---ঠাসসসসস,,,,
"আমি গালে হাত দিয়ে নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। আজকেউ আমাকে ঠাস করে থাপ্পড় লাগিয়ে দিল।
ছেলেটা চোখটা বড় বড় করে বললো,
---ভদ্রতা বোঝায় রাখবেন Next Time....
"আমি তার দিকে তাকালাম অশ্রু জোড়া চোখ নিয়ে। ছেলেটার চোখে অশ্রু জমে গেছে। তারপর বলে উঠলো,
---নিজেকে কি ভাবো? খুব বড় কিছু। নাকি কোন বড় রাজকন্যা ? নিজের দিকে একবার কখন আয়নায় তাকিয়ে দেখেছো! মনে হয় নিজেকে খুব বড় কিছু ভেবে আছো।
.
কথাগুলি বলে থেমে গেলো। আমি মাথা নিঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি অশ্রু জোড়া চোখ নিয়ে।
তারপর আবার বলতে থাকলো,
---একবার নিজেকে ভেবে দেখবা তারপর নিজেকে সবার সামনে অপস্থাপন করবে।....ও আর হ্যা একটা কথা, আমি বই পড়ছিলাম তাই কথা বলি নাই। আমি কখন ভাব নেই না। কিন্তু, আমি সবার থেকে অন্যরকম। বই পড়ার সময় কেউ ডিস্টার্ব করলে তার পরিরক্ষিত এরকম কিছু একটা হয়। শুধু, আমার ফ্যামিলি ব্যতিত।
.
কথাটা বলে ছেলেটা ফোন বের করে কাকে ফোন দিল। তার পর কোন দিকে চলে গোলো সেটা খেয়াল নেই। কি বললো কিছুই জানি না। আমি কিভাবে এখানে দাঁড়িয়ে আছি সেটা "আল্লাহ্ ছাড়া কেউ জানে না। চোখ দিয়ে অশ্রু ঝড়ছে না। কিন্তু ভেতরে বৃষ্টির মত অশ্রু ঝড়ছে।
একটু পর টুম্পা আমাকে বললো,
---ওই দেখ চৈতী ছেলেটার বাইকে করে যাচ্ছে।
---কে যাবে না যাবে আমার দেখার টাইম নাই। (কাঁন্না কন্ঠে+জোরে)
---আরে দোস্ত মন খারাপ করিস না।
.
আমি আর একটু দেড়ি না করে দৌড় দিয়ে বের হয়ে এলাম ক্যাম্পাস থেকে। ততক্ষণে চোখের পানিটা গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়েছে।
টুম্পা কয়েকবার ডাক দিয়ে ছিল। আমি সারা না দিয়ে দৌড়ে চলে এলাম।
এক দৌড়ে ম্যাইন রোডে চলে এলাম।
---এই মামা যাবা...
---হ আপা যামু ।
.
আমি রিক্সায় উঠে বসলাম। রিক্সাওয়ালা মামা চলতে শুরু করলো।
.
এদিকে টুম্পা আর শান্তা কথা বলছে,,
---নিশাত দৌড়ে বের হয়ে গেলো কেনো কাঁদতে কাঁদতে? কিছু হয়েছে? (শান্তা)
---হুমমম। আজকেউ ছেলেটা থাপ্পড় দিয়েছে নিশাতকে।
---আমি জানতাম এই ছেলেটা থাপ্পড় দিবে। ছেলেটা ভদ্র কিন্তু অতিরিক্ত কথাবার্তা পছন্দ করে না। একদম শান্ত। আর এমনিতে নিশাত একটুও ভাব পছন্দ করে করে না। হয়তো কিছু বলেছে রাগে আর ওমনি।
---আগে বললা না কেনো তুমি!
---আমার ভুল হয়েছে....আর শোন তুমি কি এখন বাসায় যাবে?
---হ্যা,,, নিশাতের ফোন রেগে ফেলেগেছে সেটা দিয়ে বাসায় যাব।
---ও তাহলে যাও। আমার একটা জরুরি কাজ আছে।
---আচ্ছা তাহলে যাও,,,,ফোনে কথা হবে।
---ওকে বাই,,,
.
টুম্পা আর শান্তা দুজনে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে টুম্পা নিশাতের বাসার দিকে চলে গেলো। শান্তা চলে গেলো তার জরুরি কাজে।
.
রাত,,
চৈতী আর ফারহান ড্রয়িংরুমে বসে আছে। দুজন দুই কাজে ব্যস্ত। চৈতী ফোন নিয়ে আর ফারহান বই নিয়ে।
---ভাইয়া,,,
"
চৈতীর কথাটা শুনে ফারহান চৈতীর দিকে তাকাল।
---কিছু বলবি,,,!
---হুমম,,,
---বল,,,
---আগে বল ভাইয়া রাগ করবি নাতো,,,,!
---চৈতী রাগ করার মতো কিছু বললে তো রাগ করবো।
---তাহলে থাক বলবো না।
---আচ্ছা বল,,,
---প্রমিস,,,
---ওকে প্রমিস,,,
---তুই মেয়েটাকে চড় মারলি কেনো?
"চৈতীর কথাটা শুনে ফারহান অবাক হয়। মনে মনে বলে উঠলো "চৈতী কি দেখে ফেলেছে?
---আচ্ছা তুই কি দেখেছিস,,,?
---হুমম দূর থেকে দেখলাম। কিন্তু, কেনো?
---তুই তো জানিস আমার কাজে কেউ বিরক্ত করলে আমার মাথায় রক্ত উঠে যাই। আর তুই তো ভালো করে জানিস। আমি মিথ্যে কথা পছন্দ করি না একদম।
---হুমম তা বুঝলাম। কিন্তু, তুই তো এইটুকুতে রেগে যাওয়ার ছেলে না। হ্যা, আমি জানি তুই #বই_পাগল কিন্তু পাবলিস প্লেসে এরকম রিয়েক্ট করিস না। আমার কেমন জানি ডাউট হচ্ছে।
---তোর আবার কি ডাউট মনে হচ্ছে? (ভ্রুঁটা উঁচু করে)
---তুই কি মেয়েটাকে আগে থেকে চিনতিস!
---বাদ দে তো এসব কথা। ফোনে যা করছিস তাই কর।
---ভাইয়া বল না। নাকি তুই মেয়েটাকে পছন্দ করিস? নাকি মেয়েটা তোকে?
---তোর প্রশ্ন একটাও সঠিক না।
---কিছু একটা তো আছে এর ভেতর। বল না প্লিজ ভাইয়া,,,,
---কাল বলবো ,,,,
---এখন,,,
---বলছি না কাল,,,
---ঠিক আছে। বই পড় তাহলে,,,
.
ফোনটা নিয়ে চৈতী রুমে চলে গেলো। ফারহান বই পড়তে গিয়ে ফোন বেজে উঠলো,
---হ্যালো,,,
---দোস্ত কেমন আছিস?
---অালহামদুলিল্লাহ্ ভালো,,, তুই,,?
---অালহামদুলিল্লাহ্ ভালো,,,। আমাদের তো ভুলে গেলি।
---আরে দোস্ত ভুলি নাই কাউকে ।
---বাসায় এসেছিস ২ দিন হয়ে গেছে। কিন্তু, আমাদের সাথে দেখা করিস নাই।
---আরে দোস্ত বলিস না। ছোট বোনটাকে কলেজ থেকে নিয়ে আসি আবার কলেজে রেখে আসি। এই তো কাজ। বাবাকে তো চিনিস। যা বলে তা না করলে কি হবে বুঝতে পারতেছিস।
---হ্যা দোস্ত। কিন্তু, আংকেল কিন্তু হেব্বি একটা জিনিস। কাল মামার দোকানে চলে আয়। আড্ডা হবে।
---ঠিক আছে।
---বাই,,,
,
ফোনটা রেখে দিলো সায়েম। আমার ছোটবেলার বন্ধু। সেই হাই স্কুল থেকে ভার্সিটি পর্যন্ত এক সাথে পড়াশোনা করেছি। যাক এসব কথা। এখন খেতে যেতে হবে।
ফারহান বই রেখে গেলো।
.
এদিকে নিশাত ঘুুমিয়ে গেছে। মা কখন থেকে টেবিলে বসে ডাকছে ভাত খাওয়ার জন্য। কিন্তু, কোন শব্দ পেলো না। তাই আমজাদ সাহেব বলে উঠলো,
---এই তুমি নিশাতের রুমে গিয়ে দেখ তো। কি হয়েছে নিশাতের।
---আচ্ছা তুমি বসে খাও। আমি ডেকে নিয়ে আসছি।
.
"নিশাতের মা নিশাতের রুমে চলে গেলো। রুমের ভেতর গিয়ে দেখে যে নিশাত ঘুুমিয়ে আছে। মুখের উপর ওড়না দিয়ে ডেকেগেছে। মাজেদা বেগম গিয়ে মেয়ের মুখের উপর ওড়না সরিয়ে অবাক হয়ে যায়। দেখে যে গালে ৫ আঙ্গুলের ছাপ। ফর্সা গালে একদম স্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছে ।
---নিশাত,,, এই নিশাত। (ধাক্কা দিয়ে)
.
নিশাত ঘুম থেকে জেগে উঠে তাড়াতাড়ি করে মুখ ডেকে নিল।
---কি হয়েছে মা।
---তোর গালে কে চড় মেরেছে?
---ক,,কই,,,
---তাহলে ওড়নাটা দিয়ে গাল ডেকে রাখলি কেনো?
"নিশাত মাথা নিঁচু করে মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলো।
---আরে কি হয়েছে বল আমাকে।
---কিছুনা আম্মু।
---তাহলে কাঁদছিস কেনো?
---আপুর কথা মনে পড়ছে খুব।
---মিথ্যে বলছিস।
---সত্যি বলছি আম্মু।
---কিন্তু গালে ওরকম হয়েছে কেমন করে। আর তোর গায়ে জ্বর এসেছে।
---টুম্পা তিথিকে মারতে গিয়ে আমার গালে বসিয়ে দিছে। ও কিছু না আম্মু।
---কিছু লুকাচ্ছিস না তো।
---না আম্মু,,,
---সেই জন্য আজ রুমের মধ্যে আছিস সারাদিন । মেডিসিন লাগিয়েছিস কোন।
---না আম্মু।
---তাহলে আমার ড্রয়ারের ভেতর আছে খেয়ে লাগিয়ে নিস।
---আম্মু আব্বু,,,,
---ঠিক আছে এক্সট্রা নাপা আর ক্রিম দিয়ে যাচ্ছি। তুই এখানে থাক।
---আমার সুইট আম্মু।
---আমার লক্ষি মা,,,আমি যাব আর আসব।
---ওকে আম্মু।
.
মাজেদা বেগম রুম থেকে বের হয়ে আসতে আমজাদ সাহেব বলে উঠলো,
---নিশাতের পড়া হয় নাই এখন।
---তুমি খাও । মেয়েটার শরীর ভালো লাগছেনা। আমি ওর রুমে গিয়ে ভাত খায়ে দিচ্ছি।
---কি হয়েছে?
---নিশাতের জ্বর এসেছে।
---আচ্ছা আমি দেখে আসছি।
---তোমার যেতে হবে না। তুমি খাও। আমি দেখছি।
---আমার ড্রয়ারে মেডিসিন আছে খাওয়ায়ে দাও।
---ঠিক আছে,,,আমি ঔষুধ নিয়ে আসছি। তুমি কষ্ট করে সব নিয়ে খাও।
---আচ্ছা আমি খাচ্ছি। তুমি আগে মেয়েটাকে মেডিসিন খাওয়ায়ে আসো।
.
মাজেদা বেগম চলে গেলো রুমের ভেতর।
এদিকে নিশাত বিছানা থেকে উঠে ড্রেসিংটেবিলের কাছে গিয়ে গাল দেখে কতটুক ফুঁলে গেছে। মনে মনে বললো, কেনো যে বলতে গেলাম এগিয়ে কথা বলার জন্য। নাহলে এমন করে আম্মুকে মিথ্যে বলতে হতো না। আর এমন কেনো, ছেলেটা এইটুকুতে রেগে যায় কেনো? নাকি মেয়েদের এভয়েড (Avoid) করে চলে? কিছু একটা রহস্য আছে। কিছু প্রশ্ন মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে।
মাজেদার বেগমের (নিশাতের মা) কথা শুনে সব প্রশ্ন পালিয়ে যায় মাথা থেকে।
---কি রে মা আয়নার সামনে বসে কি ভাবছিস গালে হাত দিয়ে।
"নিশাত পিছন ফিরে তাকিয়ে বলে,
---কিছুনা আম্মু।
---ও,,,আয় ভাত খেয়ে, ঔষুধ খেয়ে মেডিসিন লাগা।
,
মাজেদা বেগম মেয়েকে খায়ে দিচ্ছে।
অর্ধভাগ খাওয়া শেষ। নিশাত বেশম খেলো,, উঁহুম,, উঁহুম,,,
---এই নি পানি খা।
,নিশাত পানি খেয়ে মাকে বললো,
---মা আমি কি দেখতে খারাপ!
"মেয়ের ওমন কথা শুনে মাজেদা বেগম খুব অবাক হয়ে যায়।
---কে বলেছে তুই দেখতে খারাপ?
---আগে বলো আমি দেখতে খারাপ কিনা।
---না একদম না। আমার মেয়ে একটা পরী। একদম পরীর মতো সুন্দর।
---মিথ্যে বলছো নাতো।
---আরে মিথ্যে বলবো কেনো। যেটা সত্য সেটাই বলেছি। একদম পরীর মতো অসম্ভব সুন্দরী।
---Thank You Ammu.....
---পাগল একটা।
---না না পাগল না। পাগলি আমি।
"হাহাহাহা করে হেসে উঠে মাজেদা বেগম। সাথেও নিশাতও হেসে উঠে।
.
খাওয়া শেষ করে জ্বরের ঔষুধ খাওয়ায়ে গালে মেডিসিন লাগিয়ে দিয়ে মাজেদা বেগম মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে দেয় ।
কিছুক্ষণের মধ্যে আবার নিশাত ঘুমিয়ে যায়।
.
পরেরদিন আর কলেজে যায় না। এখনও গালে স্পষ্ট দাগ দেখা যাচ্ছে।
তাই কলেজে যায় না। বাবাকে এড়িয়ে যায়। কিন্তু রাতে খেতে বসে দেখে ফেলে। মাজেদা বেগম সেটা ম্যানেজ করে নেয়। পরে রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ে।
এভাবে ২দিন কেটে যায়।
.
৩য় দিন ,
বিকালে বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আছে রিক্সার জন্য। শপিং করতে যাবে নিশাত।
কিন্তু, রিক্সার কোন দেখা পাচ্ছেনা। তখন ফোনটা বেজে উঠলো। ফোন বের করে দেখে টুম্পা ফোন দিয়েছে।
---হ্যালো,,,
---কোথায় রে তুই ,,?
---বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। কোন রিক্সা নাই রে দোস্ত।
---প্লিজ তাড়াতাড়ি আয় দোস্ত,,,
---ও,,,,
"কথাটা শেষ না হতে নিশাতের ওড়নাটা ধরে কেউ টান দিয়েছে ভেবে পিছন ঘুরে দেখে ছেলেটার (ফারহান) হাতের ভেতর ওড়না।
নিশাতের রেগে যায়। তখন বলে উঠে,,,
---অসভ্য কোথাকার। তোর ঘরে কি মা বোন নেই। রাস্তায় এমন করে মেয়েদের ওড়না ধরে টান দিস। তোরা কি খালি মেয়েদের ডিস্টার্ব করিস। ইডিয়েট!
"কথাটা শুনে ফারহান বাইক স্টার্ট করে । নিশাত মনে করে স্যরি বলার জন্য স্টার্ট করেছে বাইক। ফারহান এসে নিশাতকে ঠাসসসসস করে গালে লাগিয়ে দিল,,,,
.
.
.
.
চলবে,,,,
Wednesday, August 21, 2019
Home
/
Love Story
/
বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম
/
বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (২য় পর্ব)
/
বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (২য় পর্ব)
বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (২য় পর্ব)
Golpian
Convey the Reality.
24/7 All time Live
বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (২য় পর্ব)
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment