Wednesday, August 21, 2019

বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (৬ষ্ঠ পর্ব)

---নিশাত,,, এই নিশাত,,, (ধাক্কা দিয়ে)
.
নিশাত লাফ দিয়ে উঠে পড়ে বিছানায় বসে পড়ে । হাঁপাতে থাকে নিশাত । 
---কি,,,কি হয়ছে বড়আম্মু....এভাবে ধাক্কা দিচ্ছ কেনো,,,? (হাঁপাতে হাঁপাতে) 
---এভাবে কাঁদছিলি কেনো...?
---কখন বড়আম্মু,,,?
---একটু আগে তো কাঁদতেছিলি ঘুমের মধ্যে ,,,আর এভাবে হাঁপাচ্ছিস কেনো,,,?
.
নিশাত নিশ্চুপ হয়ে আছে। 
তখন মনে পড়ে গেলো স্বপ্নের ঘটনাটি। 
---কি রে চুপ হয়ে আছিস কেনো,,,? কোন দুঃস্বপ্ন দেখেছিস,,,?
---না বড়আম্মু। 
---তাহলে কি স্বপ্নে দেখেছিস...?
---কিছুনা বড়আম্মু,..।
---পানি খাবি মা,,?
---হুম। (মাথা নাড়িয়ে)
.
নিশাতের বড়আম্মু রেখা বেগম পানি আনতে চলে গেলো। 
রুমের ভেতর ড্রিমলাইট জ্বলছে। বাহিরে হালকা হালকা আলো ছিঁটিয়ে ছিঁটিয়ে পড়েছে। ড্রিমলাইটের আলোতে ঘরের মধ্যে অল্প অল্প দেখা যাচ্ছে।
ঘড়িতে তাকালো! ঘড়িতে তখন বাজে ৩:১৯ মিনিট।
এটা কেমন স্বপ্ন,,? ছেলেটা আমার স্বপ্নের মাঝে এসে মারে। এটা কেমন স্বপ্ন। এরকম স্বপ্ন কি সবাই দেখে,,? 
রেখা বেগমের কথাটা শুনে সব ভাবনা ছুঁটে পালিয়ে গেলো ।
---এই নিশাত কি ভাবিস,,,?
.
নিশাত রেখা বেগমের কথাটা শুনে ডান দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে পানি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
---দাও,,,
.
নিশাত ঢক ঢক করে সবটুকু পানি খেয়ে নিল। 
নিশাতের পানি খাওয়া দেখে রেখা বেগম অবাক হয়ে যায়। কখন এরকম করে পানি খায় নাই নিশাত। মনে মনে বলে উঠলো, "খুব ভয় খেয়েছে! তাই হয়তো এরকম পানি খেয়ে।
---কিরে খালি গ্লাস নিয়ে কি ভাবিস মা,,,? কিছু হয়েছে,,?
.
রেখা বেগমের কথাটা শুনে ভাবনায় ছেদ পড়ে আবার নিশাতের। 
---না,,,
---শোন মা,, যদি কিছু না মনে করিস তাহলে একটা কথা বলি,,,
.
রেখা বেগমের কথাটা শুনে শিশুদের মত তাকিয়ে থাকে। কি বলবে বুঝে উঠতে পায় না নিশাত।
নিশাতের নিরবতা দেখে রেখা বেগম বলে উঠলো,
---তুই কি কোন কিছু নিয়ে টেনশনে আছিস,,,? মানে বলতে চাইছি তুই কি ভাবিস সারাক্ষণ..? বাসায় আসার পর থেকে লক্ষ করছি সেটা। কি হয়েছে সেটা একটু বলবি মা। আমাকে বন্ধু হিসাবে বল। কোন ভয় নাই। আমি কাউকে বলবো না। বল মা,,,
---নিশ্চুপ...
---বল মা। চুপ করে থাকিস না। আমি চেষ্টা করব তোকে সাহায্য করার জন্য। বল আমাকে মা চুপ থেকে।
---আমার ভালো লাগছেনা বড়আম্মু।
---আচ্ছা তাহলে ঘুমা,,,
.
নিশাত ঘুমানোর জন্য শুয়ে পড়ে অন্যপাশ হয়ে।
রেখা বেগম পানির গ্লাসটা টেবিলে রেখে এসেছে দেখে নিশাত ঘুুমিয়ে পড়েছে।
রেখা বেগম পাশে গিয়ে শুয়ে পড়ে। মাথায় হাত দিয়ে আদর করে। নিশাতের মাথায় হাত রাখাতে নিশাত একটু নড়েচড়ে উঠলো। নিশাত চুপ করে আছে চোখটা বুঝে।
ঘুম নেই চোখে। ঘুমানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। চোখের সামনে ছেলেটার মুখ ভেসে উঠছে শুধু। কেনো এমন হচ্ছে আমার,,? নাকি তাকে নিয়ে চিন্তা করি বলে এরকম স্বপ্ন দেখেছি,,? যাই হোক এখন ঘুমাতে হবে।
একটুপর ঠোঁটের স্পর্শ পেয়ে আবার ভাবনাহীন হয়ে গেলো নিশাত। সে বুঝতে পাড়ে তার বড়আম্মু তার কপালে ভালোবাসার স্পর্শ ছুঁয়ে দিল।
.
অনেক চেষ্টা করে ঘুমাতে পাড়ছেনা। তার বুকের উপর দিয়ে রেখা বেগমের ডান হাত দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।
নিশাতের চোখে ঘুম নেই। নির্ঘুম হয়ে জেগে আছে নিশাত।
দেওয়ালে দিকে আবার তাকালো নিশাত। ঘড়িতে ৪:০৩ বাজে। চোখে কেনো ঘুম নেই। হাজার চেষ্টা করে ঘুমাতে পাড়ছেনা নিশাত।
নিশাত রেখা বেগমের হাতটা আস্তে করে সরিয়ে দেয়। তারপর আস্তে করে খাট থেকে নেমে পড়ে। স্যান্ডেলটা পায়ে দিয়ে ওয়াশ রুমে চলে গেলো...।
.
মুখ মুঁছে তোওয়ালেটা রেখে দিয়ে আবার পা টিপে টিপে খাটের কাছে আসে।
আবার আস্তে করে হাতটা নিশাতের বুকের উপর দিয়ে শুয়ে পড়লো। রেখা বেগম একটু নড়েচড়ে উঠে। নিশাত মাথাটা আধটু উুঁচু করে রেখা বেগমের দিকে তাকালো। আবার আস্তে করে মাথাটা বালিশের উপর রাখে। তখন রেখা বেগমের কথাটা শুনে চমকে উঠে,,,
---ঘুুমিয়ে পড় মা,,,
---তু,,,তু,,তুমি ঘুমাও নাই।
---না। 
---তাহলে আমি যে ওয়াশ রুমে চলে গেলাম সেটা দেখেছো,,?
---হুমম। সন্তানের চোখে ঘুম না আসলে মা-বাবার চোখে কেমন করে ঘুম আসে বল,,।
---তাহলে হাতটা সরিয়ে দিলাম কিছু বললে না যে,,,
---সব সময় বলতে হয় না।
---আম্মু,,,
---তাই,,,
---হুমম। (মাথা নাড়িয়ে) 
---পাগলি একটা,,আমি মাথা বিলিয়ে দিচ্ছি তুই ঘুমা মা,,,
---তুমি কখন ঘুমাবা,,,?
---তুই যখন ঘুমাবি তখন,,,
---বুঝবে কেমনে,,,?
---আল্লাহ তায়া মায়েদের এমন কিছু দান করে দিয়েছে সেটার দ্বারা বুঝতে পাড়ে। যখন সন্তানের মা হবে তখন বুঝলি পাগলি,,,
---আমি বিয়ে করবো না আম্মু,,, (বাঁচ্চা দের মত)
---দুর এসব বলতে নেই,,,এখন ঘুমা। একটু পর আজান দিবে।
---আচ্ছা,,,
.
.
---ভাইয়া,,, এই ভাইয়া,,, 
.
চৈতীর ডাকে আরামের ঘুম হারাম করে দিল।
বিছানায় থেকে উঠে গিয়ে দরজা খুলে আবার বিছানায় এসে ঘুুমিয়ে পড়লো।
চৈতী ভেতরে এসে দেখে আবার ঘুুমিয়ে পড়েছে।
---ভাইয়া,,
---ঘুমাতে দে ভাইয়া,,,
---কতবাজে জানো ভাইয়া,,,!
---হুমম।
---কত বাজে বল তো ভাইয়া,,,!
---কত বাজবে বড়জোর ৮ টা বাজে।
.
চৈতী হেসে উঠলো।
---ঘড়ির দিকে তাকা তো ভাইয়া,,,।
---কেনো,,?
---দেখ কত বাজে,,
---তুই বল কত বাজে।
---১০ টা বাজে।
---কিহ্! কত বাজে,,, 
---১০ টা, ১০ টা, ১০ টা,,
.
ফারহান বিছানার মাঝে বসে বালিশের নিচে হাত দিয়ে দেখে ফোন নাই। ঘুম ঘুম চোখে দেওয়ালে ঘড়ির দিকে তাকালো। সত্যি তো ১০:৭ বাজে। 
---এখন ডাক দেওয়ার টাইম হলো। যা আর একটু ঘুুম পাড়বো। 
---আম্মুর প্রেসারের ঔষুধ শেষ। রাতে ঔষুধ ফুঁরিয়ে গেছে।
.
ফারহান লাফ দিয়ে উঠে পড়ে বিছানায় থেকে।
---সকালে ডাক দিবি না একটু,,এখন ডাকতে আসছি।
---সকালে জব্বার চাচা এনে দিয়েছে। হতাসা হতে হবে না।
---আমার ফোনটা কোথায় খুঁজে টেবিলে রেখে দিয়ে যা। আমি হাত মুখ ধুয়ে আসছি।
.
কথাটা বলে ওয়াশ রুমে চলে গেলো ফারহান।
যেরকম মা ছেলেকে ভালোবাসে। সেরকম ছেলে মাকে ভালোবাসে।
.
.
কি রে নিশাত গেলো কোথায়। রুমে তো ছিলো।
---নিশাত,,, এ নিশাত,,,
.
কোন সাড়াশব্দ নেই। রেখা বেগম টেবিল থেকে উঠে রুমের ভেতর চলে গেলো।
ঘরের ভেতর গিয়ে দেখে নিশাত নেই। কোথায় গেলো মেয়েটা,,?
---নিশাত,,,
.
নিশাত সিঁড়ির উপর থেকে বলে উঠলো,
---জ্বী বড়আম্মু,,,
---কোথায় তুই,,,?
---এই যে আসতেছি,,,
.
নিশাত রুমের ভেতর গিয়ে দেখে রেখা বেগম টেবিলে আঁচার নিয়ে বসে আছে।
---কি রে মা কোথায় গিয়েছিলি,,,?
---ছাঁদে গিয়েছিলাম।
---কেনো,,,? 
---এমনি গিয়েছিলাম। 
---সন্ধ্যার সময় ছাঁদে থাকতে নেই। আর ছাঁদ ভালো না। ভুত আছে তো।
---আমি এসব ভয় পাই না।
---আচ্ছা এই তেঁতুলের আঁচার খা। ভালো লাগবে।
---আচ্ছা দাও,,,
দুজনে আঁচার খেতে লাগলো।
---বড়আম্মু চাচ্চু কখন আসবে,,?
---৭ টার সময়,,,তুই আঁচার খা এর মধ্যে চলে আসবে। 
.
.
রাত প্রায় ১২টা। ঘুমের ঔষুধ নিয়ে হাঁটতেছি বাসার দিকে। আজকে হাঁটতে খুব ভালো লাগছে। 
কিছুক্ষন হাঁটার পর চোখটা আটকে যায় ব্যাস্ত রাস্তায়। পাশ ধরে হেটে যাচ্ছে দুটি ছেলে। বয়স কতই বা হবে? বড়জনের ১৯-২০ আর ছোটজনের ১৮-১৯। দুজনের হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। রাস্তার নিয়ন আলো তৈরি করেছে এক রহস্যময় পরিবেশ। যে পরিবেশে সব কিছু অচেনা লাগে। মাঝে মাঝে দু-একটি গাড়ি চলে যাচ্ছে, দুরপাল্লার বাসগুলো কিছুক্ষন পর-পর তাদের যাত্রী নামিয়ে দিয়ে চলে যাচ্ছে, রিক্সাওয়ালাগুলোও ঝিম ভেঙ্গে ঘুম-ঘুম চোখে যাত্রীর আশায় তাকাচ্ছে। যান্ত্রিক কোলাহল যেন অবসাদ গ্রস্থ হয়ে কিছুক্ষন বিশ্রাম নিচ্ছে। এরই মাঝে হাটছে তারা, তার পিঁছনে হাঁটছে ফারহান। মাঝে মাঝে নিকোটিনের ধোঁয়ায় বুকের শুন্যস্থানগুলো পূর্ণ করে নিচ্ছে তাদের । সেটা চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে না। 
.
বাসায় থেকে অনেকবার ফোন দিয়েছে মিজান সাহেব (ফারহানের বাবা) । ফারহান ফোন রিসিভ করে বলে "বন্ধুদের সাথে আছে। তারপর আর কিছু বলে না মিজান সাহেব। তখন ওপাশ থেকে বলে উঠে,,
---"তাড়াতাড়ি বাসায় আয়। তোর আম্মু টেনশন করছে। তখন ফারহান বলে উঠে, 
---"ঠিক আছে। তাড়াতাড়ি করে আসতেছি।
.
ফারহান বাসায় এসে শুয়ে পড়ে রুমে গিয়ে। 
গভীর রাত,চারিদিকে সুনসান নীরবতা। কানে হেডফোন সাটিয়ে উচ্চশব্দে গান শুনছে ফারহান। সর্বোচ্চ লেভেলে গান বাজছে তবুও আর একটু বাড়ানোর ব্যার্থ চেষ্টা করলো। মানুষের চাহিদা একটা গণ্ডীর মধ্যে আটকে থাকলে সে স্বাধীনতা চাই, সীমা নির্ধারণ করে দিলে তা অতিক্রম করতে চাই। ফারহান তাই করার চেষ্টা করলো,কিন্তু সম্ভব হলোনা।
হঠাৎ গুমোট ভাব লাগার কারন বুঝতে, গান বন্ধ করে ফ্যানের শব্দ শুনার চেষ্টা করে ফারহান। না ফ্যান চলছে, শব্দ শুনার পর গুমোট ভাবটাও চলে গেছে খেয়াল করলো ফারহান । তাহলে হঠাৎ করে এমন গরম লাগলো কেন?
হতে পারে ব্যাপারটা স্নায়ুবিক, কিন্তু শব্দ শোনার সাথে গুমোট ভাব চলে যাওয়া বা আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে যাবার কারন বুঝতে পারছেনা ফারহান ।
আজকাল কি ইন্দ্রিয়গুলোও ফাকি দিচ্ছে ভাবতে থকে ফারহান। নাহ, এটা নিয়ে ভাবা যাবেনা।কার্যকরণ না পেলে হয়তো আজ রাতটা অনিন্দ্রায় কেটে যাবে। কি লাভ ভেবে, কার্যকরণ নিয়ে চিন্তা করে।
.
ফারহান ঘরে বসে আছে নিজের ঘরে। আজ আকাশ টা মেঘলা এলোমেলো বাতাস বয়ছে। হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে পুরানো সব দিনে, জানি পারবনা তবু স্মৃতিতে তো নিজেকে হারাতে পারি,,,,।
.
.
.
.
চলবে,,,,

No comments:

Post a Comment