে বাইকের দিকে তাকাইয়া দেখি ছেলে নাহ যেন আগুন। |
এই ছেলে আমার ভাবনার জগতকে এক Accident করে ভেঙ্গে দিলো। বাইকটা রেখে আমার কাছে চলে এলো। আমি ততক্ষণে উঠে পড়লাম। আহ্ একটু ব্যথা লেগেছে পা-এ।
---এই সমস্যা কি তোর? চোখ কি আক্কাশে রেখে গাড়ি চালাস! (নিশাত- রেগে )
---জি আন্টি কোনো সমস্যা নাই।আমার হর্ণ নষ্ট হয়েগেছে। তাই হর্ণ দিতে পারি নাই আন্টি। (ছেলেটা)
.
"পোলাটার কথাটা শুনে মেজাজটা আরও ১২০০ বোল্ড হয়ে গেলো। কয় কি শালা! আমি নাকি আন্টি হই।
---ঐ আন্টি কে রে? থাপ্রাইয়া কানের পট্রি গড়ম করে ফেলমু।ফাজিল একটা।
---ওমাহরেএএএ এখনকার মেয়েদের আপু ডাকলেও দোষ, আন্টি ডাকলেও দোষ, তাহলে কি বলমু যে ওগো শুনছো........
---কি বললি তুই! তোর তো সাহস কম না। আমাকে ওগো শুনছো,,, বলছিস।
---জ্বী,,,
---আবার জ্বী জ্বী বলিস। থাপ্রাইয়া দাঁত ফালাইয়া দিমু। বেয়াদব।
---আস্তে কথা বলুন আর ভদ্র ভাবে কথা বলুন।
---আমার ইচ্ছা জোরে জোরে বলবো। তাতে তোর কি। এক্সিডেন্ট করে আবার বড় গলায় বলে , আস্তে কথা বলুন আবার ভদ্র ভাবে কথা বলতে বলিস।
"
এই কথা বলতে বলতে থাপ্পড় মাইরাই দিল ছেলেটা নিশাতকে । তারপর ছেলেটা বললো,
---রাস্তা ঘাটে চলার সময় চোখ কান খোলা রাইখা হাটবি নাহলে ঠ্যাং ভেঙ্গে ফেলমু। রাস্তার মাঝখানে দিয়ে হাঁটলে এরকম এক - দুইটা এক্সিডেন্ট হবে।
.
আমাকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ও চলে গেলো।
পিছন থেকে টুম্পা আইসা বলল...
---কিরে খুব তো পাকনামি করস কিন্তু এখনতো দেখি থাপ্পড় খাইয়া আলচচ।
---মোশারইপ্পার ভাষায় কথা বলো তাই না?
---আচ্ছা স্যরি। চল কোনো রেস্টুরেন্টে গিয়ে কথা বলি।
---হুম চল।
.
তারপরে ওখান থেকে দুজন একটা রেস্টুরেন্টে যাই।
---কি বলবি বল?
---তোরে একটা ছেলে থাপ্পর মারল কিন্তু তুই কিছুই করলি না।
---শালা এটা পাব্লিক প্লেইস। যদি ছেলেটা কিছু করে বসতো। এখানে কোনো কিছু করলে মান ইজ্জতের একটা ই আছে না।
---তুই কি কস? ও তো ছেলে আমরা পাব্লিক প্লেইসে মার খাইতাম না।
---আর শালাতো হেলমেট পড়া ছিল। কেমনে পাল্টা থাপ্পড় মারমু।
---দুর মনে ছিল না। শালা খচ্চর বেটা। ---পরে দেখে নিমু।
---ঠিক আছে পরে দেখে নিমু। কিন্তু, ছেলেটা এখানকার মনে হচ্ছে।
---হুম নতুন মাল হইলে বুঝাইতাম আমি কি জিনিস।
---তো এটারে কি করবি?
---ওরে একটু অন্যভাবে সাইজ করমু।
---কেমনে?
---ওকে চিনিস?
---না।
---ও কোন জায়গায় পড়ালেখা করে জানিস?
---জানি না। তবে চিন্তা করিস না। শান্তাকে বললে সব ডিটেল্স বের করে দিবে। শান্তা এই এলাকায় সব ছেলেদের চিনে।
---হুমমম শান্তারে দিয়া খোজ লাগা।
---হুমম সেটা হইয়া যাইবো।
.
কিছুক্ষণ নিশাত একা একা ভাবতে থাকে। বেটা খচ্চর ছেলেটারে কিভাবে শায়েস্তা করতে হবে। টুম্পা খেতে খেতে বললো,
---কিরে খাস না কেনো?
---এমনিরে। খেতে মন চাচ্ছে না।
---আরে দোস্ত কোন টেনশন করিস না তো। শালাকে পেয়ে আচ্চা মতো ধোলাই দিমু।
---তা তো দিব। খচ্চর বেটাকে এমন শিক্ষা দিব যাতে কখন মেয়ের সাথে কথা বলতে ভয় করে।
---উচিত শিক্ষা দিতে হবে বেটাকে,,,,,এই তোরা ওই বাসাটা ছেড়ে দিলি কেনো?
---ওই কাল বলবো। আম্মু ফোন দিচ্ছে।
---ঠিক আছে চল।
.
রেস্টুরেন্টের বিল দিয়ে দুজনে বাসার দিকে রওনা দিল।
বাসার কাছাকাছি চলে আসে ১০ মিনিট পর।
---দোস্ত চল আমাদের নতুন বাসায়।
---নারে অন্য একদিন যাব।
---ঠিক আছে,,,,, আল্লাহ হাফেজ।
.
কথাটা বলে রিক্সা থেকে নেমে বাসায় ভেতর চলে যায়।
কলিং বেল বাজিয়ে দরজার কাছে দাড়িয়ে আছি। প্রচন্ড রাগ নিয়ে বার বার বেল বাজাচ্ছি।
একটুপর নিশাতের মা দরজা খুলে দিয়ে বললো,
---কিরে আজ এতো বেল বাজাচ্ছিলি কেনো? কিছু হয়েছে?
"নিশাত মা'এর দিকে চোখটা বড় বড় করে তাকিয়ে রুমের দিকে যেতে লাগলো। নিশাতের মা দরজা বন্ধ করে পিছন থেকে বলে উঠলো।
---কি রে তোর কি হয়েছে? এমন রেগে ফায়ারিং হয়ে আছিস।
---আমার কিচ্ছু হয়নি। (চিৎকার দিয়ে)
"কথাটা বলে নিশাত দরজাটা বিকট আওয়াজ করে দরজা লাগিয়ে দিল। নিশাতের মা মনে মনে বলে উঠলো "কোন ছেলে যে আজ আমার মেয়েটাকে রাগিয়েছে সেটা আল্লাহ তায়ালা ভালো জানে।
.
ফুল স্পিডে সিলিং ফ্যান ছেড়ে দিয়ে নিশাত কাঁন্না করছে। এরকম কোন ছেলে তাকে আজ পর্যন্ত থাপ্পড় দেই নি পাব্লিক প্লেসে। থাপ্পড় তো দূরের কথা তার কথায় প্রতি উত্তর করে নাই কখন কোন ছেলে। আর আজ একটা ছেলে তাকে। কখন সেটা মেনে নেওয়া যাবে না। প্রতিশোধ নিতে হবে। কঠিন প্রতিশোধ।
.
রাত ৯ টার সময় নিশাতের মা ডাকতে এসে দেখে নিশাত পড়ছে। পাশে চেয়ার টেনে এনে বসলো। তখন নিশাত মা'এর দিকে একবার তাকিয়ে পড়তে লাগলো।
একটু পর বললো,
---আম্মু কিছু বলবা?(মন খারাপ করে)
---ভাত খাবি না!
---আজকে আমার ক্ষুধা নেই আম্মু। তোমরা খেয়ে নাও।
---তোর আব্বু ডাকছে ভাত খেতে ।
---বলছি তো আমার ক্ষুধা নেই। (রেগে)
---তোর আব্বুকে গিয়ে বল কথাটা ।
---আমার ভালো লাগছেনা তাই খাব না। তুমি বলে দাও,,,
"কথাটা বলা শেষ না হতে আমজাদ সাহেব (বাবা) বলে উঠলো,
---কি হয়েছে আমার Princes এর?
---কিছু না আব্বু।
---আমি জানি!
"নিশাত চমকে যায় বাবার কথাটা শুনে। আব্বু কি সব দেখেছে! দুর! আব্বু অফিস থেকে কেমনে দেখবে।
---কি জানো আব্বু?
---কোন ছেলে আজ আমার Princes কে রাগিয়েছে। নয়তো প্রোপজ করেছে! তাই না!
---আব্বু! তুমি না। সব সময়।
---হাহাহা। এখন চল তো মা খেয়ে গল্প করবো।
---আব্বু আমার,,,,
---চল চল,,,
"আমজাদ সাহেব মেয়ের বই বন্ধ করে। জোর করে মেয়েকে নিয়ে গেলেন খেতে।
নিশাত প্রচন্ড ভয় পায় আব্বুকে। কিন্তু, আমজাদ সাহেব খুব ভালোবাসে। খুব বললে ভুল হবে। অনেক অনেক ভালোবাসে।
এমনিতে প্রায় বাবারা মেয়েদের বেশি ভালোবাসে।
.
.
পরদিন কলেজে আমি আর টুম্পা গেলাম।
ক্লাস শেষ করে পাম্প গাছের কাছে আড্ডা দিচ্ছি। তখন চোখটা আটকে গেলো। বাইক আর ছেলেটার দিকে। যাহ্ আজকে শালা খচ্চর বেটাকে চরম শিক্ষা দিব।
কিন্তু, শালা খচ্চর বেটা কোন ডিপার্টমেন্টে পড়ে? সিনিয়র নাকি জুনিয়র? যা হলে হোক এতো ভাবা ভাবির টাইম নাই। আগে প্রতিশোধ তারপর যা হবে দেখা যাবে পরে। পরে না হয় ছোট চাচ্চুকে বললে সব দেখে নিবে।
টুম্পাকে বললাম,
---ঐ তোর শান্তারে দেখা যাইতাছে ডাক দে(শান্তা আমাদেরই ক্লাসমেট কিন্তু টুম্পার সাথে রিলেশন হয়ছে ৪ বছরের মতো হয়বো আর এটা আমি নিজেই সব করিয়ে দিছিলাম)
---কিরে কেমন আছিস?(আমি)
---হুমমম ভালো তুই?(শান্তা)
---হুমমম ভালো আর কই,কাল যা ঘটছে বলার মতন নাহহহ। কলেজে নতুন একটা ছেলে আসছে।ওরে কি চিনস?
---ছেলেটা কে?
---ওই গাছ তলায় বই নিয়া বসে আছে যে ঐটা।
---ওহহ এটাতো আমার বড়ভাইয়ের বন্ধু। এখানকার দারোগার ছেলে নাকি। ওর বাবা রিটার্ন পেয়েছে এই বছরে।
---কিহ্! ওর বাবা দারোগা? (টুম্পা )
---হুমমম কিন্তু কেনো? (শান্তা)
---ওর সাথে প্রেম করমু,তুই খালি আমার সাথে একটু তাল মিলাবি।(আমি)
---ওকে কিন্তু,
---কিন্তু কি?
---আমার বড় ভাইয়ের ফ্রেন্ড। ছেলেটা খুব ভালো।
---তাহলে তো ভালো।
---যাহহ ঐখানটা খালি আছে দুইজনে আড্ডা দে।
---তুই কই যাস?
---কোনো এক ফাঁকা জায়গায়।
---আমাদের সাথেই বসবি আই।
---না। দুজনে বেটার।
---টুম্পা তুই কোথায় যাস? (আমি)
---তুই যা। আমি আর শান্তা এইদিকে গিয়ে বসি। (টুম্পা)
---ভয় করে।
---হাহাহা।
"হাহাহা করে শান্তা আর টুম্পা হেসে উঠে।
---হাসছিস কেনো শালারা।
---তুই ভয় খাচ্ছিস। এই প্রথম তোর মুখ থেকে ভয় করে শুনলাম। হাহাহাহাহাহাহ!
---টুম্পা। (চোখটা বড় বড় করে)
---দোস্ত স্যরি। চল।
.
"আমি আর টুম্পা ছেলেটার দিকে যেতে লাগলাম। মনে মনে নানা রকম ফাঁদ তৈরি করতেছি।
---দোস্ত।
---বল।
---ওই ছেলেটা কি কালকের ছেলেটা।
---আরে গাধা দেখ কালকের সেই বাইকটা ।
---ওহ্ তাই তো। চল,,,
.
"আমি টুম্পা ছেলেটার কাছে চলে গেলাম। ছেলেটা একা একা বসে আছে। হাতে একটা বই।
---এক্সকিউজ মি,,,
"ছেলেটা আমার দিকে তাকালো। আবার বই পড়তে শুরু করলো। ছেলেটার মাস-অাল্লাহ চেহারা। একদম হিরো। তাই আবার বললাম,
---হ্যালো,,,!
"ছেলেটা আর তাকালো না। মেজাজটা ১২০০ ভোল্ট হয়ে গেলো। কলেজের অনেক ছেলে আমার সাথে কথা বলার জন্য চাইতো। আমি পাত্তা দেই না। আর খচ্চর বেটার সাথে এগিয়ে এসে কথা বলছি এখন ভাব নিচ্ছে।
---হ্যালো ম্যান,,,
---নিশ্চুপ।
"রাগকে আর কন্ট্রোল করতে পারলাম না। বলে উঠলাম,
---এই ছেলে নিজেকে কি ভাবো হ্যা? খুব ভাব দেখাও হ্যা। কখন থেকে কথা বলছি কোন উত্তর দাও না। নিজেকে কি ভাব হুম...
"কথাটা শেষ না হতে ঠাসসসসস করে গালে লাগিয়ে দিল ছেলেটা,,,,,,
.
.
চলবে....

No comments:
Post a Comment