---ঠাসসসসস,,,,
"নিশাত অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। প্রতিদিন এইভাবে থাপ্পড় দিতে কি ছেলেটা আমার সামনে আসে? আর কিছু না কিছু অঘটন ঘোটে যায়। আর ওমনি ঠাসসসসস করে গালের মধ্যে লাগিয়ে দেয়।
চোখের মাঝে অশ্রু টলমল করছে। সংকেত ছাড়া অবিরামভাবে বৃষ্টি ঝরতে থাকবে।
ফারহান তারপর বলে উঠলো,
---এই মেয়ে তোমার কি মনে হয়? আমি বখাটে। তোমার ওড়না আমি টান দিয়েছি। আমি তো বাইক চালাচ্ছি কেমনে টান দেব। তোর ওড়না আমার মুখের উপর এসে পড়ে। তখন হাত দিয়ে ছাড়াতে বাইক ব্রেক করাতে আধটু টান লেগে যায়। আর তুই মনে করেছিস আমি। শোন তোদের মত মেয়েদের আমার ভালো করে চেনা আছে...
.
ফারহান কথাগুলি বলে থেমে যায়।
নিশাত মাথা নিঁচু করে নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
ফারহান হাত চোখ মুঁছতেছে।
তারপর আবার বলতে শুরু করলো ফারহান,
---আমি অন্যান্য দশ পাঁচটা ছেলের মতো না । আমার মা-বাবা আমাকে মেয়েদের সম্মান দিতে শিখিয়াছে। কিভাবে তাদের সম্মান দিতে হয়। এটা শুনে রাখিস, তোদের মত মেয়েদের আমি ঘৃণা করি। তোদের ওড়না তো দূরের কথা। তোদের ছায়াকে ঘৃণা করি। বুঝলি কিছু।
.
কথাগুলি বলে ফারহান আবার বাইকে উঠে পড়লো। তারপর মনে মনে ভাবতে থাকে "একটু বেশি বেশি হয়ে গেলো না। মেয়েটাতো কিছু করে নাই! এই কথাটার জন্য চড় না মারলে হতো। তাহলে কেনো তাকে এভাবে প্রতিদিন চড় মারছিস। যারা তোর সাথে এমন করেছে তাদের ঘৃণা কর। অযথা অন্য মেয়েটাকে কেনো মারতে গেলাম।
মেরেছি ভালো করেছি। সেও একদিন কারও না কারও সাথে অভিনয় করবে। ওদের এরকম শিক্ষা দেওয়া উচিত।
কথাগুলি মনে মনে বলে একবার ফারহান নিশাতের দিকে তাকিয়ে বাইক স্টার্ট দিয়ে চলে গেলো তার গন্তব্যপথে।
.
এদিকে নিশাত কতবার ওড়না দিয়ে চোখ মুঁছেছে তার কোন হিসাব নেই।
মনে মনে নিজের উপর রাগ হচ্ছে। কেনো বলতে গেলাম কথাগুলি।
আর ছেলেটার কিসের এতো তেজ? কিসের এতো অহংকার? কিসের এতো মেয়েদের প্রতি ঘৃণা? এসব জেনে কি হবে!
আমি আর কখন তার সাথে কথা বলবো না। কোন অপরাধ করলে বলবো না। এভাবে প্রতিদিন পাব্লিক প্লেসে অপমান একদম সহ্য না।
চোখটা মুঁছে ফোন বের করে নিশাত। কি মনে করে ফোনটা ব্যাগের মধ্যে রেখে দেয়।
ওড়না দিয়ে চোখ মুঁছে একটা রিক্সাওয়ালা যেতে দেখে নিশাত ডাক দিল।
রিক্সায় উঠে রিক্সাওয়ালাকে যেতে বলতে রিক্সাওয়ালা যেতে লাগলো।
.
সন্ধ্যার দিকে শপিং করে এসে খুব ক্লান্ত। আজ অনেক হেঁটেছে। পুরো শপিংমল ঘুরেছে।
তাই ফ্যানটা ছেড়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে। মাথায় সারাক্ষণ এই একটা কথা ঘুরপাক
খাচ্ছে। তোদের মত মেয়েদের আমি ঘৃণা করি। তোদের ওড়না তো দূরের কথা তোদের ছায়াকে ঘৃণা করি।
ও আর হ্যা! ছেলেটা কোন বাসায় থাকে? আর আমার সাথে সব সময় দেখা হয়? নাকি এই বাড়িওয়ালার ছেলে। শুনেছি বাড়িওয়ালার ছেলে খুব ভালো, ভদ্র, বাড়িওয়ালা বলেছেন । সে হতে পারে না। কিন্তু, সে কে? নাকি উপরের ফ্লাটের ভাড়া নিয়েছে? নাহ্! উপরের ফ্লাটে তো এক আন্টি থাকে। তার ছোট ২টা বাঁচ্চা। তাহলে, ছেলেটার কিছু হয় কি বাড়িওয়ালা? হুমম হতে পারে। মামা, চাচা, খালু! যাই হোক। আর কখন তার সাথে কথা বলবোনা। সে অপরাধ করলে কিছুই বলবো না। কিন্তু, আমি যে সহ্য করতে পারি না। না, না আমাকে পাড়তে হবে। যে করে হোক।
বিছানা থেকে নিশাত ওয়াশরুমে চলে গেলো!
.
রাতে খেয়ে আর পড়তে বসলাম না।
বিছানায় গা এলিয়ে জহির রায়হানের উপন্যাস পড়তে লাগলাম।
.
এদিকে ফারহান খাটের সাথে গা এলিয়ে হাতে বই নিয়ে বসে আছে।
রাতে খাবার খেতে মা-বাবার ও ছোট বোন ডেকে যায়। কিন্তু, আজ খেতে মন চাচ্ছে না, বলে দেয় কথাটা ফারহান । মা-বাবা আর কিছু না বলে রুম থেকে চলে যায়।
আজ একটা পৃষ্টারও পড়তে পারে নাই ফারহান । ভেবেছিল নিমাই ভট্টাচার্য স্যারের #মেমসাহেব উপন্যাসটা পড়ে শেষ করবে আজ। কিন্তু, মেয়েটার জন্য কিছুই হলো না। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার সময়। একটু ভালো লাগে নি। চলে আসে সেখান থেকে। বন্ধুরা জিজ্ঞেস করাতে বলেছিল "ভালো লাগছে নারে। কাল দেখা হবে।
কথাটা বলে সেই যে বাসায় এসে শুয়ে আছি। একটুও উঠি নাই।
.
মেয়েটার ওড়না কি আমি টান দিয়েছি? নাহ্ তো। মুখের উপর পড়াতে তখন হয়তো হাত দিয়ে সরাতে টান লেগে যেতে পারে। তাই বলে ঠাসসসসস করে চড় দেওয়াটা ঠিক হয় নাই। আর সব মেয়ে তো এক হয় না। আমার ভুল হয়েছে। কিন্তু, মেয়েটার চেহারাটা তিথির মত।
তাহলে কি এই মেয়েটাই কি সে, যার জন্য অপমান হয়েছি?
বাট, সেদিন যে সায়েম বললো। না, না এটা হতে পারে না। আর হ্যাঁ, মেয়েটা যদি সত্যি তিথি হতো, তাহলে আমাকে চিনতে পাড়তো। আমার মাথাটা ঝিম, ঝিম করছে।
কিন্তু, সায়েমের কথায় ঠিক। মেয়েটা তিথি না।
কাল মেয়েটাকে খুঁজে ক্ষমা চেয়ে নিব।
কখন থেকে মনে মনে একা একা বকবক করে যাচ্ছে ফারহান। চৈতীর কথায় সব উল্টাপাল্টা বকবক মাথা থেকে পালিয়ে যায়,
---ভাইয়া,,, আমি কি ভেতরে আসবো?
---আচ্ছা আয়!
.
চৈতী এসে বিছানায় বসে পড়ে ফারহানের পাশে।
---কিছু বলবি?
---হুমম।
---নিশাতকে তুই চিনিস?
---কোন নিশাত? আর নিশাত কে?
---সেদিন সকালে যে বললি মেয়েটার কথা, সে আমাদের নতুন ভাড়াটিয়া। আমাদের ভার্সিটিতে পড়ে অন্য ডিপার্টমেন্টে ।
---কোন মেয়ে?
---যাকে কলেজে চড় মেরেছিস।
---কি বলিস তুই। আমাদের নতুন ভাড়াটিয়া। আর তোদের সাথে পড়ে। (আশ্চর্য হয়ে)
---হুমম।
---কেমনে জানতে পারলি? তুই তো অনেক দূরে ছিলি।
---আমার এক বান্ধুবী দেখেছে। তোদের পিছনের পাম্পগাছে ওর বয়ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলছিল। তোর কথা শুনে তাকিয়ে দেখে তুই । তারপর তুই চড় মেরেছিস। সে অবাক হয়ে যাই। পরে আমাকে বললো।
"
ফারহান কথাটা শুনে অবাক হয়ে যায়। তারপর বলে উঠলো,
---আচ্ছা ওই ভাড়াটিয়া ৩ তালায় থাকে নাকি ৪ তালায়?
---৩ তালার ভাড়াটিয়া। তুই তো নানুবাড়ি ছিলি সেই জন্য কিছু জানিস না। ওরা নতুন এসেছে।
.
যাক আর খুঁজতে হবেনা।
---থ্যাংক ইউ মাই সুইট আপ্পি,,,,
---কেনো রে ভাইয়া ?
---আমার ভুল হয়েছে। আমি মনে করেছিলাম মেয়েটা তিথি...
"কথাটা বলে জিব্হা কামড় দিলাম।
---তিথি,,, কোন তিথি রে ভাইয়া? যে মেয়েটার জন্য অপমান হতে হয়েছে।
---হুমম। তুই তো তিথিকে দেখিস নাই। ওই মেয়েটার চেহারা আর তিথির চেহারা একদম সেম। আবার সায়েম বললো যে তিথি ফিরে এসেছে। তাই আমি তিথি ভেবে প্রতিদিন একটা কিছু অঘটন নিয়ে চড় দিয়েছি। কিন্তু, আমি মনে করেছি তিথি হয়তো স্যরি বলার জন্য ঘ্যাণ, ঘ্যাণ করছে।
---হোয়াট,,! কি বলিস এসব। আমাকে আগে বলবিনা।
---আজকেউ চড় দিয়েছি বিকালে।
---আজকেউ,,, বেঁচারী এই সপ্তাহে ভার্সিটিতে যাই নাই।
---এখন বুঝতেছিনা কি করে ক্ষমা চাইবো।
---মেয়েটা খুব ভালো। তুই সামনা সামনি গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিস।
---ঠিক আছে,,,
---আচ্ছা রাজবন্দী জবান বন্দী বইটা কিনে এনেছিস।
--নারে কাল এনে দিব।
---তাহলে আমি গেলাম।
"চৈতী রুম থেকে চলে গেলো।
মনে মনে ফারহান ঠিক করে নিল কাল ওদের ফ্লাটে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিবে।
.
পরেরদিন সকালে মর্নিং ওয়াল্ক (Morning Walk) বের হয়ে পার্কে বসে আছি।
বসে হাঁপাচ্ছি। অনেক দৌড়ে হয়রান। ঘাড় ঘুরিয়ে সামনে তাকাতে দেখি মেয়েটা (নিশাত) পার্কে এসেছে মর্নিং ওয়াল্কে।
এখন ক্ষমা চেয়ে নেই। বসা থেকে উঠে দাঁড়ালাম।
মেয়েটার কাছে চলে গেলাম।
---গুড মর্নিং!
"আমার কথাটা শুনে মেয়েটা আমার দিকে তাকালো। আমাকে দেখে মেয়েটা চমকে উঠে।
.
নিশাত মনে মনে বলে --" এই ছেলে এখানে কি করে? আমাকে ফলো করে নাকি সারাক্ষণ? যাই হোক আজ কিছু বলবো না। এখানে অনেক মানুষ। মাথা গরম হলে কি থেকে কি বলবো তার ঠিক নেই।
.
ফারহান মনে মনে বলে ---" আজ কিছু করবো না। মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে।
---আপনার সাথে কিছু কথা আছে!
"
নিশাত পাশ কাঁটিয়ে যেতে লাগলো। তখন ফারহান আবার বলতে লাগলো,
---আপনাকে কিছু বলছি আমি।
---আমার কোন কথা নেই।
.
নিশাত কথাটা বলে যেতে লাগলো। তখন ফারহান নিশাতের হাত ধরে ফেলে,,
---আমার হাঁত ছেড়ে দিন। এখানে সবাই দেখছে প্লিজ ছেড়ে দিন।
---আমার কথাটা শুনে যাও একবার।
---হাত ছেড়ে দিন বলছি। (রেগে)
---আমার কথাটা শুনে যাও।
---আপনার আর কি কথা শুনবো। স্যরি বলবেন তাই তো। আপনার মত ছেলেদের আমার ভালো করে চেনা।
---আপনি রাগাবেন না আমাকে।
---রাগালে কি করবি তুই,,, মারবি মার। তোরা তো বখাটে। তোরা তো এটাই পারিস। রাস্তা, ঘাটে মেয়েদের টিচ করিস। আবার সেদিন তো বড় বড় কথা বলেছিলি। আমাকে আমার মা-বাবা মেয়েদের কিভাবে সম্মান দিতে হয় সেটা শিখিয়েছে ! এই পাব্লিক প্লেসের সামনে একটা মেয়ের হাত ধরে টানাটানি করছিস। এই তোদের শিক্ষা ছিঃ, ছিঃ তোর মা-বাবা,,,
কথাটা শেষ না হতে ফারহান ঠাসসসসস করে নিশাতের গালে মেরে দিল চড়,,,
---ঠাসসসসস,,,,
.
.
.
.
চলবে,,,,
Wednesday, August 21, 2019
Home
/
Love Story
/
বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম
/
বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (৩য় পর্ব)
/
বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (৩য় পর্ব)
বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (৩য় পর্ব)
Golpian
Convey the Reality.
24/7 All time Live
বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (৩য় পর্ব)
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment