Wednesday, August 21, 2019

বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (১১তম পর্ব)

---এই,, (মিষ্টি)
.
ফারহান পিছন ফিরে তাকায়,,,
---কি হয়েছে,,? (ফারহান)
---তিথি তোমাকে ডাকে,,
---আমাকে মানে,,? আর এতো রাতে কেনো ডাকবে,,?
---আমি কি জানি নাকি। আমাকে বললো তাই।
---ও,,,আমার জেতে ইচ্ছে করছে না। একটু আগে আমার সাথে কথা বললো আবার এখন কেনো,,?
---আমি তো জানি না। তুমি শুনে এসে আবার আড্ডা দাও।
---আচ্ছা,,
---আমি আম্মুর কাছে যাচ্ছি।
---ঠিক আছে যাচ্ছি,,,
.
মিষ্টি চলে গেলো কথাটা বলে।
ফারহান মনে মনে বলে উঠলো, "কি মতলব করে আবার ডেকেছে "আল্লাহ তায়ালা " জানে,, । মেয়েটা আমার জন্য দেওয়ানা হয়েগেছে। আজব মেয়ে একটা,,! ছাঁদে যে ঘটনা ঘটিয়ে ছিল। আমি তো অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। লজ্জিত হয়ে গিয়েছিলাম। আমি দুহাত দিয়ে নিজের চোখ চেঁপে ধরি। একটা ফাজিল মেয়ে,,,। লজ্জা বলতে কিছুই নেই,,,! বড় বোনের বয়ফেন্ডের সাথে যে প্রেম করতে চায় এরকম মেয়ে কখন দেখি নাই জীবনে। ক্যারেক্টারলেস গার্ল,,, জানি না এখন কোন মতলব বা ফাঁদ পেতে আছে।
কথাটা মনে মনে বলতে বলতে তিথির রুমের দিকে আসে ফারহান ।
.
ফারহান রুমে ঢুকতে তিথি দরজা বন্ধ করে দেয়।
---এই তিথি তুমি দরজা বন্ধ করে দিলে কেনো...?
.
কথাটা বলে ফারহান দরজা খুঁলতে গেলো। কিন্তু, তিথি পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়ে যায় ফারহানের সামনে। তিথির চোখে এক অদ্ভুত রকম হাসি। সেটা ফারহান দেখে বুঝতে পারছে কিছু একটা মতলব আছে। ফারহান বুঝতে পাড়ছে,,,
---এই তিথি কথা বলছো না কেনো,,? আর দরজা বন্ধ করলে কেনো,,? আর এসব কি হচ্ছে,,? কেউ দেখে ফেললে কি ভাববে,,,।
---তুমি কি কিছু বোঝ না ফারহান,,,।
---হোয়াট,, তুমি এসব কি বলছো,,,!
---হ্যা বেবি, আমি ঠিক বলছি। তোমাকে কত ভালোবাসি তুমি বোঝ না। আমি তোমাকে চাই,,, তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি ফারহান,,
---You Are Mad,,,নাকি,,,
---হ্যাঁ, আমি পাগল। তোমার প্রেমে পাগল হয়ে গেছি। দুচোখের ঘুম নেই। আমি শুধু তোমাকে চাই,,,
---প্লিজ তিথি তুমি মজা কর না,,, মিষ্টি জানলে খুব রাগ করবে।
---তাই নাকি বেবি,,
.
কথাটা বলে তিথি ফারহানকে এক ধাক্কায় বিছানায় ফেলে দেয়। তারপর তিথি ফারহানের উপরে পরে যায়।
---তি,,তিথি এসব কি,,, কি হচ্ছে,,, প্লিজ তিথি এরকম ক,,ক,,কর না।
---সবে তো শুরু বেবি। (গালের উপর হাত বুলিয়ে,,,)
---প্লিজ,,,এরকম কর না তিথি। আমাকে যেতে দাও,,
---বেবি এরকম করছো কেনো,,,আমরা আজ দুজনে ভালোবাসার সাগরে ভেসে যাব। আমাদের কেউ ডিস্টার্ব করবে না। প্লিজ ফারহান আমাকে পাগল করে দিও না। আমি তোমার স্পর্শ পেতে চাই,,,ছাঁদে তো,,,
.
কথাটা বলে তিথি ফারহানের ঠোঁটে কিস করতে যাবে তখন ফারহান তিথিকে সরিয়ে দিয়ে উঠে যায় বিছানা থেকে।
---বেবি উঠে গেলে কেনো,,, (দাড়াতে দাড়াতে)
---Stop Your Mouth,,, আমাকে টাচ্ করবে না বলে দিচ্ছি। তোমার সাহস হয় কি করে এসব কথা বলতে। লজ্জা করে না। বোনের বয়ফেন্ডের সামনে ওপেনলি (Openly) নিজের কাপড় খুলে ফেলতে। কেমন করে পারলি। একটুও লজ্জা করল না তখন তোর।
---তোমার জন্য সব করতে পারি,,,আমি তোমাকে ভালোবাসি ফারহান,,, আমার ভালোবাসা তোমার স্পর্শ পেতে চাই।
---চুপ,,! তোর মুখে আমার নাম তো দূরের কথা ভালোবাসার কথা বলবি না। তোর মত মেয়েদের চাইলে সব করতে পারি। তুই তো বেশ্যা/পতিতার (Whore/ Prostitute) চাইতে বেশি খারাপ। বেশ্যা/পতিতারা তো টাকার জন্য এসব জগ্ন কাজ করে। আর তারা তো এসব করতে তো নিজের কাপড় নিজে খুলে ফেলে না। আর তুই তো খোলা আকাশের নিচে, তাও আবার আমার মত পরপুরুষের সামনে। ভাবতে ঘৃণা হচ্ছে,,, ছিঃ,, ছিঃ,,
---আমি তোমাকে ভালোবাসি। তুমি কেন পরপুরুষ হবে।
---চুপ কর। আল্লাহুর প্রতি তোর কোন ধারণা আছে। শুনেছিস কখন, বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক আমাদের ইসলামে হারাম।এর শাস্তি ভয়াবহ।
.
[[ অনেকেই যুক্তি দিবেন ছেলে মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর দুজনের ইচ্ছেতে শারীরিক সম্পর্ক করা দুষের কিছুনা।
.
আসুন ইসলামের দৃষ্টিতে যিনাকারীর শাস্তি সম্পর্কে জেনে নিই। ]]
.
আল্লাহ তায়ালা বলেন,“তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না। এটা অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট আচরণ”। (সূরা বনী ইসরাঈল -৩২)

“আর যারা আল্লাহ ব্যতীত অপর কোন ইলাহের ইবাদত করে না, আল্লাহর নিষিদ্ধকৃত প্রাণী যথার্থ কারণ ব্যতীত হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। আর যে ব্যক্তি এসব কাজ করে, সে শাস্তি ভোগ করবে। কিয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে সে হীন অবস্থায় চিরস্থায়ী হবে। তবে তারা নয়- যারা তাওবা করে এবং সৎ কাজ করে, আল্লাহ তাদের মন্দ কাজগুলো ভাল কর্ম দিয়ে পরিবর্তন করে দেন, আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াশীল”। (সূরা আল ফুরকান ৬৮-৬৯)

“ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী উভয়কে এক’শ ঘা করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকরী করবে এদের প্রতি দয়া যেন তোমাদের অভিভূত না করে। যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী হয়ে থাক। ঈমানদারদের একটি দল যেন এদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে”। (সূরা আন নূর ২)

আলেমগণ বলেছেন, এটাই হচ্ছে অবিবাহিত পুরুষ-মহিলার ব্যভিচারের ইহকালীন শাস্তি। যদি তারা বিবাহিত হয় বা জীবনে একবার হলেও বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল এমন হয়ে থাকে, তাহলে তাদেরকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করতে হবে। এটা হাদীসের নির্দেশনা । এ মৃত্যুদণ্ডেও যদি তাদের পাপের পূর্ণ প্রায়শ্চিত্ত না হয় এবং তারা উভয়েই তওবা না করে মারা যায় তাহলে তাদেরকে জাহান্নামের আগুনে পোড়ানো লৌহদণ্ড দিয়ে শাস্তি দেয়া হবে।
.
যবূর কিতাবে বর্ণিত আছে, “ব্যভিচারী নারী-পুরুষের লিঙ্গ রশি দ্বারা বেঁধে জাহান্নামের আগুনে ঝুলানো হবে এবং লোহার ডান্ডা দিয়ে তাদের জননেন্দ্রিয়ে আঘাত করা হবে। আঘাতের যন্ত্রণায় যখন চিৎকার করবে, তখন জাহান্নামের ফেরেশতারা বলবে; পৃথিবীতে যখন তোমরা আনন্দ ফুর্তি করতে, হাসতে এবং আল্লাহর কথা স্মরণ করতে না এবং তাঁকে লজ্জা পেতে না, তখন এ চিৎকার কোথায় ছিল”?

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন;

“কোন ব্যভিচার ব্যভিচারের সময়ে মুমিন অবস্থায় ব্যভিচার করে না। কোন চোর চুরির সময় মুমিন অবস্থায় চুরি করে না। কোন মদখোর মদ খাওয়ার সময় মুমিন অবস্থায় মদ পান করে না, কোন লুন্ঠনকারী লুন্ঠন করার সময় মুমিন অবস্থায় লুন্ঠন করে না”। [বুখারি,মুসলিম ও আবু দাউদ]

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন,

“কোন ব্যক্তি যখন ব্যভিচার করে তখন তার ভেতর থেকে ঈমান বেরিয়ে যায়, এরপর তা তার মাথার উপর ছায়ার মত অবস্থান করতে থাকে। এরপর সে যখন তা থেকে তওবা করে তখন তার ঈমান পুনরায় তার কাছে ফিরে আসে”। [আবু দাউদ]

হযরত আবু হুরায়রা বর্ণিত অন্য এক হাদীসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন,

“যে ব্যক্তি ব্যভিচার করে অথবা মদ পান করে, আল্লাহ তার কাছ থেকে ঈমান ঠিক এমনভাবে কেড়ে নেন, যেমন কোন মানুষ তার মাথার উপর দিয়ে জামা খুলে থাকে”।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন,

“কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তিন ব্যক্তির সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্রও করবেন না এবং তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক কঠোর শাস্তি নির্ধারিত থাকবে। তারা হচ্ছে বৃদ্ধ ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী শাসক এবং অহংকারী গরীব”। [মুসলিম ও নাসায়ী]
.
হযরত ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,

আমি বলেছিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বড় পাপ কি? তিনি বললেন, আল্লাহর সমকক্ষ কাউকে নির্ধারণ করা। আমি বললাম, এটা নিশ্চয়ই জঘন্যতম গুনাহ। তারপর কি ? তিনি বললেন; তোমার সন্তান তোমার সাথে আহারে বিহারে অংশ নিবে এ আশংকায় সন্তানকে হত্যা করা। আমি বললাম, এরপর কি? তিনি বললেন, তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া। [বুখারি ও মুসলিম]
.
বুখারি শরীফে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্বপ্নের বিবরণ সম্বলিত যে হাদীসটি হযরত সামুরা বিন জুনদুব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে উল্লেখ রয়েছে এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন;

“জিবরাঈল ও মীকাঈল (আলাইহি সালাম) তাঁর কাছে এলেন এবং আমি তাঁদের সাথে পথ চলতে শুরু করলাম। এক পর্যায়ে আমরা বড় একটা চুল্লির কাছে এসে পৌঁছলাম। সে চুল্লির উপরি অংশ সংকীর্ণ ও নিম্নভাগ প্রশস্ত। ভেতরে বিরাট চিৎকারও শোনা যাচ্ছিল।

আমরা চুল্লিটার ভেতরে দেখতে পেলাম উলংগ নারী ও পুরুষদেরকে। তাদের নিচ থেকে কিছুক্ষণ পর পর এক একটা আগুনের হলকা আসছিল আর তার সাথে সাথে আগুনের তীব্র দহনে তারা প্রচন্ডভাবে চিৎকার করছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম; হে জিবরাঈল! এরা কারা ? তখন তিনি বললেনঃ এরা ব্যভিচারী নারী ও পুরুষ”।

মহান আল্লাহর বাণী; “জাহান্নামের সাতটি দরজা থাকবে”- এ আয়াতের তাফসীরে হযরত আতা (রহ) বলেন,

“ এ সাতটি দরজার মধ্যে সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত, সবচেয়ে বেশি দুঃখে পরিপূর্ণ ও সবচেয়ে ভয়ংকর দরজা হবে যারা জেনে-শুনে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে।
.
তিথি চুপ করে থাকে। তখন ফারহান আবার বললো,
---তোর মত মেয়েদের টার্চ করার তো দূরের কথা। কথা বলতে ঘৃণা করি। তুই আমার সাথে এসব করছিস,,,! না জানি কত ছেলেদের সাথে এমন করেছিস,,। আল্লাহ তায়ালা জানে।
---তুমি বিশ্বাস কর, আমি কাউকে টার্চ করি নাই, আর না কেউ টার্চ করেছে। সত্যি বলছি।
---আমার সুস্থ মস্তিষ্কে বুঝতে পারছি। তুই কেমন মেয়ে। তুই একটা,,,
.
.
মিষ্টির দরজার সামনে এসে দাড়ায়। দরজা খুলতে যাবে তখন দেখে যে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করা। একবার ডাক দিব কি,,? না থাক। তিথি হয়তো ঘুমাচ্ছে। নো নো, ফারহান তো ভেতরে না,,? যদি ফারহান ভেতরে থাকে তাহলে কি করছে ভেতরে দরজা লক করে,,? ফারহান তো আবার,,,,না না এসব কি ভাবছি আমি,,! ফারহান এরকম না। যদি ফারহান এরকম হতো,,,! তাহলে ছাঁদের ঘটনাটি বলতো না। আর তিথি সেরকম না,,,! কিন্তু, তিথি তো ফারহানকে ভালোবাসে বলেছিল,,? নাকি মজা করেছিল,,? আর তিথি কেমন জানি ফারহানের প্রতি বেশি কেয়ারিং করেছে দুইদিন ধরে । ফুপুমনির কথাটা শুনে মিষ্টি একটু চমকে যায়,,,
---মিষ্টি এখানে দাড়িয়ে কি করছিস,,,?(মিষ্টির ফুপুমনি)
---কই কিছু না ফুপুমনি,,, (মিষ্টি)
---তো এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো,,?
---তিথিকে আংকেল ডাকছে,,,তাই ডাকতে এসেছি,,
---তা ভেতরে যা।
---দরজা ভেতর থেকে বন্ধ।
---ঘুমাচ্ছে হয় তো। ডাক দে।
---না, একটু আগে তো ফারহানকে ডেকে দিতে বলেছিল। পরে আমি ফারহানকে ডেকে দিয়ে যায়।
---আচ্ছা আমি দেখছি,,,
মিষ্টির ফুপুমনি দরজা নক করে ডাক দিল,,, "তিথি,,, এই তিথি,,
.
---তুমি যত অপমান কর আর যত আমাকে মার আমি তোমাকে যেতে দেব না। আমাকে ভালোবাসো কথাটা না শোনা পর্যন্ত আমি তোমাকে যেতে দেব না।
.
দরজার নক করা দেখে ফারহান ভয় পেয়ে যায়। তিথি নিজের শার্টের বোতাম একটানে খুলে ফেলেছে। এই অবস্থায় কেউ দেখলে বিশ্বাস করবে তিথিকে আমি,,,, না, না এসব কি ভাবছি আমি। আমি তো তিথিকে কিছু করি নাই।
---তিথি তুমি পরিপাটি হও প্লিজ। কে যেন দরজার ওপাশে দাড়িয়ে ডাকছে। আমাদের এরকম দেখলে নিশ্চয় ভাববে আমরা ব্যবিচারে লিপ্ত ছিলাম।
---না, না আগে বল আমাকে ভালোবাসো।
---জোর করে কখন ভালোবাসা হয় না। আর আমি মিষ্টিকে ভালোবাসি তুমি সেটা জানো তার পরেও কেনো এমন করছো। প্লিজ,,
---না, আগে আমাকে বল ভালোবাসো,,,
---আমি কখনও বলবো না।
.
.
---মিষ্টি দরজা তো খুলছে না তিথি।
---ফুপি আমি ডাকছি,,,
---আচ্ছা তুই ডাক।
মিষ্টি দরজা টোকা দিয়ে ডাক দিল, "তিথি,, ওই তিথি দরজা খোল।
.
.
---তিথি মিষ্টি ডাকছে। প্লিজ আমাকে যেতে দাও।
---না, আগে বল আমাকে ভালোবাসো,, আমি শুধু তোমার। বল।
---তিথি বোঝার চেষ্টা কর। আর মিষ্টি তো তোমার চাচাতো বোন।
---আমি কোন মিষ্টিকে চিনি না। তুমি শুধু আমার,,,আর কাউকে হতে দেব না। সে হোক না কেন আমার মায়ের পেটে বোন।
---চুপ কর,,, তোমার মুখে এসব মানায় না।
.
তিথিকে জোর করে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে দিয়ে ফারহান দরজা খুললো।
ফারহান দরজা খুলে দেখে মিষ্টি আর মিষ্টির ফুপি।
মিষ্টি আর ফুপি দুজনে রুমের ভেতর ঢুকে যায়।
তিথির অবস্থা দেখে মিষ্টি ধপাস করে ফ্লোরে বসে যায়। কি দেখছে এসব। কখনও বিশ্বাস করতে পারি নাই ফারহান এমন কাজ করবে।
ফুপি কি বলবে বুঝতে পারছেনা। তিথির টি-শার্টের বোতাম ছেরা বুকেরটা। গালে একটা চড়ের দাগ। তিথি ফুপিকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। ফুপি রেগে গিয়ে ফারহানকে চড় মারে।
---ফুপি ও আমাকে,,,(কেঁদে কেঁদে)(তিথি)

তিথি আমাকে কথাটা বলে কেঁদে দিল,,,।
---আ,,,আমি কিছু করি নাই ফুপি,,, তিথি আমাকে,,,(ফারহান)
---চুপ একদম চুপ। তুই আমাকে অপবিত্র মুখে ফুপি ডাকবি না।
---বিশ্বাস করেন ফুপি। আমি কিচ্ছু করি নাই। তিথি আমাকে,,,
.
ঠাস করে ফুপি আবার ফারহানের গালে চড় মেরে দেয়।
---তোর সাহস তো কম না। তিথির নামে এসব বলছিস। আমি তো ভেবেছিলাম তুই খুব ভালো ছেলে। কিন্তু, চোখের সামনে এসব দেখে আমি তোর কথা বিশ্বাস করবো। কি করে ভাবলি এসব। আমি তো তোকে নিজের ছেলের মত দেখেছি। আর তুই আমার ভাইজির মেয়েকে। ছিঃ,, ছিঃ,,,
---মিষ্টি বিশ্বাস কর আমি এমন কিছু করি নাই যেটা দেখছো। আমাকে বিশ্বাস কর প্লিজ,,,
---চুপ,,, একদম চুপ। তুই আমাকে কি বিশ্বাস করতে বলিস। এই টা দেখার পরও কি আমি তোর কথা বিশ্বাস করব। কি করে ভাবলি তুই। ছাঁদের ঘটনা বলেছিলি আমি বিশ্বাস করেছিলাম তুই এমন না। কিন্তু, আজ তুই আমার চোখের সামনে আমার বোনের সাথে এসব নোংরামি করছিস আর আমাকে বিশ্বাস করতে বলছিস,,,। না জানি আরও কত মেয়ের সাথে,,,, ছিঃ,,ছিঃ,, আমি মানুষ চিনতে ভুল হয়েছে
---মিষ্টি তুমি বিশ্বাস কর আমি,,,
---তোর কোন কথা শুনতে চাই না। তুই এখন,এই মুহুর্তে আমার চোখের সামনে থেকে চলে যাবি। আমি তোর অপবিত্র মুখ দেখতে চাই না। তোকে আমি ঘৃণা করি।
.
কথাটা বলে মিষ্টি দৌড়ে কাঁদতে কাঁদতে রুম থেকে বেড়িয়ে যায়।
.
কথাটা বলে চৈতী ওড়না দিয়ে চোখটা মুঁছে ফেললো।
নিশাত কি বলবে বুঝতে পারছেনা। নিশাতের চোখে পানি টলমল করছে।
.
মুয়াজ্জিনের মধুর কন্ঠে মসজিদের মাইক থেকে এশারের আজান ভেসে আসছে।

দুজনে চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কি বলবে কিছুই বুঝতে পারছেনা।

একটু পর আজানের জবাব দিয়ে দরুদ পড়ে চৈতী বলে উঠলো,
---নিশাত প্লিজ ভাইয়াকে ভুল বুঝ না। আমাকে ক্ষমা করে দিও।
.
চৈতী কথাটা বলে চলে গেলো।
নিশাত একবার ডাক দিল। কিন্তু, চৈতী না শুনে চোখ মুঁছতে মুঁছতে চলে গেলো।
.
নিশাত এবার কেঁদে ফেললো,,, কেনো কাঁদছে বুঝতে পারছে না।
অনেক অস্থির অস্থির লাগছে। দম, শ্বাস নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে। মনে হচ্ছে কেউ নাক, মুখ চেপে ধরে আছে। কিন্তু, সেরকম কিছুই হই নাই। কিন্তু, তবুও এরকম মনে হচ্ছে ।
নিশাত চোখটা মুঁছে ছাঁদ থেকে চলে গেল।
.
মাজেদা বেগম রুম থেকে বেরুতে নিশাতকে দেখতে পেল নিশাত আসছে।
---কি রে নিশাত কোথায় ছিলি,,?
---ছাঁদে,,
---কি বলিস এসব। জানিস না ছাঁদে ভুত, পেত্নী আছে।

.
নিশাত কিছু না বলে রুমে চলে যায়। দরজা ভেতর থেকে লক করে শুয়ে পরে বিছানায়।
চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। একজন মানুষ কিভাবে নিষ্ঠুর হয়। একজনের জন্য ২ টা মন ভেংগে চুরমার হয়ে গেছে। কিভাবে পারলো এসব,,? কি সব ভাবছি আমি,,! যাইহোক ফারহান ছেলেটা ভালো,,। হয়তো প্রত্যেক মেয়েকে তিথির মত ভাবে। সেই জন্য সবাইকে ঘৃণা চোখে দেখে। এসব ভেবে আমি কষ্ট পাচ্ছি কেনো,,? তাহলে কি চৈতীর কথা ঠিক, আমি কি ফারহানকে ভালোবাসি,,? হয়তো ঠিক,,! হয়তো মায়া,,,,!
.
.
.
চলবে,,,,

No comments:

Post a Comment