Wednesday, August 21, 2019

বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম ( ১৩তম পর্ব)

জানালার পাশে চায়ের কাপ হাতে বসে আছে ফারহান।সামনে গল্পের বই।
পড়ন্ত বিকালের আবহাওয়া একদম অতুলনীয়। কি বাতাশের ঘ্রাণ,,!
মুগ্ধ হয়ে বাতাশের ঘ্রাণ শুকা একধরনের অনুভূতি প্রকাশ প্রায়। সেটা হয়তো সবাই বুঝতে পারে না।

চায়ের কাপে একটু চুমুক দিয়ে চোখটা বুঝে একটা কড়া নিঃশ্বাস নেয় ফারহান। নিঃশ্বাসবন্ধ করে বাতাশের ঘ্রাণ, আকৃত্রি, কালার, স্বাদ, গন্ধ বোঝার চেষ্টা করলো,,,!
কিন্তু, ফারহান কোন বিশেষ বা বিখ্যাত ব্যক্তি না হওয়াতে কিছুই বুঝতে পারে নাই। শুধু এটাই বুঝতে ও অনুভব, অনুভূতি করতে পারছে, বাতাশের একটা তিব্র শক্তি, শক্তিগড়, শক্তিবল কিছু একটা আছে। যা ভেতরে প্রবেশ করার সাথে সাথে মানুষের মন, রক্তকোষ, রক্তকমল, মনমানসিকতা সুন্দর করে দেয়। নিমেষে সব ক্লান্ত অবসাদ দূর করে দেয়। একটা অনুভূতি জাগিয়ে দেয়।

ফারহান চায়ের কাপে চুমুক দিতে মমতা বেগম রুমে ঢুকে পড়ে। ছেলেকে জানালার পাশে চা খেতে দেখে মমতা রহমান মৃধু হেসে দিয়ে এগিয়ে যায়।
ফারহান বুঝতে পারে কেউ রুমের ভেতর এসেছে। পিছন ঘুরতে দেখে মা।
---আম্মু চা খাবে,,?
.
মমতা রহমান ছেলের কথা শুনে একদম আনন্দে মেতে উঠলেন।
---উমম খাওয়া যায় এক কাপ যদি তুই নিজে না বানিয়ে দিস বউ বানাতো।
---কি,,! বউ আসলো কোথা থেকে,!
---কত করে বলছি চাকরি কর, তারপর বিয়ে কর।
---আম্মু আব্বুকে বল আমি চাকরি করবো।
---আব্বুকে বলবো মানে।
---এতদিন যে তোমরা বলতা শফিক আংকেলের ওখানে চাকরি কর।
---ও,,তুই কি সিরিয়াসলি বলছিস বাপ।
---হুমম।
---আলহামদুলিল্লাহ্,,! আল্লাহ তায়ালা তাহলে আমার দোয়াটা কবূল করেছে।
---তুমি প্রতিদিন দোয়া করতে আম্মু।
---হুমম।
---তুমি আমার বেষ্ট মম,,,
---হয়ছে হয়ছে আর ছেলেমানুষি করতে হবে না।
---চা খাবে না আম্মু,,!
---সেদিনই চা খাব যেদিন তোর বউ আমাকে বলবে "আম্মা এই নিন আপনার চা। খেয়ে দেখুন তো চিনি ঠিক আছে কিনা । আমি তখন বলবো, তুমি আবার চা বানাতে গেলে কেনো। আমি আছি না। তখন বলবে, না আম্মা,,! এখন থেকে আমি প্রতিদিন চা বানিয়ে দেব। এখন খেয়ে দেখুন চা'য়ে চিনি ঠিক আছে কিনা। তখন আমি বউমার থুতনি ধরে বলবো, আমার মিষ্টি বউমা যখন বানিয়েছে তখন তো সব ঠিক হবে।
---আর ওমনি লজ্জা পেয়ে যাবে তাই না আম্মু,,, এখন স্বপ্নের সানগ্লাস ছেড়ে বল ব্যস্তবে আসো,,,।
---তুই কি বুঝবি স্বপ্নের সানগ্লাস,,,,
---বাহ্, বাহবা,,,এখন চা খেতে পার।
---চা কি আমি বানাবো,,,,।
---বারে চা কি তোমাকে বানিয়ে খেতে বলছি নাকি। তুমি শুধু বল, আমি বানিয়ে আনছি Fast to Fast,,,,
---Ok my dear son,,,,
---হাহাহাহা,,,
---মশা দৌড় দিবে রে তোর মুখের ভেতর বুইড়া,,,এখন দয়া করে মুখখানা বন্ধ কর,,,,হিহিহিহিহিহি,, (চৈতী রুমের ভেতর ঢুকতে ঢুকতে বললো কথাটা)
---হাহাহাহা,,,,
---আম্মু একদম হাসবানা বলে দিচ্ছি,,,,
---হাহা,,,না হেহেহেসে পারি বল,,,
---আম্মু জোরে জোরে হাসো,,,
---ডাইনি বিলাই,,,,
---যা যা কাজের পোলা চা নিয়ে আয়। আমি আর আম্মু খাব।
---তোর কপালে চা নাই কুটনি বিলাই,,,,,
---আম্মু দেখছো ভাইয়া জিব্বাহ্ বের করে আমাকে রাগাচ্ছে।
---কুটনি বিলাই,,,
---কাজের বুয়া,,, থুক্কু কাজের পোলা,,,
---তুই তো দত্তক মাইয়া,,,
.
ফারহান কথাটা বলে ভোঁ দৌড় দেয় কিচিনের দিকে।
---কি রে পালাস ক্রে,,, সাহস থাকলে সামনে আয়। তোর ঘাড় মটকাবো,,,,আর তুমিও হাসছো আম্মু হ্যাঁ,,,(রেগে)
---আচ্ছা আচ্ছা স্যরি,,,,
---আবার,,,
---ওকে,,,
---ভাইয়াকে কথাগুলি বলেছিলে।
---হ্যাঁ,,,
---ভাইয়া কি বললো,,?
---ও বললো স্বপ্নের সানগ্লাস ছেড়ে বাস্তবে আসতে।
---তখন তুমি ভাইয়াকে কি বললে,, ঠিক আছে তোর যা ইচ্ছে তাই কর। আমি জানি তাই বলবা। তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না।
---তুই তো জানিস ওর উপরে চোখ গরম করে কথা বলতে পারি না।
---ঠিক আছে। যা করার আমি করছি এখন,,,
---কাকে ফোন করিস,,
---দেখ তুমি।
---ফারহানকে মারবি নাকি লোক ভাড়া করে।
---আম্মু এসব কি বলো। সেদিনের কথা ভুলে গেলে।
---ওহ্! আমার মনে নাই।
---দেখ আমি কি করি,,,
.
ফোন রিং বেজে কেটে গেলো। ফোন রেখে যে কি করে আল্লাহ তায়ালা জানে।
---হ্যালো,,,
---ফোন রেখে কোথায় ছিলে,,, আচ্ছা বাদ দাও,,, কোথায় তুমি,,,?
---বারান্দায় ছিলাম,,,এখন রুমের ভেতর।
---ভাইয়া ফার্মেসির দোকানে যাবে। তুমি যতদ্রুত রেডি হও।
---ওকে,,
---আল্লাহ্ হাফেজ।
---আল্লাহ হাফেজ,,,।
.
নিশাত ফোনটা রেখে দ্রুত ওয়াশ রুমে চলে গেলো।
.
ফারহান চট করে চা বানিয়ে নিয়ে আসে।
এক কাপ মাকে দিয়ে ফারহান নিজে এক কাপ নেয়। তারপরে এক কাপ টেবিলে রেখে দেয়।
---আম্মু ভাইয়াকে চা দিতে বলনা,,।
---আম্মু কোন চুন্নিবিল্লির জন্য চা নাই।
---আম্মু কি বলছে এসব,,,
---হয়ছে হয়ছে এবার থাম। ফারহান মজা করছে। তোকে ছাড়া কখন নিজে খেয়েছে।
---এখন তো ঠিকি খাচ্ছে।
---তোর সাথে মজা করছে বলে।
---আমার চা খেতে হবে না। তোমার ছেলের চা তুমি খাও,,,
.
কথাটা বলতে বলতে চৈতী বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো।
---ফারহান দিয়ে দে চা। রেগে গেলে তুই কষ্ট পাবি তখন।
---এই নি চুন্নিবিল্লি তোর চা,,,
---খাব না,,, (অভিমানি সুরে)
---খাবি না,,,
---নাআআআআআ,,,,
---আমি খাব কি,,,
---খাইলে তোর খবর আছে।
---হাহাহাহা,,,
---আবার হাসোস,,,
.
ফারহান চৈতীকে রাগানোর জন্য বিকট আওয়াজে হাসতে থাকে।
----হাহাহাহাহাহাহাহাহাহা,,,, হিহিহিহিহিহি,,,
---মুখ বন্ধ কর। না হলে মশার দল ঢুকে যাবে দলবল সহ।
---আম্মু টাকা দাও,,,
---আমার রুমে আয়।
.
মমতা রহমান ছেলেকে নিয়ে রুমে যায়। ঔষুধ আনতে হবে। দুপুরে ফারহানের বাবাকে আনতে বললে মনে না থাকায় আনে নাই। তাই ছেলেকে দিয়ে ঔষুধের জন্য ফার্মেসি দোকানে পাঠানো হচ্ছে।
.
.
মাজেদা বেগম মেয়েকে সাজগোজ দেখে বলে উঠলো,
---কি রে তোর কি হয়েছে,,,? ইদানিং খুব সাজগোজ করছিস,,। কোথাও বের হচ্ছিস নাকি,,?
---আম্মু আমাকে কেমন দেখাচ্ছে।
.
নিশাত কানে দুল পড়তে পড়তে আয়না থেকে পিছন ফিরে তাকায় মায়ের দিকে।
মেয়ের ওমন কথা শুনে কিছুই বুঝতে পাড়লো না। মেয়েটার কি যে হয়েছে,,,হঠাৎ করে সাজগোজ করে বের হয়।
---তুই তো এমনিতে সুন্দরী। এই কথাটা কি আবার বলতে হয়।
---আম্মু যেটা বলছি সেটা বলো না প্লিজ,,,। আমাকে কেমন লাগছে,,,?
---বাহ্ আজকে সত্যি সত্যি পরীর মত লাগছে।
---আম্মু টিঁপের পাতা কোথায়,,,?
---নিশাত তুই তো ফেলে দিলি সেদিন। হাদিস শুনে বললি, আম্মু টিঁপের পাতা ফেলে দিবা আজকে। তোমার দিতে হবে না। আমি এখনি দিচ্ছি।
---ওহ্! আমার মনে নাই আম্মু। যে, টিপ ব্যবহার করা ইসলামে হারাম।
---তা কোথায় যাচ্ছিস,,,?
---এসে বলবো। আল্লাহ হাফেজ।
---ছাতাটা নিয়ে যা। কখন যে বৃষ্টি নামবে সেটার ঠিকঠিকানা নেই।
.
কথাটার শোনার আগে নিশাত রুম হতে বের হয়ে যায় দ্রুত।

নিশাত হাতে থাকা ফোনটা অনেক বাজার পর রিসিভ করলো,
---হ্যালো,,,।
---কতবার ফোন দিচ্ছি তোমাকে দেখ তো,,।
---আরে আম্মু ছিল পাশে, তাই ধরতে পারি নাই। আচ্ছা বাদ দাও,,, তোমার ভাইয়া কোথায়?
---রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে।
---মানে,,, বাইক নিয়ে যাচ্ছে না।
---না,,। বাইক নিয়ো গেলে তোমাকে নিয়ে যাবে বল। আর বাইকের কি যেন সমস্যা হয়েছে। কাল আনবে।
---ও আমার খেয়াল ছিলনা।
---একদম উল্টাপাল্টা কিছু কর না আবার।
---এসব কি বল,,।
---আরে নিশাত বলছি, উল্টাপাল্টা মানে, ভাইয়ার অপছন্দীয় কিছু কর না।
---ও,,, আমি,,, আচ্ছা যাইহোক আমি ফোন রাখছি।
---দেখে যেও,,,
---হুম,,
.
ফোন কেটে চৈতী মনে মনে বলে উঠলো, আল্লাহ তায়ালা ভালো জানে কি ঘটবে ।
.
নিশাত গেট দিয়ে বের হয়ে দেখে যে ফারহান দাঁড়িয়ে আছে। বোধহয় গাড়ির জন্য। আমি একটু ভাব নিয়ে কাছাকাছি দাঁড়িয়ে রইলাম।

ফারহান পাশে তাকিয়ে দেখে নিশাত। ফারহানের তাকানো দেখে নিশাত একটু ভাব নিয়ে ফোনটা বের করে।
মেয়েটা দেখতে খুব সুন্দরী। একদম পরীর মত। চোখে গাড় কাজল,,। মিষ্টি কালার শাড়ি,,। কানে, হাতে, ম্যাসিং করে দুল, চুড়ি পড়েছে। গলায় শুরু চেন। দেখতে একদম পারফেক্ট। যে কেউ প্রেমে পড়বে। না,না আমি এসব কি ভাবছি,,!
---এই যে মিঃ হা করে তাকিয়ে কি দেখছেন,,,? বুঝি সুন্দরী মেয়েদের এমন ভাবে তাকিয়ে থাকেন,,?
.
নিশাতের কথায় ফারহান একটু লজ্জায় লাল হয়ে যায়। সেটা দেখে নিশাত মুখ টিপে হাসছে।
---হ্যালো মিঃ,,,কি ভাবছেন হুম,,?
---কিছুনা,,, (একটু দ্রুততায় বললো ফারহান।)
---ও,,,আচ্ছা,,,
.
ফারহান আর কিছু বললো না। সে আর নিশাতের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে তাকালো। নিশাত সেটা দেখে আরও মুখ চেপে হাসলো। একটা ছেলে কতরকম,,!
.
৫ মিনিট হয়ে গেলো কোন রিক্সা নেই। কি আশ্চর্য ব্যাপার,,! কোন কোন সময় একটু পর পর গাড়ি আসে। আজ কোন গাড়ি নেই। নিশাত গাড়ি না থাকায় নিশাতের ভালো লাগছে । খারাপ না। ফারহানকে ভালো করে দেখছে কাছে থেকে।

ফারহান মনে মনে বলে উঠলো, মেয়েটা কি বজ্জাত রে বাবা। সেই কখন থেকে তাকিয়ে আছে। আর আমি একটু তাকিয়েছিলাম আর তখন কি বললো,,,
---এই যে মামা,,,,
---এই যে মামা,,,
.
একটা রিক্সাওয়ালাকে দেখে দুজনে একসাথে বলে উঠে। রিক্সাওয়ালা গাড়ি থামালো সেখানে।
ফারহানের কাছে থামাতে ফারহান আগে উঠলো। নিশাত এগিয়ে এসে বললো,
---ওইদিকে সরে বসুন,,
---সরে বসুন মানে,,,?
---আমি রিক্সাতে যাব,,,
---হোয়াট,,,
---যেটা শুনেছো সেটাই বলেছি,,,। সরে বসুন।
.
কথাটা বলতে বলতে নিশাত রিক্সাতে উঠে পরে। ফারহান বাধ্য ছেলের মত সরে বসে। নিশাত রিক্সাওয়ালা চাচাকে বললো,
---এই মামা চলুন,,,
.
পাশ থেকে ফারহান বলে উঠলো।
---মামা যাবেন না।
---যাবেন না মানে।
---আমি তোমার সাথে যাব না। আমি একাই যাব।
---আমার সাথে যাবে না মানে।
---তুমি একা যাও,,,আমি রিক্সা ডাক দিয়েছি সো আমি একাই যাব।
---কিহ্ আমি ডাক দেই নি। আমি আগে ডাক দিয়েছি। সো আমি যাব।
---নো, আমি আগে ডাক দিয়েছি।
---নো,, আমি,,
---নো,,
---আচ্ছা ঠিক আছে দুজন একসাথে যাব।
---না,,। আমি কখন তোমার মত মেয়ের সাথে যাব না।
.
দুজনের ঝগড়া দেখে রিক্সাওয়ালা বলে উঠলো,
---আম্নেরা ঝগড়া কইরেন না।
---দেখছেন মামা। আমি আপনাকে প্রথমে ডাক দিয়েছি না,,?
---মামা আমি প্রথমে ডাক দিয়েছি না বলেন,,,?
---দুজন তো একসাথে ডাক দিলেন। কেডা আগে ডাক দিল বুঝবার পারি নাই।
---আমি আগে দিয়েছি,,।
---না, আমি দিয়েছি।
---ঠিক আছে,,একটা কাম করেন। দুইজনই চলেন।
---মামা যাব না।
---ক্যান,,? ম্যাডাম আপনের কিডা হয়।
---কিচ্ছু হয় না। আমাদের ভাড়াটিয়া,,।
---মামা ওর কথা বিশ্বাস করবেন না।
---আপনাদের কতা কিচ্চুই বুঝতাচি না,,,। আপনি বলছেন, ভাড়াটিয়া আর ম্যাডাম বলছে বিশ্বাস করবেন। হত্যি কইরা কন তো ম্যাডাম,, স্যার আপনের কে হয়,,?
---আমার বর,,,,
.
মুখ ফোঁসকে কথা বের হয়ে যায় নিশাতের। ফারহান অবাক হয়ে যায় কথাটা শুনে। নিশাতের দিকে রেগে তাকাচ্ছে। নিশাত একটু অবাক হয়েগেছে। কিন্তু, ফারহানের রিয়াক্ট দেখে হাসি পাচ্ছে খুব। ফারহানের মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে রেগে যাচ্ছে। মনে মনে কিছু বলছে।
---আপনের স্বওয়ামি (স্বামী) হয়। তা ঝগড়া করছেন ক্যান।
---আর কইয়েন না মামা। নতুন নতুন বিয়ে হলে আধটু তো মানঅভিমান হয় তাই না।
---হ,,! এটা তো হওয়ারি কতা। নতুন নতুন সবার হয় ম্যাডাম।
---তাই এখন ভাব করছে যে আমি তার কিছুই হই না। আমি বাড়ি চলে যাব কাল দেখ। আর কখনও আসবো না।
.
নিশাতের কথা শুনে ফারহান শুধু রেগে যাচ্ছে। মিথ্যে অভিনয় ভালো করতে পারে দেখছি।
---আর মন খারাপ কইরেন না। সব ঠিক হয়ে যাইবোগা। ছেলে মানুষ এরকমই হয়। আমিও এরকম ছিলাম। আপনেরা বসে থাহেন। কন কোনহানে যাইবেন। সেহানে নিয়া যাই।
.
---ফার্মেসির দোকানে।
রিক্সাওয়ালা গাড়ি চালাতে শুরু করলো।
নিশাত মনে মনে মহা খুশি। স্বপ্ন নাকি ব্যস্তব। সেটা বোঝার জন্য চিমটি কাটলে। চিমটি একটু জোরে হওয়াতে ব্যথা একটু শব্দ করে উঠে।
---কিচু হয়চে,,,
---না মামা কিছুনা।
---ও বুঝেছি। বোধহয় স্যার চিমটি মেরেছে।
---না মানে,,,
---আর কইতে হইবো না ম্যাডাম। এরকম আমিও করেচি।
.
নিশাত মনে মনে হেসে শেষ।
ফারহান রেগে ফায়ারিং। সবাই মাইয়া মানুষের কাছে জিজ্ঞেস করে। ক্যান পুরুষ মানুষের কাছে জিজ্ঞেস করতে পারিস না। পুরুষ মানুষ কি মিথ্যে বলে। মনে মনে অনেক কিছু বলে।
.
সারা রাস্তা আর কোন কথা বললো না কেউ। শুধু টুকটাক রিক্সাওয়ালার সাথে কথা বলেছিল নিশাত।
ফার্মেসির দোকানে গিয়ে থামে। রিক্সাওয়ালাকে ভাড়া দিয়ে বিদায় দিতে গেলে নিশাত দিতে দেয় না। কারণ, রিক্সাওয়ালা যতক্ষণ আছে ততক্ষণে নিশাত একটু আস্থা পায়।
---কি হলো তাড়াতাড়ি যাও। মেডিসিন নিয়ে আসো। তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে হবে। আকাশে মেঘ জমছে।
.
ফারহান কিছুই বলতে পাড়ছেনা রিক্সাওয়ালার জন্য। না পড়ছে কিছু বলতে,,। না পড়ছে রাগ দেখাতে। তাই বাধ্য ছেলের মত ফার্মেসির দোকানে চলে গেলো। এদিকে নিশাত রিক্সায় চড়ে বসে আছে। রিক্সাওয়ালা বেশ মজার মানুষ।
.
এশারের আজান শোনা যাচ্ছে। মুয়াজ্জিন সাহেব মসজিদের মাইক দিয়ে আজান দিচ্ছে।
মুসলিম নর-নারি কে নামাজের দাওয়াত দিচ্ছে মুয়াজ্জিন সাহেব। কল্যাণের দিকে আহ্বান করছে।
.
নিশাত ফোনের দিকে তাকালো, ১০ মিনিট হয়ে গেলো। তবুও আসছেনা।
---ম্যাডাম একটা কতা কইতে চাইলাম,,,?
---কি কথা মামা,,।
---আপনেরা কি কি যেন বলে,,, ইস মনে পড়তাচে না।
---লাভ ম্যারেজ,,,
---হ,, হ। আপনেরা লাভ ম্যেরেজ কইরা বিয়া করচেন।
---কেনো মামা,,?
---আপনেগরে ঝগড়া দেইহা মনে হইলো,,,।
---ও। হুমম।
.
নিশাত আবারও ফোনের দিকে তাকালো। ১৭ মিনিট হয়ে গেলো। কি করে উনি,,,?
---ম্যাডাম, স্যারকে ডাইহা নিয়ামু।
---না মানে,,
---আমি বুঝবার পারচি। ও কোন ব্যাপার না। নতুন নতুন এরহম অভিমান হয় এতটু,,, খারান আমি ডাইকা আনি,,,
.
কথাটা বলতে বলতে ফারহান বিষাধভরা মন নিয়ে চলে এলো। মন বার।
---উঠে পড়। যেখানে যাও সেখানে লেট কর। উঠ,,,
.
ফারহান দাঁতে দাঁত চেপে তাকালো। নিশাত অন্যদিকে তাকালো। রিক্সাওয়ালা তাকাতে ফারহান রিক্সাতে উঠে পড়ে। তখন রিক্সাওয়ালা চলতে থাকে।
.
নিশাত মনে মনে বলে উঠলো বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে না। হলে হোক। যদিও ফারহানের মনের ভেতর জায়গা হয়।
নিশাত একটা কথা বলছেনা। ফারহান তো প্রথম থেকে মুখ বন্ধ। শুধু মাঝেমধ্যে রিক্সাওয়ালা কথা বলছে।
.
আকাশে মেঘ জমে গেছে। আকাশ কালো মেঘেরঘটা হয়েছে । মাঝেমধ্যে মেঘেরডাক ভেসে আসছে। রাস্তায় বেশি গাড়ি নেই। হঠাৎ একটা দুইটা,,,
ফারহান কিছুটা অস্বাভাবিক হয়ে আছে। কারণ, বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর হবে এটা নির্ঘাত। সেটা তো নিশাত জানে না।
হালকা বাতাস বয়ছে। ঠান্ডা বাতাস। মনে হচ্ছে কিছুক্ষণের মধ্যে মুশাল দ্বারা বৃষ্টি হবে। যাই হোক বৃষ্টিতে ভিজতে পাড়বো। ফারহানকে কি বলবো, তুমি কি বৃষ্টি পছন্দ কর। নাকি বৃষ্টিতে ভিজতে বেশি পছন্দ কর।
---তুমি কি বৃষ্টি পছন্দ কর,,,।
.
ফারহান নিশাতের দিকে তাকায়। মেয়েটাকে ল্যাম্পপোস্টের আলোতে বেশি সুন্দরী লাগছে। পাশে বসে আছে সেটার কোন লক্ষ নেই মনে হচ্ছে।
---এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো,,,? বল,,,!
---হুম বৃষ্টি পছন্দ করি।
আর কিছু বলার আগেই আকাশ জোড়া মেঘ আমাদের ভাসিয়ে দিল। রিক্সার হুড তুলতে তুলতেই ভেজা কাক হয়ে গেলাম। আজ বোধয় মেঘেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরো শহর টাকে ভাসিয়ে দেবে। সাথে আমাদেরও। রিক্সাটা থামিয়ে একপাশে ১টা গাছের নিচে নিয়ে আসলো রিক্সাওয়ালা। আমি হটাৎ নেমে পড়লাম রিক্সা থেকে। ফারহান অবাক-

“এই মেয়ে কি করছো......”

“চল বৃষ্টিতে ভিজি......প্লিজ।” ফারহানকে কিছু বলতে দিলনা নিশাত। সাথে সাথে ফারহান এক চিলতে হাসি দিয়ে রিক্সা থেকে নেমে ভাড়া মিটিয়ে দিল। ওর এই হাসিটা দেখলে কেমন যেন অসাড় লাগে। কেন যেন বারবার ওর এই হাসিমুখটা দেখতে ইচ্ছা করে। আমাকে অবাক চোখে ওর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে ও আমার সামনে হাত নেড়ে বলল “হ্যালো ... কি হল!” ভাগ্যিস ওর পেছনে একটা পিচ্চি ছেলে কদম ফুল বিক্রি করে বাসায় যাচ্ছিল। আমি ওকে সেদিকে ইশারা করলাম।

“এক মিনিট। আমি যাবো আর মহারানীর চরণের পুষ্পার্ঘ্য নিয়ে আসব” এই বলে ধ্রুব পেছন ঘোরার আগেই আমি বললাম “এই তোমার ঔষুধ কোথায়?
ফারহান মিষ্টি গলায় বললো,
---ঔষুধ সেভ যায়গায় আছে। পলিথিন দিয়ে নিয়েছি।
---“তাই কি......?”( ফারহানের চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলাম।)
---আমি যাব আর আসব,,, । (” ফারহান খুব তাড়াতাড়ি বলে ফেলল।)
.
ফারহান দৌড়ে গিয়ে পিচ্চি ছেলের কাছ থেকে ফুল কিনে আনে।
---এই নাও ফুল,,। তোমার জন্য।
.
আমি ওর হাত থেকে ফুলগুলো নিয়ে রাস্তায় হাঁটতে শুরু করলাম।
কিছুদূর গিয়ে ওর দিকে হাত বাড়িয়ে বললাম “কি হলো ওখানে দাঁড়িয়ে গেলে। এখন আমি একাই বাসায় যাব? আমার হাতটা ধরে হাঁটে বে না......”
.
ফারহান দৌড়ে আমার কাছে এলো। আমি মিষ্টি হেসে দিলাম।
ফারহান আমার পাশে হাঁটতে থাকে। কি অদ্ভুত ছেলেটা। কত লাজুক,,! কত দুষ্ট,,! কত রাগি,,,! কত ভালোবাসা,,,! কত মায়া চোখে, মুখে,,! সব মিলিয়ে পারফেক্ট ছেলে,,,,

ফারহানের মাথাটা তুলে ভেজা চোখে ওর সেই অদ্ভুত হাসিটা আবার হাসল। আমি আবারো অসাড় হয়ে গেলাম। ভালবাসা কি সবাইকেই এমন অসাড় করে দেয়..................??????????!!!!!!!!!
.
.
.
চলবে,,,,,,

বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (১২তম পর্ব)

ভোরবেলা থেকে বিরামহীন বৃষ্টি।
সকালে একটু থেমেছিল। কয়েক মিনিট পর আবার আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামল।
নিশাত বৃষ্টি দেখছিল বিছানায় শুয়ে শুয়ে। আম্মু একবার ভোরবেলা ডাকতে এসে ছিল। তখন আম্মুকে বলেছিলাম"" জানালার পর্দা সরিয়ে দিয়ে যাও আম্মু,,। আম্মু তখন মৃধু হেসে জানালার পর্দা সরিয়ে দেয়। তারপর পাশে এসে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।

---এখন উঠে ফ্রেশ হয়ে পড়াশোনা কর। দুদিন ধরে কোন পড়াশোনার নাম গন্ধ নেই।
.
আম্মুর কথাটা শুনে হাতটা বালিশের মাথার নিচে দিয়ে চোখটা বন্ধ করে বললাম,
---বৃষ্টির মধ্যে আমার পড়তে একদম মন চাচ্ছে না আম্মু,,
---এমা,,! কি বলিস এসব নিশাত,,,! তোর আব্বু যদি এসব শোনে তাহলে কি হবে বুঝতে পাড়ছো,,।
---তুমি বললে তো শুনবে। তাই তুমি আব্বুকে বলবা না। ব্যাস,,! আব্বু জানতে পাড়বে না।
---এসব বলতে নেই। আব্বু জানলে খুব কষ্ট পাবে।
---আম্মু এখন ঘুমাতে দাও তো,,
---আবার ঘুমাবি,,,?
---উমমম,,
---আচ্ছা ১০ মিনিট,,
---১০ মিনিটে ঘুম শেষ হবে আমার।
---আচ্ছা যা,, ৩০ মিনিট ।
---ঠিক আছে তুমি যাও,,,
---মনে থাকে যেন,, ৩০ মিনিট।
.
৩০ মিনিট তো দূররে কথা। কয় ঘন্টা ঘুুমিয়েছি জানি না।
বারান্দায় দাঁড়ালে চোখ অনেক দূর পর্যন্ত চলে যায়। খোলা প্রান্তরে বৃষ্টি দেখতে অন্যরকম লাগে। সাদা একটা পর্দা যেন আকাশ থেকে নেমে এসেছে। বাতাস পেয়ে পর্দাটা কাঁপতে থাকে, একেবেঁকে যায়। বড় অদ্ভুত লাগে। শুয়ে থেকে এই বৃষ্টি দেখা যায় না।

কফির মগটা নিয়ে মাজেদা বেগম রুমে ঢুকলেন। রুমে ঢুকতে দেখে নিশাত কিছু একটা ভাবছে আনমনে ।
---এই নি,,,
.
কথাটা বলতে বলতে ড্রেসিংটেবিলের টুলবক্স টেনে বসলো মাজেদা বেগম খাটের কাছে।
মায়ের কথাটা শুনে নিশাত তাকালো। কফির মগ থেকে ধৌয়া বের হচ্ছে।
---আমি তো এখনও ফ্রেশ হই নাই আম্মু।
---এখনও,,,
---উমমম।
---তোর আব্বুকে বলবো,,,।
---না না আম্মু,,আমি যাচ্ছি,,,
.
নিশাত বিছানা থেকে উঠে জানালাটির কাছে যায়।
---কি রে বৃষ্টি অনুভব না করে ফ্রেশ হয়ে কফি খেতে খেতে অনুভব কর। দেখবি মনটা যতটা এখন ভালো আছে তার থেকে দ্বিগুণ ভালো হবে।
.
কথাটা শুনে নিশাত জানালার কাছ থেকে এসে মাকে জড়িয়ে ধরে বললো,
---সত্যি বলছো,,,
---হুমম। তোর আব্বু এই একি কথা বলেছিল। আমার হালকা হালকা জ্বর ছিল শরীরে। উঠতে মন চাচ্ছিল না। জোর করে আমাকে কোলে তুলে ওয়াশ রুমে নিয়ে যায়। তারপরে আমি ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি তোর আব্বু বারান্দায় বসে আছে দুকাপ কফি নিয়ে। আমি মৃধু হাসি। পরে তোর আব্বু বললো, "এই নাও কফি। আমি কফির মগটা নিয়ে বৃষ্টি অনুভব করলাম। তখন যে কি অনুভূতি হয় তোকে ঠিক বুঝাতে পাড়বো না। তারপর তোর আব্বুকে বললাম, " আচ্ছা তুমি এতো রোমান্টিক কেনো,,? জানিস তোর আব্বু কি বলেছিল,,,?
---কি আম্মু,,,?
---বলছিল,, তোমার জন্য।
---তাই,,,
---হুম। তারপর আমি লজ্জায় মরে যাই অবস্থা। তুই যা ফ্রেশ হয়ে নি।
---ওকে,,,
---কফিটা টেবিলে রেখে দিচ্ছি,,,
.
মাজেদা বেগম কফিটা রেখে চলে যেতে লাগলো।

নিশাত ফারহানকে নিয়ে কল্পনা সাগরে ডুবে যাচ্ছে।
মাজেদা বেগম দাড়িয়ে পড়ে। নিশাতের দিকে তাকায়। দেখে একা একা মৃধু হাসছে নিশাত। তাই দেখে মাজেদা বেগম চলে যায় নিশাতের কাছে।
---কি ম্যাডাম,,। কি ভাবছেন,,? বুঝি তাকে নিয়ে কল্পনা জৎতে চলে গেছেন।
.
মায়ের কথাটা শুনে একটু লজ্জা পায় নিশাত।
---তুমি না আম্মু,,,
---বেষ্ট ফ্রেন্ড,,,
---হাহাহাহা,,,
---আর হাসতে হবে না।
---উম্মা,,,,,
.
নিশাত মাজেদা বেগমকে লম্বা একটা চুমু দিয়ে ওয়াশ রুমে চলে যায় দৌঁড়ে।
মাজেদা বেগম মেয়ের কান্ডকর্ম দেখে মনে মনে হেসে বলে উঠলো, "পাগলি একটা,,,
মাজেদা বেগম চলে গেলো।
.
.
সামনের ক্যানভাসটার দিকে গভীর মনোযোগে তাকিয়ে আছে ফারহান। মুখে কিছুটা বিরক্তির ছাপ।
গত দুদিন ধরে জ্বর এসেছে ফারহানের। রকিং চেয়ারে বসে আছে। আজ কোন বই নেই হাতে।
---ভাইয়া জ্বর কেমন এখন,,?
---একটু কমেছে,,
---দেখি।
.
কথাটা বলে চৈতী ফারহানের কপালে হাত দিয়ে দেখে। জ্বর তো কমেনি। তার মানে ভাইয়া বুঝতে পারছে না।
---তুই কেমন বল তো ভাইয়া,,,!
ছোটবোনটার কথাটা শুনে অবাক হয়ে তাকায়। কেমন মানে,,,? কি বলতে চাচ্ছে।
---কেমন আমি,,,?
---নিজের কতটুকু জ্বর, সেটুকু বলতে পারিস না তুই। তুই কি আধৌও ছোট বাঁচ্চা থেকে যাবি।

ছোটবোনটার কথাটা শুনে হাসবে,,! নাকি কি বলবে বুঝতে পারছে না।
---আমি জানি না। এটা ছোট্টবেলা থেকে অভ্যাসটা। আমি নিজে থেকে কিছু বলতে পারি না।
---হয়ছে হয়ছে। এখন ঘুমিয়ে পড়।
---এতো তাড়াতাড়ি ঘুমাবো।
---ডাক্তার আংকেল কি বলেছে সেটা ভুলে গেলি নাকি। আর কত বাজে সেটা খেয়াল করেছিস ভাইয়া,,!
---নাহ্ তো,,!
---১১:৫৭ বাজে।
---সত্যি,,,
---আমি কি সব সময় ফান করি বল।
---না,,।
---তাহলে,,,
.
চাদরের ভেতর থেকে হাত বের করে দেখি হাত খালি। তার মানে তখন হাতে কিছু নেই অনুভব করেছি। তার মানে ঘড়িটা,,!
---তোর ঘড়ি তোর টেবিলে রাখা।
---তুই যা ঘুমিয়ে পড়।
---মানে,,! তুমি ঘুমাবা না ভাইয়া।
---আমার আর এক,,,,
---চুপ,,। চল তো ভাইয়া।
.
ফারহান যেতে না চাইলে চৈতী জোর করে চেয়ার থেকে উঠিয়ে জোর করে রুমে নিয়ে যায়।
তারপরে বিছানায় ঘুম শুয়ায়ে দেয়। চাঁদরটা শরীরের উপর দিয়ে লাইট বন্ধ করে বলে উঠলো,,
---আমি দরজা লাগিয়ে দিচ্ছি। গুড নাইট ভাইয়া।
---গুড নাইট পিচ্চি বুড়ি,,,
---ভাইয়াআআআআ,,,
---হাহাহাহাহাহাহাহাহাহা,,,
.
হাসিটা শোনার আগে রুমের দরজা লাগিয়ে চলে যায় চৈতী।
ফারহান ভাবতে থাকে। হয়তো এটাই ছোট/বড় বোনের স্নেহ, ভালোবাসা,,,,,
পৃথিবীতে যদি নিঃস্বার্থে ভালোবাসা থাকে। তাহলে তার মধ্যে এই ছোট/বোনের ভালোবাসা তার মধ্যে অনন্যতম।
.
.
ভার্সিটি থেকে ফিরেই নিশাত প্রথম কাজ ধুপ করে তার ব্যাগটা ছুঁড়ে ফেলে দেয়া। তারপর জুতাটা খুলে ফেলে কোনরকম ভাবে মোজাটা তাতে গুঁজে ধপাস করে কাজী নজরুল ইসলামের বই নিয়ে বিছানায় ঝাঁপ দেওয়া। এটা নিশাতের এখন প্রতিদিনের রুটিন। হাত- মুখ ধোয়া না, খাওয়া না- তার আগেই বইয়ের ভেতর মুখ গোঁজা তার প্রথম কাজ।
---নিশাত...নিশাত... আরে এই নিশাত...
---হু! (মায়ের চীৎকারে নিশাত কোনমতে জবাব দেয়।)
--- এই মেয়ে, হাত- মুখ ধুয়ে নে... খাবার দিচ্ছি...
---হু!
---হু ... হু... না বলে আগে যা বলছি তাই কর...নাহলে মার খাবি কিন্তু... তোর এই বই পড়া আজই বন্ধ করে দেব...
এহেন হুমকিতে তো আর বসে থাকা যায় না। তড়াতাড়ি করে উঠে সে বাথরুমে ছোটে। ফ্রেশ হয়ে খেতে বসে।
খাওয়া দাওয়া শেষ করে লম্বা একটা ঘুম দেয়। ঘুমানোর আগে একটু বই পড়তে ভোলে না নিশাত।
.
.
চৈতী আর মমতা রহমান খাবার শেষ করে টিভি দেখছে।
---আম্মু একটা কথা বলি।
মেয়ের কথাটা শুনে ভ্রুঁ কুঁচকে তাকালো মমতা রহমান।
---কি কথা,,,?
---নিশাতকে তোমার কেমন লাগে,,? আর তোমার পছন্দ হয় আম্মু,,?
---এই কথাটা বলতে আমার পারমিশন লাগবে।
---এই জন্য বলি নাই।
---তাহলে,,?
---আগে বল কেমন লাগে আর তোমার পছন্দ হয় কিনা,,!
---নিশাতের মত মিষ্টি মেয়েকে কে না পছন্দ করবে। যে দেখবে সেই পছন্দ করবে। আর নিশাতের আম্মার কাছে শুনেছি নিশাত নাকি খুব লক্ষি একটা মেয়ে।
---আলহামদুলিল্লাহ্,,! একটা কাজ করলে কেমন হয়।
---কি কাজ,,
---যদি নিশাতকে ভাইয়ার বউ করে ঘরে আনো তিহলে কেমন হবে।
---তুই ঠিক বলেছিস চৈতী,,। কিন্তু, যদি ফারহান পছন্দ না করে। তুই তো জানিস ফারহান মেয়েদের বেশি পছন্দ করে না।
---তুমি বললে ঠিক রাজি হবে।
---কিন্তু, নিশাত ও নিশাতের ফ্যামিলি যদি রাজি না হয়।
---এসব নিয়ে তোমার চিন্তা করতে হবে না।
---কিন্তু, আমার তো ফারহানকে নিয়ে টেনশন লাগে।
---দূর! এসব চিন্তা কর না। একটা আইডিয়া আছে আমার মাথায়।
---কি আইডিয়া,,
---তোমার কানে কানে বলি,, নাহলে কেউ শুনে ফেললে ভাইয়াকে বলে দিবে।
---বল,,,
---ব্লা,,,ব্লা,,,ব্লা,,,ব্লা,,
---ঠিক বলছিস তুই।
---তুমি খালি দেখে যাও।
---ঠিক আছে। কিন্তু নিশাত কখন আসবে।
---সন্ধ্যার সময় আসার কথা । হয়তো আজ আসবে না।
.
কলিং বেলের শব্দ শুনে মমতা রহমান মনে মনে বলে উঠলো,,
এ সময়ে আবার কে এল,,?
---চৈতী,,,,
---জ্বী আম্মু,,!
---দেখতো মা কে এসেছে,,,।
---আচ্ছা যাচ্ছি,,।
.
চৈতী টিভির রিমুটটা সোফায় রেখে চলে গেলো দরজা খুলতে।

দরজা খুঁলে দেখে নিশাত এসেছে। আহ্ আজ নিশাতকে দেখতে অপ্সরীর মত লাগছে। হলুদ কালারের শাড়ি পড়েছে। চোখে কাজল, চুলগুলি খোঁপা করেছে। তার মাঝে সূর্যমুখী ফুল দিয়েছে। হাতে নিল চুড়ি আরও অনেক কিছু বর্ণনা করতে পারবোনা হিংসে হয় । নিশাত চৈতীকে দেখে মৃধু হেসে দিল।
---ভিতরে এসো,,,
---আংকেল কি বাসায় আছে,,?
---কেনো,,?
---আংকেলকে দেখে খুব ভয় করে।
---হাহাহা,, কিন্তু, আব্বুর সাথে কথা বললে একদম ধারণা পাল্টে যাবে। আচ্ছা চল,,
.
নিশাত রুমের ভেতর চলে আসে। চৈতী দরজা লাগিয়ে মায়ের কাছে বসে পড়ে। নিশাতকে দেখে মমতা রহমান বলে উঠলো,
---মাসঅাল্লাহ্,,! দাড়িয়ে কেনো বস।
.
নিশাত চৈতীর পাশে বসলো।
---তোমাকে দেখতে একদম অপ্সরীর মত লাগছে।
.
কথাটা শুনে নিশাত লজ্জা পেয়ে নিচের দিকে তাকায়।
---আরে লজ্জা পাচ্ছো কেনো মা।
---আম্মু তুমি এখন রুমে যাও আব্বুর কাছে। আমরা কিছু কথা বলবো।
---ঠিক আছে ।
.
মমতা রহমান চলে গেলো।
---নিশাত চশমা কোথায়?
---এই যে হাতে।
---হাতে কেনো। চোখে পড়।
---আমার না লজ্জা করে।
---হাহাহাহা,,
---হাসছো কেনো,,
---তোমার কথা শুনে।
---আমি চশমা পড়তে পছন্দ করি না। কিন্তু, তোমার কথামত তিন ধরে রুমের মধ্যে নিয়ে আয়নার সামনে দাড়িয়ে দেখি কেমন লাগে। আগে ভাবতাম কানা কানা লাগবে। কিন্তু, নাহ ভালো দেখা যায়।
---হাহাহা।
---আচ্ছা আমি কি মিষ্টির মত সেজেগুজেছি ।
---একদম সেরকম।
---আমি না আমার আম্মু সাঁজিয়ে দিছে। আচ্ছা বাদ দাও। তোমার ভাইয়া কি রুমে আছে।
---হুমম।
---আমি যাব।
---হুম।
---লজ্জা করছে। কোন দিন সেজেগুজে কারও সামনে যাই নাই তো তাই।
---দূর। এখন যাবা। আর প্লান মত কাজ না করলে ভালোবাসা ভালোবাসা রয়ে যাবে।
---কালকে যাব।
---দূর! চল তো,,
.
জোর করে নিশাতকে পাঠিয়ে দেয়।
তারপর চৈতী এসে টিভি দেখতে থাকে।
.
নিশাত ঘরে ঢুকে থমকে গেল।
সারা গায়ে চাদর জড়িয়ে ফারহান বসে আছে। রাত নটার মতো বাজে। এই সময় তিনি সাধারণত চাঁদ দেখেন, নয়তো বই পড়েন।

কিন্তু, আজ বই পড়ছে না। তাহলে কি হয়েছে,,?
নিশাতের চোখে চশমা, বিছানায় মোটা একটি ইংরেজি বই–The Psychopathic Mind. দারুণ মজার বই। সে বইয়ের পাতা উল্টাল। ফারহানের দিকে একবারও না তাকিয়ে মনে মনে বলল, ভয় লাগার মত কোন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে বলে তো মনে হচ্ছে না।

ঘুটি ঘুটি পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে নিশাত। মনের ভেতর কেমন জানি মায়া মায়া কাজ করছে। কাঁদছে না তো,,?
নিশাত বলল,
---তোমার কি শরীর খারাপ,, ?
.
নিশাতের কথা শুনে ফারহান চমকে যায়। একটু ঘাড় গুড়িয়ে তাকায় ফারহান। একটু অবাক হয়ে যায়। এতটা ভাবনায় ভেতর ছিল যে,, কন্ঠটা ঠিকমত বুঝতে পারে নাই।
---তুমি,,!
---কেনো,,? অবাক হচ্ছে নাকি,,,।
.
ফারহান বেশি অবাক হয়ে যাচ্ছে নিশাতের দিকে তাকিয়ে। হলুদ শাড়ি, চোখে চশমা। মাথায় সুন্দর করে খোঁপা করেছে। তার মাঝে সূর্যমুখী ফুল গাঁথা। কি অসাধারণ সাঁজগোজ করেছে,,,। তারচেয়ে বেশি সুন্দর লাগছে নিশাতের মুখের অর্ধমুখে এসে পড়েছে চাঁদের আলো ।
---ওমন করে কি তাকিয়ে দেখছো রহান,,।
---কি,, কিছুনা। আর তুমি করে বলছো কেনো,,?
---তুমি তো প্রথম থেকে বলছি,,।
.
ফারহান একটু মনে করার চেষ্টা করলো। তাই তো। তুমি করে বলছে।
---আমি জানি তুমি এখন কি ভাবছো,,।
.
নিশাতের কথাটা কেমন জানি ভেতরের রক্ত তিব্র বেগে বেড়িয়ে আসার প্রতিযোগিতা করছে। কোথাও কাঁটা বা ছুড়ি দিয়ে কেটে দিলে সেখান দিয়ে রক্ত তির ছুটে বের হবে।
---এই মেয়ে তোমাকে কতবার বলছি আমার সামনে আসবা না। আর এই নাম ধরে ডাকতে নিষেধ করেছিনা।
---আমার ইচ্ছা হয়েছে তাই।
---তুমি বেশি বোঝ না।
---তুমি কেনো তুমি করে কথা বলছো,,!
---তুমি আমার ছোট। ছোটদের তুমি করে বলতে হয়। আর আমি তোমার বড়। So, আপনি করে কথা বল।
---আমি তোমাকে ভালোবাসি। আর ভালোবাসার মানুষটাকে কেউ আপনি করে সম্বদন করে।
.
ফারহান বুঝতে পারে নিশাতের সাথে কথায় পারা যাবে না। তাই পাশ কেটে ফারহান চলে যেতে লাগলো।
নিশাত বুঝতে পারে ফারহান আর কিছু বলবে না। আমি কি অতটা অপছন্দ,,? জানি না ফারহান পছন্দ হয় কি,, না,,।
---এই তুমি পালিয়ে যাচ্ছো কেনো।
.
ফারহান একবার তাকিয়ে আবার রুমের ভেতর চলে যায়।
নিশাতও রুমের ভেতর চলে যায়।
---তুমি এতো ভিতু কেনো,,! একটা মেয়ে তোমার সামনে সেজেগুজেছে তা দেখবে। কিন্তু, ভয় পাচ্ছো দেখছি।
---নিশাত আমি ভয় পাই না। আর তুমি রুম থেকে চলে যাও।
---যাব না।
---বেশি বোঝনা।
---বেশি বুঝলে কি করবে শুনি,,,
---কি করবো দেখবা,,,
.
কথাটা বলে ফারহান নিশাতকে দেওয়ালের সাথে লেপ্টে ধরে। চোখটা আগুনের মত ধারণ করেছে। এ কেমন চোখ,,?
---এই তোকে কতবার বলছি আমার সামনে আসবি না। তুই তো শুনছিস না। তোর এমন কিছু করবো যে তুই আমাকে তোর মুখ দেখাতে ঘৃণা করি।
.
আমি খুব ভয় পেয়ে যাই। ফারহান কেমন জানি হয়ে উঠছে। হয়তো তার পিশাচ রুপ ধারণ করছে।
---আমি ইচ্ছে করলে তোর রুপের আগুনে পুরতে পারতাম। কিন্তু, তোদের মত মেয়েদের ঘৃণা করি।
---আপনি শুধু ভাব নিতে পারেন। আর কিছু,,,
.
ফারহান নিশাতের ঠোঁটের উপর আঙ্গুল রাখলে। নিশাতের শরীর কেঁপে উঠে। চোখটা বন্ধ করে। কেমন জানি অনুভূতিপ্রবণ বেড়ে যাচ্ছে। চোখটা খুলতে খুব ভয় পাচ্ছে।
---দেখবি আমি কি করতে পারি,,!
.
ফারহানের কথাটা শুনে আমার হৃদপিন্ড মুখের কাছে আসার জোগাড়! সত্যি কি আমাকে,,, না না সেটা কখনও হতে পারে না। আমি আমার বুকের সাহস নিয়ে বলে উঠলাম,,
---যে ছেলে সব কিছু পেয়ে কিছু করে নাই। সে কি করে আমাকে কি করবে।
.
ফারহান অবাক হয়ে যায় কথাটা শুনে। একথা জানলো কেমনে,,,? নাকি মিষ্টির কিছু হয়,,!
---কি হলো কি ভাবছো। আমি জানলাম কেমন করে। তাই তো।
---এই মেয়ে তুমি জানলা কেমন করে,,?
---অনেক কিছু জানি,,,।
---কিছুই জানো না তুমি।
---রুমের ভেতর কি হয়েছে সেটাও জানি।
.
ফারহান আশ্চর্য হয়ে যায়! এসব কি করে জানলো,,? চৈতী তো বলে নাই,,,। হয়তো বলেছে ।
---চুপ একদম চুপ। আর কোনদিন আমার সামনে আসবা না।
---আসবো।
---বেশি বোঝ না। এর পরিণতি ভালো হবে না।
---ভালোবেসে যদি পাগলামি করতে হয় করবো।
---আমি তোমাকে ঘৃণা করি। I Hate You,,,
---I Love You Rhan,,,
.
ফারহান রেগে গিয়ে হাতটা আরও জোরে চেপে ধরে। নিশাত কষ্ট পাচ্ছে। তবুও কিছু বলছে না। ভালোবাসার জন্য অল্প একটু কষ্ট পেলে মরে যাব না। আমি তোমার এই ধারণা ভুল প্রমাণ করে দেব। সব মেয়ে এক হয় না।
---আর একদিন যদি আমার সামনে আসিস,, তাহলে তোর এমন কিছু করবো সেটা কল্পনাও করতে পারবি না। (দাঁতে দাঁত চেপে)
---যার অন্তরে আল্লাহ্ তায়ালার ভয় আছে। সে কখন এরকম কাজ করতে পারবেনা।
.
চোখটা বড় করে তাকালো ফারহান নিশাতের দিকে।
---নিশাত,,, এই নিশাত,,,
.
ডাকতে ডাকতে চৈতী রুমের ভেতর ঢুকে পরে।
এদিকে ফারহান নিশাতকে ছেড়ে দেয় চৈতীর কন্ঠটা শুনে।
চৈতী এসে নিশাতের কাছ দাঁড়ায়।
---এই নাও তোমার ফোন। তোমার আব্বু ফোন দিচ্ছে বাড়ে বাড়ে।
---ও,,
---এই তুমি কাঁদছো কেনো,,,?
---কিছুনা।
.
কথাটা বলে নিশাত রুম থেকে বের হয়ে যাই।
---নিশাত,,, এই নিশাত দাড়াও,,,
.
নিশাতের পিঁছু পিঁছু চৈতী চলে গেলো।
.
ফারহান জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। ভাবতে থাকে। এসব কি হচ্ছে,,? মেয়েটা আমার পিছু ছাড়ছে না কেনো,,? কি এমন আমার কাছে আছে যে, আমাকে ভালোবাসতে চাই। সে তো আমার সম্পর্কে জানে না। আর আমার ভালোবাসা নামে জিনিসটা মরে গেছে।
---ভাইয়া নিশাতকে কিছু বলেছিস,,,?
চৈতীর কথায় পিছনে ফিরে তাকায় ফারহান।
---কিছু হয়েছে,,?
---নিশাতকে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলো যে।
---আ,,আমি কিছু করি নাই চৈতী বিশ্বাস কর।
---তাহলে যে,,,আচ্ছা বলতো নিশাতকে তুই ভালোবাসিস,,? মিথ্যে বলবি না।
---না,, আমি কাউকে ভালোবাসি না আর বাসবো না।
---নিশাত কি তোকে ভালোবাসে,,
---জানি না,,, আর ও আমার সম্পর্কে কিছু না জেনে আমার সাথে এমন করছে কেনো বলতো।
---হয়তো অনেক ভালোবাসে তাই,,,
---কি বললি তুই,,,
---কিছুনা,,,
---এখন আমাকে একা থাকতে দে তো প্লিজ,,,
---ওকে,,, গুড নাইট,,,
.
চৈতী চলে গেলো।
ফারহান ড্রয়ার খুলে দেখে যে ঘুমের ঔষুধ ২ টা আছে।

জগ থেকে এক গ্লাস পানি ঢেলে ঔষুধ খেয়ে নিল। তারপরে খাটের উপর শুয়ে পড়ে।
মেয়েটা এমন করছে কেনো,,? বারবার এমন পরিস্থিতি হচ্ছে তবুও আমার পিছু ছাড়ছে না। কিছুক্ষণ এলোমেলো চিন্তা করলো ফারহান,,,

একটু পর ঔষুধ খাওয়ার কারণে চোখটা লেপ্টে আসছে। চোখের পাতা বার বার লাগছে। তাকিয়ে থাকতে পারছেনা । ঘুমেরর কারণে চোখটা কেমন করছে। ফারহান ঘুুমিয়ে পড়ে।
.
.
.
চলবে,,,

বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (১১তম পর্ব)

---এই,, (মিষ্টি)
.
ফারহান পিছন ফিরে তাকায়,,,
---কি হয়েছে,,? (ফারহান)
---তিথি তোমাকে ডাকে,,
---আমাকে মানে,,? আর এতো রাতে কেনো ডাকবে,,?
---আমি কি জানি নাকি। আমাকে বললো তাই।
---ও,,,আমার জেতে ইচ্ছে করছে না। একটু আগে আমার সাথে কথা বললো আবার এখন কেনো,,?
---আমি তো জানি না। তুমি শুনে এসে আবার আড্ডা দাও।
---আচ্ছা,,
---আমি আম্মুর কাছে যাচ্ছি।
---ঠিক আছে যাচ্ছি,,,
.
মিষ্টি চলে গেলো কথাটা বলে।
ফারহান মনে মনে বলে উঠলো, "কি মতলব করে আবার ডেকেছে "আল্লাহ তায়ালা " জানে,, । মেয়েটা আমার জন্য দেওয়ানা হয়েগেছে। আজব মেয়ে একটা,,! ছাঁদে যে ঘটনা ঘটিয়ে ছিল। আমি তো অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। লজ্জিত হয়ে গিয়েছিলাম। আমি দুহাত দিয়ে নিজের চোখ চেঁপে ধরি। একটা ফাজিল মেয়ে,,,। লজ্জা বলতে কিছুই নেই,,,! বড় বোনের বয়ফেন্ডের সাথে যে প্রেম করতে চায় এরকম মেয়ে কখন দেখি নাই জীবনে। ক্যারেক্টারলেস গার্ল,,, জানি না এখন কোন মতলব বা ফাঁদ পেতে আছে।
কথাটা মনে মনে বলতে বলতে তিথির রুমের দিকে আসে ফারহান ।
.
ফারহান রুমে ঢুকতে তিথি দরজা বন্ধ করে দেয়।
---এই তিথি তুমি দরজা বন্ধ করে দিলে কেনো...?
.
কথাটা বলে ফারহান দরজা খুঁলতে গেলো। কিন্তু, তিথি পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়ে যায় ফারহানের সামনে। তিথির চোখে এক অদ্ভুত রকম হাসি। সেটা ফারহান দেখে বুঝতে পারছে কিছু একটা মতলব আছে। ফারহান বুঝতে পাড়ছে,,,
---এই তিথি কথা বলছো না কেনো,,? আর দরজা বন্ধ করলে কেনো,,? আর এসব কি হচ্ছে,,? কেউ দেখে ফেললে কি ভাববে,,,।
---তুমি কি কিছু বোঝ না ফারহান,,,।
---হোয়াট,, তুমি এসব কি বলছো,,,!
---হ্যা বেবি, আমি ঠিক বলছি। তোমাকে কত ভালোবাসি তুমি বোঝ না। আমি তোমাকে চাই,,, তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি ফারহান,,
---You Are Mad,,,নাকি,,,
---হ্যাঁ, আমি পাগল। তোমার প্রেমে পাগল হয়ে গেছি। দুচোখের ঘুম নেই। আমি শুধু তোমাকে চাই,,,
---প্লিজ তিথি তুমি মজা কর না,,, মিষ্টি জানলে খুব রাগ করবে।
---তাই নাকি বেবি,,
.
কথাটা বলে তিথি ফারহানকে এক ধাক্কায় বিছানায় ফেলে দেয়। তারপর তিথি ফারহানের উপরে পরে যায়।
---তি,,তিথি এসব কি,,, কি হচ্ছে,,, প্লিজ তিথি এরকম ক,,ক,,কর না।
---সবে তো শুরু বেবি। (গালের উপর হাত বুলিয়ে,,,)
---প্লিজ,,,এরকম কর না তিথি। আমাকে যেতে দাও,,
---বেবি এরকম করছো কেনো,,,আমরা আজ দুজনে ভালোবাসার সাগরে ভেসে যাব। আমাদের কেউ ডিস্টার্ব করবে না। প্লিজ ফারহান আমাকে পাগল করে দিও না। আমি তোমার স্পর্শ পেতে চাই,,,ছাঁদে তো,,,
.
কথাটা বলে তিথি ফারহানের ঠোঁটে কিস করতে যাবে তখন ফারহান তিথিকে সরিয়ে দিয়ে উঠে যায় বিছানা থেকে।
---বেবি উঠে গেলে কেনো,,, (দাড়াতে দাড়াতে)
---Stop Your Mouth,,, আমাকে টাচ্ করবে না বলে দিচ্ছি। তোমার সাহস হয় কি করে এসব কথা বলতে। লজ্জা করে না। বোনের বয়ফেন্ডের সামনে ওপেনলি (Openly) নিজের কাপড় খুলে ফেলতে। কেমন করে পারলি। একটুও লজ্জা করল না তখন তোর।
---তোমার জন্য সব করতে পারি,,,আমি তোমাকে ভালোবাসি ফারহান,,, আমার ভালোবাসা তোমার স্পর্শ পেতে চাই।
---চুপ,,! তোর মুখে আমার নাম তো দূরের কথা ভালোবাসার কথা বলবি না। তোর মত মেয়েদের চাইলে সব করতে পারি। তুই তো বেশ্যা/পতিতার (Whore/ Prostitute) চাইতে বেশি খারাপ। বেশ্যা/পতিতারা তো টাকার জন্য এসব জগ্ন কাজ করে। আর তারা তো এসব করতে তো নিজের কাপড় নিজে খুলে ফেলে না। আর তুই তো খোলা আকাশের নিচে, তাও আবার আমার মত পরপুরুষের সামনে। ভাবতে ঘৃণা হচ্ছে,,, ছিঃ,, ছিঃ,,
---আমি তোমাকে ভালোবাসি। তুমি কেন পরপুরুষ হবে।
---চুপ কর। আল্লাহুর প্রতি তোর কোন ধারণা আছে। শুনেছিস কখন, বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক আমাদের ইসলামে হারাম।এর শাস্তি ভয়াবহ।
.
[[ অনেকেই যুক্তি দিবেন ছেলে মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর দুজনের ইচ্ছেতে শারীরিক সম্পর্ক করা দুষের কিছুনা।
.
আসুন ইসলামের দৃষ্টিতে যিনাকারীর শাস্তি সম্পর্কে জেনে নিই। ]]
.
আল্লাহ তায়ালা বলেন,“তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না। এটা অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট আচরণ”। (সূরা বনী ইসরাঈল -৩২)

“আর যারা আল্লাহ ব্যতীত অপর কোন ইলাহের ইবাদত করে না, আল্লাহর নিষিদ্ধকৃত প্রাণী যথার্থ কারণ ব্যতীত হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। আর যে ব্যক্তি এসব কাজ করে, সে শাস্তি ভোগ করবে। কিয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে সে হীন অবস্থায় চিরস্থায়ী হবে। তবে তারা নয়- যারা তাওবা করে এবং সৎ কাজ করে, আল্লাহ তাদের মন্দ কাজগুলো ভাল কর্ম দিয়ে পরিবর্তন করে দেন, আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াশীল”। (সূরা আল ফুরকান ৬৮-৬৯)

“ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী উভয়কে এক’শ ঘা করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকরী করবে এদের প্রতি দয়া যেন তোমাদের অভিভূত না করে। যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী হয়ে থাক। ঈমানদারদের একটি দল যেন এদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে”। (সূরা আন নূর ২)

আলেমগণ বলেছেন, এটাই হচ্ছে অবিবাহিত পুরুষ-মহিলার ব্যভিচারের ইহকালীন শাস্তি। যদি তারা বিবাহিত হয় বা জীবনে একবার হলেও বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল এমন হয়ে থাকে, তাহলে তাদেরকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করতে হবে। এটা হাদীসের নির্দেশনা । এ মৃত্যুদণ্ডেও যদি তাদের পাপের পূর্ণ প্রায়শ্চিত্ত না হয় এবং তারা উভয়েই তওবা না করে মারা যায় তাহলে তাদেরকে জাহান্নামের আগুনে পোড়ানো লৌহদণ্ড দিয়ে শাস্তি দেয়া হবে।
.
যবূর কিতাবে বর্ণিত আছে, “ব্যভিচারী নারী-পুরুষের লিঙ্গ রশি দ্বারা বেঁধে জাহান্নামের আগুনে ঝুলানো হবে এবং লোহার ডান্ডা দিয়ে তাদের জননেন্দ্রিয়ে আঘাত করা হবে। আঘাতের যন্ত্রণায় যখন চিৎকার করবে, তখন জাহান্নামের ফেরেশতারা বলবে; পৃথিবীতে যখন তোমরা আনন্দ ফুর্তি করতে, হাসতে এবং আল্লাহর কথা স্মরণ করতে না এবং তাঁকে লজ্জা পেতে না, তখন এ চিৎকার কোথায় ছিল”?

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন;

“কোন ব্যভিচার ব্যভিচারের সময়ে মুমিন অবস্থায় ব্যভিচার করে না। কোন চোর চুরির সময় মুমিন অবস্থায় চুরি করে না। কোন মদখোর মদ খাওয়ার সময় মুমিন অবস্থায় মদ পান করে না, কোন লুন্ঠনকারী লুন্ঠন করার সময় মুমিন অবস্থায় লুন্ঠন করে না”। [বুখারি,মুসলিম ও আবু দাউদ]

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন,

“কোন ব্যক্তি যখন ব্যভিচার করে তখন তার ভেতর থেকে ঈমান বেরিয়ে যায়, এরপর তা তার মাথার উপর ছায়ার মত অবস্থান করতে থাকে। এরপর সে যখন তা থেকে তওবা করে তখন তার ঈমান পুনরায় তার কাছে ফিরে আসে”। [আবু দাউদ]

হযরত আবু হুরায়রা বর্ণিত অন্য এক হাদীসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন,

“যে ব্যক্তি ব্যভিচার করে অথবা মদ পান করে, আল্লাহ তার কাছ থেকে ঈমান ঠিক এমনভাবে কেড়ে নেন, যেমন কোন মানুষ তার মাথার উপর দিয়ে জামা খুলে থাকে”।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন,

“কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তিন ব্যক্তির সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্রও করবেন না এবং তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক কঠোর শাস্তি নির্ধারিত থাকবে। তারা হচ্ছে বৃদ্ধ ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী শাসক এবং অহংকারী গরীব”। [মুসলিম ও নাসায়ী]
.
হযরত ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,

আমি বলেছিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বড় পাপ কি? তিনি বললেন, আল্লাহর সমকক্ষ কাউকে নির্ধারণ করা। আমি বললাম, এটা নিশ্চয়ই জঘন্যতম গুনাহ। তারপর কি ? তিনি বললেন; তোমার সন্তান তোমার সাথে আহারে বিহারে অংশ নিবে এ আশংকায় সন্তানকে হত্যা করা। আমি বললাম, এরপর কি? তিনি বললেন, তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া। [বুখারি ও মুসলিম]
.
বুখারি শরীফে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্বপ্নের বিবরণ সম্বলিত যে হাদীসটি হযরত সামুরা বিন জুনদুব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে উল্লেখ রয়েছে এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন;

“জিবরাঈল ও মীকাঈল (আলাইহি সালাম) তাঁর কাছে এলেন এবং আমি তাঁদের সাথে পথ চলতে শুরু করলাম। এক পর্যায়ে আমরা বড় একটা চুল্লির কাছে এসে পৌঁছলাম। সে চুল্লির উপরি অংশ সংকীর্ণ ও নিম্নভাগ প্রশস্ত। ভেতরে বিরাট চিৎকারও শোনা যাচ্ছিল।

আমরা চুল্লিটার ভেতরে দেখতে পেলাম উলংগ নারী ও পুরুষদেরকে। তাদের নিচ থেকে কিছুক্ষণ পর পর এক একটা আগুনের হলকা আসছিল আর তার সাথে সাথে আগুনের তীব্র দহনে তারা প্রচন্ডভাবে চিৎকার করছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম; হে জিবরাঈল! এরা কারা ? তখন তিনি বললেনঃ এরা ব্যভিচারী নারী ও পুরুষ”।

মহান আল্লাহর বাণী; “জাহান্নামের সাতটি দরজা থাকবে”- এ আয়াতের তাফসীরে হযরত আতা (রহ) বলেন,

“ এ সাতটি দরজার মধ্যে সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত, সবচেয়ে বেশি দুঃখে পরিপূর্ণ ও সবচেয়ে ভয়ংকর দরজা হবে যারা জেনে-শুনে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে।
.
তিথি চুপ করে থাকে। তখন ফারহান আবার বললো,
---তোর মত মেয়েদের টার্চ করার তো দূরের কথা। কথা বলতে ঘৃণা করি। তুই আমার সাথে এসব করছিস,,,! না জানি কত ছেলেদের সাথে এমন করেছিস,,। আল্লাহ তায়ালা জানে।
---তুমি বিশ্বাস কর, আমি কাউকে টার্চ করি নাই, আর না কেউ টার্চ করেছে। সত্যি বলছি।
---আমার সুস্থ মস্তিষ্কে বুঝতে পারছি। তুই কেমন মেয়ে। তুই একটা,,,
.
.
মিষ্টির দরজার সামনে এসে দাড়ায়। দরজা খুলতে যাবে তখন দেখে যে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করা। একবার ডাক দিব কি,,? না থাক। তিথি হয়তো ঘুমাচ্ছে। নো নো, ফারহান তো ভেতরে না,,? যদি ফারহান ভেতরে থাকে তাহলে কি করছে ভেতরে দরজা লক করে,,? ফারহান তো আবার,,,,না না এসব কি ভাবছি আমি,,! ফারহান এরকম না। যদি ফারহান এরকম হতো,,,! তাহলে ছাঁদের ঘটনাটি বলতো না। আর তিথি সেরকম না,,,! কিন্তু, তিথি তো ফারহানকে ভালোবাসে বলেছিল,,? নাকি মজা করেছিল,,? আর তিথি কেমন জানি ফারহানের প্রতি বেশি কেয়ারিং করেছে দুইদিন ধরে । ফুপুমনির কথাটা শুনে মিষ্টি একটু চমকে যায়,,,
---মিষ্টি এখানে দাড়িয়ে কি করছিস,,,?(মিষ্টির ফুপুমনি)
---কই কিছু না ফুপুমনি,,, (মিষ্টি)
---তো এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো,,?
---তিথিকে আংকেল ডাকছে,,,তাই ডাকতে এসেছি,,
---তা ভেতরে যা।
---দরজা ভেতর থেকে বন্ধ।
---ঘুমাচ্ছে হয় তো। ডাক দে।
---না, একটু আগে তো ফারহানকে ডেকে দিতে বলেছিল। পরে আমি ফারহানকে ডেকে দিয়ে যায়।
---আচ্ছা আমি দেখছি,,,
মিষ্টির ফুপুমনি দরজা নক করে ডাক দিল,,, "তিথি,,, এই তিথি,,
.
---তুমি যত অপমান কর আর যত আমাকে মার আমি তোমাকে যেতে দেব না। আমাকে ভালোবাসো কথাটা না শোনা পর্যন্ত আমি তোমাকে যেতে দেব না।
.
দরজার নক করা দেখে ফারহান ভয় পেয়ে যায়। তিথি নিজের শার্টের বোতাম একটানে খুলে ফেলেছে। এই অবস্থায় কেউ দেখলে বিশ্বাস করবে তিথিকে আমি,,,, না, না এসব কি ভাবছি আমি। আমি তো তিথিকে কিছু করি নাই।
---তিথি তুমি পরিপাটি হও প্লিজ। কে যেন দরজার ওপাশে দাড়িয়ে ডাকছে। আমাদের এরকম দেখলে নিশ্চয় ভাববে আমরা ব্যবিচারে লিপ্ত ছিলাম।
---না, না আগে বল আমাকে ভালোবাসো।
---জোর করে কখন ভালোবাসা হয় না। আর আমি মিষ্টিকে ভালোবাসি তুমি সেটা জানো তার পরেও কেনো এমন করছো। প্লিজ,,
---না, আগে আমাকে বল ভালোবাসো,,,
---আমি কখনও বলবো না।
.
.
---মিষ্টি দরজা তো খুলছে না তিথি।
---ফুপি আমি ডাকছি,,,
---আচ্ছা তুই ডাক।
মিষ্টি দরজা টোকা দিয়ে ডাক দিল, "তিথি,, ওই তিথি দরজা খোল।
.
.
---তিথি মিষ্টি ডাকছে। প্লিজ আমাকে যেতে দাও।
---না, আগে বল আমাকে ভালোবাসো,, আমি শুধু তোমার। বল।
---তিথি বোঝার চেষ্টা কর। আর মিষ্টি তো তোমার চাচাতো বোন।
---আমি কোন মিষ্টিকে চিনি না। তুমি শুধু আমার,,,আর কাউকে হতে দেব না। সে হোক না কেন আমার মায়ের পেটে বোন।
---চুপ কর,,, তোমার মুখে এসব মানায় না।
.
তিথিকে জোর করে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে দিয়ে ফারহান দরজা খুললো।
ফারহান দরজা খুলে দেখে মিষ্টি আর মিষ্টির ফুপি।
মিষ্টি আর ফুপি দুজনে রুমের ভেতর ঢুকে যায়।
তিথির অবস্থা দেখে মিষ্টি ধপাস করে ফ্লোরে বসে যায়। কি দেখছে এসব। কখনও বিশ্বাস করতে পারি নাই ফারহান এমন কাজ করবে।
ফুপি কি বলবে বুঝতে পারছেনা। তিথির টি-শার্টের বোতাম ছেরা বুকেরটা। গালে একটা চড়ের দাগ। তিথি ফুপিকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। ফুপি রেগে গিয়ে ফারহানকে চড় মারে।
---ফুপি ও আমাকে,,,(কেঁদে কেঁদে)(তিথি)

তিথি আমাকে কথাটা বলে কেঁদে দিল,,,।
---আ,,,আমি কিছু করি নাই ফুপি,,, তিথি আমাকে,,,(ফারহান)
---চুপ একদম চুপ। তুই আমাকে অপবিত্র মুখে ফুপি ডাকবি না।
---বিশ্বাস করেন ফুপি। আমি কিচ্ছু করি নাই। তিথি আমাকে,,,
.
ঠাস করে ফুপি আবার ফারহানের গালে চড় মেরে দেয়।
---তোর সাহস তো কম না। তিথির নামে এসব বলছিস। আমি তো ভেবেছিলাম তুই খুব ভালো ছেলে। কিন্তু, চোখের সামনে এসব দেখে আমি তোর কথা বিশ্বাস করবো। কি করে ভাবলি এসব। আমি তো তোকে নিজের ছেলের মত দেখেছি। আর তুই আমার ভাইজির মেয়েকে। ছিঃ,, ছিঃ,,,
---মিষ্টি বিশ্বাস কর আমি এমন কিছু করি নাই যেটা দেখছো। আমাকে বিশ্বাস কর প্লিজ,,,
---চুপ,,, একদম চুপ। তুই আমাকে কি বিশ্বাস করতে বলিস। এই টা দেখার পরও কি আমি তোর কথা বিশ্বাস করব। কি করে ভাবলি তুই। ছাঁদের ঘটনা বলেছিলি আমি বিশ্বাস করেছিলাম তুই এমন না। কিন্তু, আজ তুই আমার চোখের সামনে আমার বোনের সাথে এসব নোংরামি করছিস আর আমাকে বিশ্বাস করতে বলছিস,,,। না জানি আরও কত মেয়ের সাথে,,,, ছিঃ,,ছিঃ,, আমি মানুষ চিনতে ভুল হয়েছে
---মিষ্টি তুমি বিশ্বাস কর আমি,,,
---তোর কোন কথা শুনতে চাই না। তুই এখন,এই মুহুর্তে আমার চোখের সামনে থেকে চলে যাবি। আমি তোর অপবিত্র মুখ দেখতে চাই না। তোকে আমি ঘৃণা করি।
.
কথাটা বলে মিষ্টি দৌড়ে কাঁদতে কাঁদতে রুম থেকে বেড়িয়ে যায়।
.
কথাটা বলে চৈতী ওড়না দিয়ে চোখটা মুঁছে ফেললো।
নিশাত কি বলবে বুঝতে পারছেনা। নিশাতের চোখে পানি টলমল করছে।
.
মুয়াজ্জিনের মধুর কন্ঠে মসজিদের মাইক থেকে এশারের আজান ভেসে আসছে।

দুজনে চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কি বলবে কিছুই বুঝতে পারছেনা।

একটু পর আজানের জবাব দিয়ে দরুদ পড়ে চৈতী বলে উঠলো,
---নিশাত প্লিজ ভাইয়াকে ভুল বুঝ না। আমাকে ক্ষমা করে দিও।
.
চৈতী কথাটা বলে চলে গেলো।
নিশাত একবার ডাক দিল। কিন্তু, চৈতী না শুনে চোখ মুঁছতে মুঁছতে চলে গেলো।
.
নিশাত এবার কেঁদে ফেললো,,, কেনো কাঁদছে বুঝতে পারছে না।
অনেক অস্থির অস্থির লাগছে। দম, শ্বাস নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে। মনে হচ্ছে কেউ নাক, মুখ চেপে ধরে আছে। কিন্তু, সেরকম কিছুই হই নাই। কিন্তু, তবুও এরকম মনে হচ্ছে ।
নিশাত চোখটা মুঁছে ছাঁদ থেকে চলে গেল।
.
মাজেদা বেগম রুম থেকে বেরুতে নিশাতকে দেখতে পেল নিশাত আসছে।
---কি রে নিশাত কোথায় ছিলি,,?
---ছাঁদে,,
---কি বলিস এসব। জানিস না ছাঁদে ভুত, পেত্নী আছে।

.
নিশাত কিছু না বলে রুমে চলে যায়। দরজা ভেতর থেকে লক করে শুয়ে পরে বিছানায়।
চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। একজন মানুষ কিভাবে নিষ্ঠুর হয়। একজনের জন্য ২ টা মন ভেংগে চুরমার হয়ে গেছে। কিভাবে পারলো এসব,,? কি সব ভাবছি আমি,,! যাইহোক ফারহান ছেলেটা ভালো,,। হয়তো প্রত্যেক মেয়েকে তিথির মত ভাবে। সেই জন্য সবাইকে ঘৃণা চোখে দেখে। এসব ভেবে আমি কষ্ট পাচ্ছি কেনো,,? তাহলে কি চৈতীর কথা ঠিক, আমি কি ফারহানকে ভালোবাসি,,? হয়তো ঠিক,,! হয়তো মায়া,,,,!
.
.
.
চলবে,,,,

বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (১০ম পর্ব)

---ঠাসসসসস,,,
.
নিশাত ঠাস করে চড় মেরে দেয় ফারহানকে। চড় মেরে নিশাত অবাক হয়ে মুখে হাত দেয়। সে ভাবতে পারে নাই চড় দিবে। নিশাত ভয় খেয়ে যায় অনেক।

ফারহানের চোখটা অগ্নি রুপ ধারণ করছে। অনেকটা অবাক হয়ে গেলো। কখনও ভাবতে পারে নাই মেয়েটা চড় মারবে। কিন্তু, সে ধারণা পাল্টে যায়।

ফারহানের ওরকম চোখ দেখে ভয় পেয়ে পিঁছুতে লাগলো। ফারহানও একটু একটু এগিয়ে যেতে লাগলো নিশাতের দিকে। সেটা দেখে নিশাত আরও ভয় খাচ্ছে খুব।
ফারহান এগিয়ে যাচ্ছে। মনের ভেতর নানা রকম চিন্তাভাবনা জড়িয়ে গলা শুকিয়ে যাচ্ছে নিশাতের।

নিশাত দেওয়ালের সাথে ধাক্কা খায়। সে পিছনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তা ব্যর্থ হয়। শরীর দেওয়ালের সাথে ঠেকে গেছে।
ফারহান নিশাতের দুহাত দেওয়ালের সাথে লেপ্টে ধরে। নিশাত হাতটা ছাড়ানোর চেষ্টা করলে ব্যর্থ হয়। ব্যথা পেলেও তবুও আবার চেষ্টা করে। কিন্তু, এমন ভাবে চেপে ধরে আছে দেওয়ালের সাথে। যত চেষ্টা করা হয় না কেনো কোন লাভ হবে না। তবুও যে নিশাত চেষ্টা করে যাচ্ছে,,,

ফারহানের চোখে অশ্রু ভেসে ভেড়াচ্ছে। নিশাত হাতে ব্যথা পাবে সেটার কোন লক্ষ নেই ফারহানের। দুহাত দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে আছে। কোন কথা বলছে না। নিজের রাগকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছে ফারহান। কিন্ত, সেটা হচ্ছে না।
---তুই আমাকে চড় মারলি,,, আজ আমি তোর এমন কিছু করবো যে, কখন সমাজের কাছে মুখ দেখাতে পারবিনা। ( প্রচন্ড রেগে)
---আ,,আ,,আমি ইচ্ছে ক,,করে চ,,,
.
ফারহানের আঙ্গুল নিশাতের ঠোঁটের উপরে রাখলো। তখন নিশাত চুপ হয়ে যায়। ।
নিশাতের গা' শিউড়ে উঠে। এই প্রথম কোন ছেলে তার এত কাছে এসে ঠোঁট স্পর্শ করছে। অনেক ভয় খেয়ে যায়। এমন কথা শুনে। চোখের ভেতর অশ্রু জমে গেছে।
তারপর ফারহান আবার বললো,
---এই মেয়ে নিজেকে কি মনে করিস,,? তোমার সাথে এগিয়ে এসে কথা বলছি বলে মনে করিস না তোর প্রেমে পড়ে গেছি,,! তোর মত অনেক মেয়ের প্রোপজাল পেয়েছি বুঝলি,,,। আর তুইতো পিচ্চি। আর তুই আমাকে ঠাস করে চড় মেরে দিলে। হাত ধরেছি বলে চড় মারতে হবে তোর। নিজেকে কি মনে করিস বল,,,?
---আ,,আমি ইচ্ছে করে আপনাকে চড় মারি নাই। আমার ভুল হয়ে গেছে। আমাকে ক্ষমা করে দেন। আমাকে ছেড়ে দেন প্লিজ। (কেঁদে কেঁদে)
---চুপ,, একদম চুপ। কোন কথা বলবিনা।
---আমি তো আ,,আপনাকে কি,,কিছু করি নাই। আমাকে ছে,,ছেড়ে দিন প্লিজ,,
---বলছি না তোকে চুপ করতে। (রেগে)
---আপনি আমার সাথে এমন করেন কেনো,,,? আমি আপনাকে কি করেছি,,,?
---তোকে দেখলে আমার সহ্য হয় না। তোদের মত মেয়েদের দেখলে আমার রক্ত তিব্র আকার ধারণ করে। তোরা পৃথিবীর সহজসরল মানুষদের তোদের ফাঁদে ফেলে যা ইচ্ছা করিস,,,
---আমি কি কিছু করেছি আপনাকে,,,আমি আপনার পায়ে পড়ি। আমাকে কিছু করবেন না প্লিজ। আপনি আমাকে যা বলবেন আমি তাই করবো। তবুও আমাকে ছেড়ে দিন প্লিজ। ( অঝরে কেঁদে)
---তোরা তো প্রথমে এরকম করিস। তারপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তিব্র যন্ত্রণায় জাল বুনিস। পরে সেই জালে সবাই আটকে যায়। আর তখন তোরা নিজের জন্য সব করতে দ্বিধাবোধ করিস না। একটা জীবন ধংস করে দিতে একটু থেমে যাস না। তোদের মত মেয়েদের আমি ভালো করে চিনি।
---আমি তো কি,, কিছু করি নাই আপনাকে। আপনি কেনো আমার সাথে এরকম করছেন। আমি আপনার পায়ে পড়ি। আমাকে ছেড়ে দিন। আমি এই বাসা ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাব। আর কখন আপনার সামনে আসবো না। এখন আমাকে ছেড়ে দেন প্লিজ।,, (কেঁদে কেঁদে)
---হাহাহাহা,,,
.
ফারহান অদ্ভুতভাবে একটা অট্রো হাসি দেয়। সেটা দেখে নিশাত খুব ভয় পেয়ে যায়। এ কেমন ছেলে,,? সে কি একটা নরপিশাচ,,? আমি কি তার হাতে,,! হে, আল্লাহ " আপনি আপনাকে এই পিশাচের হাত থেকে রক্ষা কর। মনে মনে বলে উঠলো নিশাত।
---তুই দেখতে খুব সুন্দরী,,,
.
নিশাত আরও ভয় পেয়ে যায় কথাটা শুনে। ভয় পেলে কি আর হবে। সে যে আজ নিরুপায়। সে যে পিশাচের হাতে বন্ধি।
নিশাতের যতটুক শক্তি আছে ততোটুকু দিয়ে আবার চেষ্টা করলো ফারহানের থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য। কিন্তু, তার শক্তি দিয়ে ফারহানের শক্তিতে হার মেনে যায়।
.
.
---আম্মু এই নাও তোমার কফি। আমি গেলাম ছাঁদে।
---এই শোন,,
---বল আম্মু তাড়াতাড়ি।
---ফ্লাক্সটা দিয়ে যাতো মা।
---আচ্ছা এনে দিচ্ছি।
.
চৈতী ফ্লাক্সটা দিয়ে ছাঁদের দিকে চলে যেতে লাগলো।
.
---কি রে কি ভাবছিস,,! আমি পিশাচ,,, হাহাহা,,
.
আবারও একি হাসি দিল ফারহান। নিশাত এবার অঝরে কাঁদতে লাগলো ফারহানের দিকে তাকিয়ে। নিশাতের যতটুকু শক্তি আছে তা দিয়ে চেষ্টা করছে নিজেকে রক্ষা করার জন্য। কিন্তু, তার চেষ্টা ব্যর্থ। হে, আল্লাহ্! তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি পারলাম না নিজেকে সেভ রাখতে। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি আজ শেষ হয়ে যাব হয়তো। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও,,,
---কি রে ভয় পাচ্ছিস,,,
.
নিশাত অশ্রু ভরা চোখ নিয়ে শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। ছেলেটা যেসব কথা বলেছে সেগুলি শুনে কি বলবে। নিজেকে খুব ঘৃণা করছে। এমন ছেলেকে মনে মনে ভালোবেসে ফেলেছে। এই ছেলেকে কখনও ভালোবাসা যায়না। কখনও না। ওতো একটা পিশাচ। না জানি কত মেয়েকে,,,
আজ আমিও ওই মেয়েদের মত তার হাতে নিজের জীবন বিসর্জন দিচ্ছি,,, কথা মনে হতে গা শিউড়ে উঠছে।
---কি রে, কি ফাঁদ তৈরি করছিস?
---আমাকে ছেড়ে দিন প্লিজ,, আপনি আমাকে যতখুশি তত চড় মারেন। আমি কিচ্ছু বলবো না। তবুও আমার কোন ক্ষতি করবেন না, প্লিজ।
.
.
ওহ্ ফোনটা মার কাছে। ধ্যাত ফোনটা আনা হয়নি। আবার চলে গেলো চৈতী সিঁড়ি থেকে। প্রায় ছাঁদের কাছাকাছি এসেছে আর ওমনি ফোনের কথাটা মনে পড়ে যায়।

চৈতীকে দেখে মমতা রহমান বলে উঠলো,
---কি রে কিছু হয়েছে,,,?
---না আম্মু।
---তাহলে,,,
---ফোনটা নেওয়ার জন্য এসেছি।
---ও,,এই নি। কথা বলে বিছানায় রেখে দিছি।
.
চৈতী ফোনটা নিয়ে ছাঁদের দিকে গেলো।
.
.
---আসলে আমার ভুল। আমি না জেনে তোমাকে সেদিন ইচ্ছে করে এক্সিডেন্ট করি। আর কিছু একটা নিয়ে চড় মারি। আমি তারপরে ইচ্ছে করে চড় মারি নাই। বিশ্বাস কর। আমার রাগ এতো বেশি যে সেটা কন্ট্রোল করতে না পেরে তোমাকে চড় মেরেছি। আর বিশেষ করে আমার মা-বাবকে নিয়ে কেউ যদি কথা বলে তাহলে আমি আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি না। তাই তো চড় মেরেছি। কারণ, তুমি যতবার আমার সাথে কথা বলেছো। ততবার আমার মা-বাবকে নিয়ে বলেছো। তাই আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি নাই। আর আজ এই বিহেভিয়ার জন্য সত্যি দুঃখিত।
.
নিশাত ফারহানের কথাটা শুনে বিশ্বাস করতে পারছেনা। ফারহান কি দুমুখো মানব,,? যখন তখন রুপবদলাতে পারে। হয়তো আমাকে কাছে পেতে এরকম ছলনাময়ী অভিনয় দেখাচ্ছে। তার কথাকে কখন বিশ্বাস করা যাবে না। কখনও না। একটু আগে যে রুপ দেখলাম। কখন সে ভালো মানুষ হতে পারে না। আমি কখন সেটা করবো না। নিশাত মনে মনে বললো কথাগুলি।
---কি হলো, আমাকে বিশ্বাস করতে পারছোনা তাই তো। আমি জানি বিশ্বাস করতে পারবেনা।
.
নিশাত শুধু ফারহানের কথা শুনছে। হ্যা বা না কিছুই বলছেনা। আর কি করে বিশ্বাস করবে। এই ভালো রুপের মাঝে যে খারাপ রুপ আছে সেটা কি করে বুঝবে। না না কখনও তার কথায় আমাকে বিশ্বাস করা যাবে না। (নিশাত)
---আচ্ছা বিশ্বাস করতে হবে না। আমাকে ক্ষমা করে দিও,,, I Am Really Many Many Sorry...
.
কথাটা শুনে নিশাত কি করবে বুঝে উঠতে পারছেনা। ফারহানের চোখের মাঝে নিশাত তাকিয়ে থাকতে পারছেনা। কি যেন তাকে আকর্শন করে। সব কিছু ভুলে যায়। হয়তো প্রেমের মাহয়ারিতে পড়ে আছে।
.
---ভাইয়া,,,
পাশ থেকে চৈতীর কন্ঠটা শুনে চমকে গিয়ে ফারহান নিশাতের হাতটা ছেড়ে দেয়।
নিশাত চমকে যায়। কিছুটা দূরত্ববজায় রাখে। নিশাত তাড়াতাড়ি করে চোখের পানি মুঁছে ফেলে। যেন না বুঝতে পারে সে কেঁদেছে। কিন্তু, হাতটা ব্যথা অনুভব করছে। যেভাবে দেওয়ালের সাথে লেপ্টে ধরে ছিল তার হাতটা।

