Wednesday, August 21, 2019

বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (৫ম পর্ব)

ওয়াশরুমের ভেতরে ঢুকে চৈতী "ভাইয়া,,, আর মমতা রহমান ফারহান বলে চিৎকার দেয়।
ফারহান চিত হয়ে শুয়ে আছে। শাওয়ার চালু ছিল। শাওয়ারের পানি শরীরের উপরে পড়ছে।
চৈতী শাওয়ার বন্ধ করে দিল।
---ফারহান,,, বাবা ফারহান,,,, (কেঁদে কেঁদে)
---ভাইয়া,,এই ভাইয়া কথা বল। (কেঁদে কেঁদে)
---ফারহান বাবা আমার কথা বল,,,
---জব্বার চাচা তাড়াতাড়ি আব্বুকে ফোন দিয়ে ডাক্তার নিয়ে আস্তে বলুন। (কেঁদে)
---জ্বী চৈতী মা,,,আমি ভাইজানরে ফোন দিতাচি,,,

.
মমতা বেগম ছেলেকে ধরে কেঁদে যাচ্ছে।
---আম্মু ভাইয়ার শরীর প্রচুর ঠান্ডা। ঠান্ডার কারণে ভাইয়া এরকম হয়েছে। তাড়াতাড়ি বিছানায় নিয়ে শরীর গরম করতে হবে। (কেঁদে)
---আমার ফারহানের কি হয়,,,,
---আম্মু,,,ও আম্মু,,,
.
মমতা বেগম জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
চৈতী কোনটাকে সামলাবে বুঝে উঠে পারছেনা!
---ভাইয়া,,,ওই ভাইয়া,,,আম্মু, ও আম্মু কথা বলো,,, জব্বার চাচা,,, (চিৎকার দিয়ে)
.
জব্বার ফোন রেখে দৌড়ে চলে আসে।
---চৈতী মা, কি হয়চে আবার ভাবি সাহেবের?
---আম্মু জ্ঞান হারিয়েছে। তুমি ভাইয়াকে বিছানায় শুয়ায়ে দাও। আর ভেজা কাপড় ছেড়ে শুকনো কাপড় পড়িয়ে দাও। আমি আম্মুকে দেখছি,,,
---আচ্চা, আমি ফারহানকে লইয়া যাইতাচি,,, ভাইজানকে ফোন করচি। তাড়াতাড়ি আইতাচে ডাক্তার নিয়া।
.
জব্বার চাচা ফারহানকে নিয়ে রুমে যায়। এদিকে চৈতী কাঁদছে আর মায়ের মুখের পানি ছিঁটিয়ে দিচ্ছে।

একটুপর মমতা রহমানের জ্ঞান ফেরে।
---আম্মু,,,
---ফারহান,,, আমার ফারহান কই চৈতী?
---জব্বার চাচা ভাইয়াকে নিয়ে রুমে চলেগেছে।
.
মমতা রহমান অর্ধভাগ ভেজা কাপড় নিয়ে ছেলের রুমে চলে যাই কাঁদতে কাঁদতে। চৈতী কেঁদে কেঁদে মায়ের পিঁছনে পিঁছনে যায়।
.
জব্বার আলি লেপ, কম্বল ফারহানের উপরে দিয়ে হাতে তেল মালিশ করে , পায়ে তেল মালিশ করতে থাকে।
মমতা রহমান ছেলের কাছে বসে কাঁদতে থাকে। চৈতী ভাইয়ের হাতে তেল মালিশ করতে থাকে। শরীরটা বরফের মত ঠান্ডা হয়েছে। চৈতী কাঁদতে কাঁদতে মাকে বলে,
---আম্মু তুমি কেঁদ না! ভাইয়ার কিচ্ছু হয় নাই। প্লিজ তুমি শান্ত হও আম্মু।
---আমার ফারহান বাঁচবে তো চৈতী। (কেঁদে কেঁদে)
---ভাবি আমনে কাঁইনদেন না আর কোন চিন্তা হইরেন না। ফারহানের কিচ্চু হইবো না। সব টিক হইবো।
---আমার ফারহান তো কোন কথা বলছে না জব্বার ভাই। আমার ফারহানের কিছু হলে আমি বাঁচবনা,,,
.
কথাটা বলে মমতা রহমান অঝরে কাঁদতে থাকে। অনেক ভেংগে পড়েছে মমতা রহমান। ছেলেকে যে প্রচন্ড ভালোবাসে মমতা রহমান । ছেলেও মাকে প্রচন্ড ভালোবাসে।
---ভাবি আমনে আল্লাহুকে ডাকেন। তিনি সুস্থ করে তুলবে।
---আম্মু তুমি এতো ভেংগে পড়না। ভাইয়া ঠিক সুস্থ হয়ে যাবে দেখ।
---আমাকে শান্তনা দিস না চৈতী। আমি জানি আমার ফারহান কথা বলবেনা,,,
.
কথাটা বলে মুখে কাপড় দিয়ে কাঁদতে থাকে মমতা রহমান। চৈতী কাঁদছে আর তেল দিয়ে হাতে, বুকে মালিশ করে গরম করে দিচ্ছে। জব্বার আলি পায়ে তেল দিয়ে মালিশ করে দিচ্ছে।
পুরো শরীর বরফের মত ঠান্ডা হয়ে আছে। কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। মুখটা ফেঁকাসে হয়ে গেছে। আরও মায়ের রুমে থেকে কম্বল এনে ফারহানের শরীরের উপর দেয়। যাতে তাড়াতাড়ি শরীর গরম হয়ে যাই।
---চৈতী তোর বাবাকে ফোন দিয়ে তাড়াতাড়ি আসতে বল। আমার ভালো লাগছে না। খুব অস্থির অস্থির ঠেকতেছে।
---আম্মু তুমি খামাক্ষা টেনশন করছো খালি। বলছি ভাইয়ার কিচ্ছু হয় নাই।
---তুই বুঝবিনা মা। ফারহান আমার নারি ছেরা ধন। ছোটবেলা কত কষ্ট করেছে সেটা জানিস না।
.
মমতা রহমানের এমন কাঁন্না দেখে চৈতী আর কিছু বললো না।
জব্বার আলি চৈতীকে বললো,
---চৈতী মা ভাইজানকে তাড়াতাড়ি কইরা ডাক্তার নিয়া আইতো কও। ফারহানের অবস্থা ভালো না। তাড়াতাড়ি কইরা ডাক্তারকে দেহানো লাগবো।
---আমার ফারহান আর বাঁচবে না জব্বার ভাই।
---ভাবি টিনশন কইরেন না। বেশি করে আল্লাহুকে ডাকেন।,, চৈতী ফোন দিয়েছো,,,?
---আব্বুরে ফোন দিয়েছি। ৫ মিনিটের মধ্যে এসে পড়বে বলছে।
---আমি কথা বলবো। আমাকে ফোনটা দে চৈতী,,,
---এই নাও কথা বলো,,,
.
---তুমি কোথায় আছো? তাড়াতাড়ি এসো আমার ফারহান কথা বলছেনা। (কেঁদে কেঁদে বললেন মমতা রহমান)
---তুমি শান্ত হও মমতা। আমি ৫ মিনিটের ভেতর আসতেছি। (ফারহানের বাবা)
ফোনটা চৈতীর কাছে দিয়ে দেয় মমতা রহমান।
---হ্যালো,,, আব্বু,,,
---শোন তোর মাকে বুঝা কিচ্ছু হইনি ফারহানের। প্রেসার ডাউন হলে আবার মহা বিপদ হবে।
---তুমি কোন চিন্তা কর না আব্বু। তুমি তাড়াতাড়ি এসো আব্বু। আমি মাকে সামলাচ্ছি,,
---আচ্ছা,,,
.
ফোন কেঁটে দিল মিজান সাহেব (ফারহানের বাবা)।
.
.
---নিশাত,,, এই নিশাত,,
---জ্বী, আম্মু,,(রুমের ভেতর থেকে)
---আমার ফোনটা একটু দিয়ে যা তো মা।
---কেনো?
---কে যেন ফোন দিয়েছে।
---আচ্ছা দিচ্ছি,,
.
নিশাত রুম থেকে বের হয়ে মায়ের রুম থেকে ফোনটা নিয়ে কিচিনে চলে গেলো।
---কিরে মা দেখতো কে ফোন দিয়েছে ।
---আব্বু ফোন দিয়েছে।
---কল ব্যাক কর। আর আমার কানের কাছে ধরে থাক।
---আম্মু আমি পারবো না।
---আমার হাত বন্ধ। সাহায্য কর তাহলে।
---ঠিক আছে। আমি সবজি কেঁটে রাখছি তুমি আব্বুর সাথে কথা বলো।
---আচ্ছা এই নি,,, দেখে কাটিস। হাত যেন না কাঁটে ।
---আচ্ছা, এই নাও আব্বু রিসিভ করেছে ফোন।
.
ফোনটা নিয়ে মাজেদা বেগম (নিশাতের মা),,,
---হ্যালো,,,
---ফোনটা কোথায় রাখ। ফোন দিলে ফোন ধর না। কাজের সময় ফোন ধর না। মাথাটা হট হয়ে যাই।
---হয়ছে এবার,, কি বলবা বলো। আমার হাতে অনেক কাজ।
---এই এতো সকালে কি কাজ তোমার আবার?
--- বড়ভাই আসবে নিশাতকে নিয়ে যেতে,,
---বড়ভাই,,,! নিশাতের ভার্সিটি।
---সেটা তোমার চিন্তা করতে হবে না । যেটার জন্য ফোন দিয়েছো সেটা বল,,!
---ও হ্যাঁ। ড্রয়ারে ভেতর একটা ফাইল আছে। রকিকে পাঠিয়ে দিচ্ছি। তুমি ওর কাছে দিয়ে দিয়ো।
---ঠিক আছে,,,
ফোনটা কেটে দিল আমজাত সাহেব।
মাজেদা বেগম আবার কিচিনে চলে গেলো,,,
.
.
মিজান সাহেব বসে আছে ফারহানের সামনে চেয়ারে । হাবিব চৌধুরী ( ডাক্তার) তিনি বিছানায় বসে আছে। চৈতী মায়ের কাছে বসে আছে বিছানার উপর পাশে ফারহানের কাছে। কেঁদে যাচ্ছে । জব্বার আলি দাড়িয়ে আছে খাটের কাছে।
হাবিব চৌধুরী (ডাক্তার) তিনি ফারহানকে কয়েকটা ইনজেক্শন দিয়েছে।
এন্টিভ্যায়োটিক মেডিসিন দিয়েছে।
---আম্মু তুমি কেনো কাঁন্না করছো। ডাক্তার আংকেল বললো তো কিচ্ছু হয় নাই। সব ঠিক হয়ে যাবে।
---ভাবি আর কোন ভয় নেই। আল্লাহ্ তায়ালা, সময় মতো আমাকে এনেছে। আর বুদ্বিমানের কাজ হয়েছে হাত,পায়ে তেল দিয়ে মালিশ করাতে শরীর কিছুটা গরম হয়েছে।
---আমার ফারহান আবার কথা বলতে পারবে তো ভাইজান।
---ভাবি আপনি কোন টেনশন করবেন না। একটু ধেরি হলে আজকে একটা বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতো। আল্লাহ তায়ালা সেই দুর্ঘটনা থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
---মমতা আর কোন টেনশন নেই। তুমি এবার শান্ত হও। আবার তোমার প্রেসার ডাউন হবে। (ফারহানের বাবা)
---আমার কিছু হবেনা। শুধু আমার ফারহানকে বাঁচিয়ে দাও।..... ফারহান কখন কথা বলবে ভাইজান।
---কিছুক্ষণের মধ্যেই শরীর ঠিক হয়ে যাবে। শরীরটা গরম হলে সব ঠিক হয়ে যাবে।
---আংকেল, হাত, পায়ে কি আরও তেল দিয়ে মালিশ করে দিব।(চৈতী)
---না মামনি। সেটা আর দরকার নেই। এন্টিভ্যায়োটিক ইনজেক্শন দিয়েছি এতে কাজ হবে।
---হাবিব মেডিসিন খাওয়াতে হবেনা। (মিজান -ফারহানের বাবা)
---যেটা হয়েছে এটার জন্য মেডিসিন খেলে চলবে। না খেলে চলবে। ইনজেক্শনে কাজ হয়ে যাবে। তবে মাথায় ব্যথা পেয়েছে আর ডান হাতে ফুঁলে গেছে সেটার সাথে কিছু মেডিসিন লিখে দিচ্ছি সেগুলি খাওয়ালে শরীরটা ভালো হবে তাড়াতাড়ি।
---যেটা ভালো হয় সেটা কর। আর,, জব্বার ভাই।
---জ্বী, ভাইজান,,,(জব্বার)
---তুমি হাবিবকে এগিয়ে দিয়ে এসো।
---জ্বী, আইচ্চা।
---মিজান,,,(হাবিব)
---বল,,,
---একটু ওইদিকে চল। কিছু কথা আছে তোর সাথে। (আস্তে করে)
.
হাবিবের (ডাক্তার) কথাটা শুনে মিজানের মুখ ফেঁকাসে হয়ে গেলো। ভাবতে থাকে "কি এমন কথা। যেটা এখানে বলা যাবে না।
---আরে চল,,,
.
মিজান সাহেব হাবিবের সাথে বেলকুনিতে চলে গেলো।
.
মমতা রহমান ছেলের হাঁত ধরে বসে আছে। চোখে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।
---চৈতী মা,,,
---আম্মু বলো।
---ফ্রিজে দুধ রাখা আছে। সেটা বের করে গরম করে আন তো।
---আচ্ছা তুমি বসে থাকো আমি দ্রুত গরম করে আনছি।
.
চৈতী চলে গেলো। জব্বার সাহেবের মুখে ও সবার মুৃখে বিষ্মতার ছাপ। কারণ, ডাক্তার এসে যেটা বলেছে সেটা শুনে সবাই অবাক হয়। আর অবাক হওয়ার কথা। মমতা রহমান তখন হাঁও, মাঁও করে কেঁদে উঠে ডাক্তারের কথা শুনে।
---জব্বার,,
---জ্বী,, ভাইজান।
---তুমি ডাক্তারকে এগিয়ে দিয়ে এসো।
---আইচ্চা।
---ব্যাগটা নাও,,,
.
জব্বার আলি ডাক্তারের ব্যাগটা নিয়ে ডাক্তারের সাথে চলে গেলো এগিয়ে দেওয়ার জন্য।

মমতার পাশে গিয়ে মিজান সাহেব বসে পড়ে। মিজান সাহেবও কম ভালোবাসে না ছেলেকে। কিন্তু, তার চোখ দিয়ে পানি বের হয় নাই। যাকে বলে পাথরের মত মন। কিন্তু, ভেতরে খুব কেঁদেছে। সেটা এক মাত্র আল্লাহ তায়ালা জানে।

প্রায় প্রত্যেক পুরুষ মানুষ তারা কাঁদতে পারেনা মেয়েদের মত। মেয়েরা তো কেঁদে কষ্ট কমাতে পারে। কিন্তু, পুরুষেরা সেটা পারেনা। শত কষ্ট সয়ে সবার সামনে নিষ্ঠুর, পাথরের মত হয়ে থাকে। না পারে হাঁও, মাঁও করে কাঁদতে। না পারে কষ্টটা কাউকে বলতে।

মমতা রহমান স্বামীর বুকের মাঝে মাথা গুজে দেয়। বলে উঠলো,"ফারহানের কিছু হলে আমি বাঁচবনা, আমি বাঁচবনা! কথাটা বলে আবারও কেঁদে দেয়। মিজান সাহেব আর থাকতে না পেরে সে দুচোখের পানি ছেড়ে দেয়।
.
একটু পর ফারহান চোখটা খুঁলে দেখে পাশে মা-বাবা বসে আছে। অন্যপাশে তার বোন চৈতী বসে আছে। আর মাথার কাছে জব্বার আলি দাঁড়িয়ে আছে। মিজান সাহেব কয়েকবার জব্বারকে বসতে বলেছে। কিন্তু, জব্বার আলি বললো সে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে।
---আম্মু,, আমি এখানে কেনো...?
---এখন কেমন লাগছে বাবা,,,
---তুমি কাঁদছো কেনো আম্মু,,, আমার কি হয়েছে? ,, আর সবাই এখানে?
---আচ্ছা পরে বলছি।
---আম্মু আমি এখানে কেনো? আমি তো ওয়াশরুমে ছিলাম।
---আচ্ছা এখন এই দুধ টুকু খেয়ে নি। তোর কোন কিছু জানতে হবেনা এখন।
---আমার খেতে ভালো লাগছেনা আম্মু।
.
মমতা রহমান জোর করে দুধ টুকু খাওয়ায়ে দিল ফারহানকে ।
শরীরটা ঝিম ঝিম করছে। হাত উুঁচু করতে পারছেনা। হাতে প্রচন্ড ব্যথা পেয়েছে।
---বাবা ফারহান কেমন করে পড়ে গেলি? (মমতা রহমান)
---এখন সুস্থ হতে দাও। পরে সেটা জিজ্ঞেস করতে পারতে। (মিজান সাহেব)
---আচ্ছা ঠিক আছে বাবা তুই একটু রেশ নি।
---আমি ঠিক আছি আম্মু,, এখন সব মনে পড়েছে।
শাওয়ার বন্ধ করার সময় শরীরে প্রচন্ড শীতের কারণে, হাত দিয়ে বন্ধ করতে হাত ফঁসকে পড়ে যাই। পড়ার পর মাথায় আর ডান হাতে ব্যথা পায়। তারপর আর কি হয়েছে মনে নাই।
.
কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলতে থাকে তারা।
মমতা রহমান এখন খুব খুশি। ছেলে কথা বলেছে। সে কি না ভয়ডা না পেয়েছিল।
,
বিকালে আরও সুস্থ হয় ফারহান। বারান্দায় গিয়ে বসে থাকে। কিন্তু, মাথায় আর ডান হাতের ব্যথা কমে নি।
আজকে তার সব চেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে।
সন্ধ্যা হওয়ার আগে রুমে চলে যায়।
.
রাতে খাবার খেতে ইচ্ছুক না। মমতা রহমান জোর করে খাওয়ায়ে দিয়ে ঔষুধ খাওয়ায়।
আজ ফারহান তাড়াতাড়ি ঘুুমিয়ে পড়ে। মমতা রহমান পাশে বসে থাকে,,,
.
.
ওদিকে নিশাত আজ খুব মজা পেয়েছে । বড়আম্মু তাকে অনেক মজার মজার গল্প শুনিয়েছে।
রাতে খেয়ে শুয়ে গল্প শুনতে থাকে বড়আম্মুর কাছে।
নিশাতের আংকেল অন্য রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ে।
কিছুক্ষণ গল্প শুনতে শুনতে কখন যে ঘুুমিয়ে পড়ে নিশাত সেটা লক্ষ করে নাই নিশাতের বড়আম্মু।
নিশাতের বড়আম্মু চাঁদর গায়ের উপর দিয়ে একটা চুমু দেয় নিশাতের কপালে । তারপর বাথরুমে চলে যায় নিশাতের বড়আম্মু।
.
---আপনি ,,,,! আপনি এখানে,,,(নিশাত)
---হুম আমি। কেনো এখানে আসা যাবে না বুঝি। (ফারহান)
---আপনি কেমন করে জানলেন আমি এখানে এসেছি,,,?
---হাহাহাহা,,, (অট্ট হাসি)
---হাসছেন কেনো?
---কারণ, যাকে ভালোবাসি সে পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে থাকুক না কেনো। ভালোবাসার টানে খুঁজে বের করে। সেরকম আমিও খুঁজে বের করেছি।
---What,,,! আপনি এসব কি বলছেন?
---হুমম। যেটা শুনেছেন সেটাই বলেছি,,,
---আমি আপনাকে ভালোবাসিনা। আমি আপনাকে ঘৃণা করি। I Hate You,,,
.
কথাটা বলে নিশাত পাশ কেঁটে চলে যেতে লাগলো। তখন ফারহান নিশাতের হাতটা ধরে ফেলে।
---হাত ছেঁড়ে দিন বলছি,,,
---না ছাঁড়লে,,,
---আংকেলকে ডাক দিব।
---দাও ডাক। আমি কি ভয় পাই নাকি।
---হাত ছেঁড়ে দিন বলছি,,, ভালো হবেনা কিন্তু,,,
---দেব না,,,
---তোকে আমি ভালোবাসি না। তোকে আমি ঘৃণা করি। তুই হাত ছেঁড়ে দে বলছি।
---তোমার মুখ থেকে আমি ভালোবাসি কথাটা বের করবো আজ,,,
---তোর মা-বাবা এই শিক্ষা দিয়েছে,,,একটা মেয়ে যাকে ভালোবাসেনা, ঘৃণা করে তাকে জোর করে। তার মুখ থেকে ভালোবাসা কথা শুনতে চাস,,,। (রেগে)
---মা-বাবাকে নিয়ে কথা বলবে না বলে দিচ্ছি।(চোখ গরম করে)
---বলবো, একশবার বলবো,,, হাজার বার বলবো। তুই কি করবি,,,
---ঠাসসসসসসসসসস,,,,,
.
.
.
.
চলবে,,,,

No comments:

Post a Comment