ফারহান চোখটা মুঁছে পাশ কেঁটে চলে গেলো।
চৈতী কয়েকবার ডাক দিল। কিন্তু, ফারহান না থেমে চলে গেলো।
চারদিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে। আজকের সূর্যটা পশ্চিমাকাশে লুকিয়ে পড়বে কিছুক্ষণ পরে।
.
চৈতী নিশাতের কাছে চলে গেলো। কি বলবে,। কিছুই বুঝতে পারছেনা। চোখের সামনে এসব কি দেখলো। কি করে তার সাথে কথা বলবে। নিশাত কি ভাববে,,? তার ভাই একটা,,, না না,, আমার ভাইয়া খারাপ হতে পারে না। আমি আমার ভাইয়াকে চিনি। সে এমন কিছু করবে না যাতে তাদের মাথা হেট হবে। কিন্তু, চোখের সামনে যেটা দেখেছে। সেটা দেখে সব বিশ্বাস আজ মাটি চাঁপা পড়ে গেছে।
.
নিশাত মনে মনে আস্তাগফিরুল্লাহ পাঠ করছে। এতোদিন যে, চৈতী আর ফারহানকে,,, না না এটা মুখে আনা পাপ। ওরা তো ভাইবোন। হে, আল্লাহ্! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমি না জেনে এসব বলেছি। আমাকে ক্ষমা করে দিন।
---নিশাত একটা কথা বলতে পারি। I Men তুমি ভাইয়াকে চেনো,,,?
---নিশ্চুপ ।
.
নিশাত রেলিং ধরে রক্তিম সূর্যটা দেখছে। না পারছে চিৎকার করে কাঁদতে। না পারছে কষ্টটা লুকাতে।
নিশাতকে চুপ দেখে চৈতী বুঝে ফেললো। তার ভাইয়া এমন কিছু করেছে যেটা নিশাত বলতে অনিচ্ছুক করছে। তাহলে, ১৮ বছর ধরে এই মিথ্যে জেনে, ভেবে এসেছে।
---নিশাত চুপ করে থেকো না। উত্তর দাও,,?
.
নিশাত ঘুরে তাকালো চৈতীর দিকে।
---না।
---মিথ্যে বলবে না । আমি জানি, তুমি ভাইয়াকে চেনো।
,
নিশাত ঘুরে তাকালো চৈতীর দিকে। কি বলবে চৈতীকে,,? সে তো বিশ্বাস করবে না। আর কি করে বিশ্বাস করবে। চোখের সামনে এসব দেখলে কেই বা বিশ্বাস করবে যে, আমি চিনি না। কারণ, কোন অপরিচিত মেয়েকে ওমন ভাবে দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না যে, আমি চিনি না। যাই হোক আমি কিছু বলবো না চৈতীকে। (নিশাত মনে মনে বললো)
নিশাতের নিরবতা দেখে চৈতী বলে উঠলো,
---আমি জানি, তুমি ভাইয়াকে ভালোবাসো,,!
.
কথাটা শুনে নিশাত, চৈতীর দিকে তাকালো। কি বলবে এখন,,? আসলে তো, নিশাত ফারহানকে ভালোবেসে ফেলেছে। না, না, ওই পিশাচকে কখনও ভালোবাসা যায় না। আমি ভুল মানুষকে ভালোবেসে ফেলেছি। আর নিশাত কেমন করে জানলো,,? হয়তো আন্দাজে বলছে।
চৈতী বলে উঠলো,
---আমি জানি তুমি কি ভাবছো,,!
.
নিশাত অবাক হয়ে গেলো। আমি কি ভাবছি,,। সেটা চৈতী জানে।
চৈতী নিশাতের মুখ দেখে বলে উঠলো,
---আমি কেমন করে জানলাম তাই তো।
---না,, মানে।
---তুমি ভাইয়াকে একটা পিশাচ ভেবেছো তাই তো। কি ঠিক বলি নাই।
.
নিশাত আশ্চর্য হয়ে যায়। আমি কি ভাবছি,, সেটা জানে। কেমন করে জানে। বোধহয়, " আল্লাহ তায়ালা " নিশাতকে এই ক্ষমতা দিয়ে দিছে।
---তুমি কি ভাবছো এটাও বলে দিতে পারি,,!
.
নিশাত আরও অবাক হয়ে যাচ্ছে।
---আমি কেমনে জানলাম তাই তো। আসলে, "আল্লাহ তায়ালা " আমাকে এই ক্ষমতা দিয়েছে। মাঝে মাঝে বলতে পারি।
.
নিশাত ঘুরে তাকিয়ে সন্ধ্যা শহর দেখছে। কি মায়া মায়া একটা ভাব এসেগেছে শহরে। হালকা হালকা কুয়াশার মত আবছা আবছা হয়ে আসছে চারদিকে।
---আমি জানি ভাইয়া এমন কিছু করবেনা যাতে তুমি লজ্জিত হও,,। তাই আমি ভাইয়ার পক্ষ হতে ক্ষমা চাচ্ছি। I Am So Sorry Nishat,,,
.
নিশাত কথাটা শুনে ঘুরে তাকালো চৈতীর দিকে। কি অদ্ভুত ভাবে বলছে। কন্ঠসর কেমন যেন অন্যরকম লাগছে।
---তোমার ভাইয়ার প্রতি এতো কনফিডেন্স (Confidence)...?
---আমি আমার ভাইয়াকে ১৮ বছর ধরে চিনি। এমন কিছু করবে না যাতে তুমি সমাজের কাছে বরং নিজের কাছে লজ্জিত হও।
---এতো কনফিডেন্স সবার ভাইয়ার উপর থাকে।
.
নিশাত আর কিছু বলতে পাড়ছেনা। কি বলবে,,, মাথায় কিচ্ছু ঢুকছেনা। কি থেকে কি বলছে কিছুই বুঝতে পাড়ছেনা। কেনো রুমে যেতে পাড়ছেনা সেটাও বুঝতে পাড়ছেনা।
---হ্যা, তা ঠিক। কিন্তু, আমার ভাইয়া তাদের থেকে আলাদা। ভাইয়ার প্রায় সব ঘটনা আমাকে বলে।
---এতো কনফিডেন্স তোমার ভাইয়ার প্রতি। বাহ্! খুব ভালো।
---হ্যা, অনেক কনফিডেন্স,,। কারণ, তোমাকে যে চড় মেরেছে সে কথাটাও আমাকে বলেছে।
.
নিশাত আবার চৈতীর দিকে তাকালো। চড় মেরেছে সেটাও বলেছে,,,? হয় তো যেটা বলা যাবে সেটা বলে। কিংবা খারাপ কথা লুকিয়ে মিথ্যে গল্প বানিয়ে বলে,,!
---হয়তো খারাপ দিকগুলি না বলে পজিটিভ দিক গুলি বলে। এটাই তো স্বাভাবিক,,।
---নো, তোমাকে ইচ্ছে করে চড় মারে নাই। মনে করেছিল তুমি তিথি,,,
---হোয়াট,,,! তিথি মানে,,,
---হুবাহু তোমার মত দেখতে।
---তাই বলে আমি তিথি সিয়র ছিল,,,
---জানি না। কিন্তু, পড়ে তোমার কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য গিয়েছিল ভার্সিটিতে । কিন্তু, তার আগে তুমি অঘটন ঘটালে তাই ভাইয়া রাগকে কন্ট্রোল করতে না পেরে তোমাকে চড় দেয়। এতো রাগ ছিল না ভাইয়ার। আর বেশির ভাগ রাগ হলো সুন্দরী মেয়েদের প্রতি ।
---তোমার কথা আমি কিচ্ছু বুঝতে পারছিনা। আমার মাথার ভেতর কিচ্ছু ঢুকছে না।
---আর একটা কথা তোমাকে বলি,,,
---বল। তোমার ভাইয়ার কোন কথা বলবা না প্লিজ,,
---আমি জানি ভাইয়া তোমাকে হাতটা ধরেছিল। এর বেশি কিছু হয় নি।
---যদি বলি তোমার ভাইয়া,,,,
---থামলে কেনো বলো,,,আমি জানি তুমি যেটা বলতে চেয়েছিলে সেটা বলতে পাড়বেনা। কারণ, ভাইয়াকে এখনও ভালোবাসো। আর ভালোবাসার মানুষটির প্রতি কোন মিথ্যে কিছু বলতে পাড়বেনা। তোমার গলা কাপছে। কি ঠিক বলছি না,,,
---প্লিজ স্টপ চৈতী,,,
.
চৈতী আর কিছু বললো না।
নিশাত রেলিং ধরে আছে। পশ্চিমাকাশে সূর্যটা লুকিয়ে পড়েছে। চতুর্দিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে।
শহরের প্রতিটা রুমে থেকে আলো ছড়িয়ে পড়ছে জানালা পেরিয়ে। কি অদ্ভুত একটা সময়। আল্লাহ তায়ালা " তার কত নিয়ামত। দিন থেকে রাতের রুপান্তরিত করছে।
দিনের বেলায় কোন লাইট /বাতি লাগেনা। সূর্যের নিজেস্ব আলো দিয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে আমাদের দেশ সহ সারা পৃথিবী।
.
নিশাত একটু এগিয়ে গিয়ে বললো,,
---তিথি কি আমার মত দেখতে,,,?
.
চৈতী নিশাতের মুখের দিকে তাকালো।
---কেনো,,,?
---না মানে,,,
---না মানে কি তিথির সম্পর্কে জানতে চাচ্ছো তাই না,,,
---জানি না।
---আজানের সময় হয়েছে নামাজ পড়বে না।
---না,,! আজ পড়ব না। তুমি,,,?
---আমি পড়ি,,, কিন্তু, আজ পড়তে ইচ্ছে করছেনা। আর ভালো লাগছেনা। কাল থেকে পড়ব।
---ও,,
---তুমি কি আজানের জবাব দিতে পাড়,,,?
---বুঝলাম না,,,?
---আরে আজানের উত্তর বলে। মানে, মুয়াজ্জিন সাহেব যখন আজান দেয় তখন সে যা বলে সেটাই বলা। আর যখন আজানের মধ্যে, মুয়াজ্জিন সাহেব বলবে "“হাইয়্যালাচ্ছ ছলাহ্” ""তখন বলবে,,, লা হাওলা ওলাকুয়াতা ইল্লাবিল্লা।"“হাইয়্যালাচ্ছ ছলাহ্” ""তখন বলবে,,, লা হাওলা ওলাকুয়াতা ইল্লাবিল্লা।,,, আবার যখন বলবে,,, ""হাইয়্যালাল ফালাহ্” তখন বলবে,,, লা হাওলা ওলাকুয়াতা ইল্লাবিল্লা। ""হাইয়্যালাল ফালাহ্” তখন বলবে,,, লা হাওলা ওলাকুয়াতা ইল্লাবিল্লা।
---এটা বললে কি জবাব দেওয়া হয়। আর এতে কি নেকি বা সওয়াব পাওয়া যাবে,,,?
---তারপর দরুদ শরীফ পড়বে। তাহলে নেকি ও সওয়াব পাবে। আর আজানের জবাব দেওয়া প্রত্যেক মুসলমান ব্যক্তির দরকার।
---ঠিক আছে,,,
.
নিশাত তাই করলো। আজানের সাথে সাথে জবাব দিল তারপর দরুদ পড়লো।
নিশাত একটু পর আবার বললো,
---চৈতী তিথি কে,,,,?
.
চৈতী তাকালো নিশাতের দিকে। জানে তিথির কথা জিজ্ঞেস করবে নিশাত।
---কি হলো এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো চৈতী,,?
---এমনি।
---তিথি কি তোমার ভাইয়ার প্রেমিকা,,!
---না,,,
---তাহলে,,,
---শুনবে।
---হুম,, হুম,,
---আচ্ছা বলছি তাহলে,,,, ভাইয়া যাকে ভালোবাসতো তার নাম মিষ্টি। সেদিন ছিল মিষ্টির বড় বোনের বিয়ের দিন। মিষ্টির বোনের বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়। রাতে বসে আড্ডা দিচ্ছিল ভাইয়া সবার সাথে তখন মিষ্টি আপি চলে আসে সেখানে।
.

বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (৯ম পর্ব)

রুমের জানালা টা খোলা।
নিশাত খাটের এক পাশে বসে আছে।
জানার ফাঁক দিয়ে পূর্ণিমার চাঁদের
আলো সোজা তার চেহারায় এসে পড়েছে।

জানালার পাশে এক কাপ কফি। নিশাত আনমনে কিছু একটা ভাবছে,,! আজ ঘুম নেই চোখে,,।
গত দুই দিন ধরে নির্ঘুম রাত কাটছে। ঘুমাতে পারছে না ঠিক মত। শরীরে হালকা হালকা জ্বর এসেছে।

মাজেদা বেগম রুম থেকে বের হয়ে টেবিলে চলে আসে। টেবিলে এসে জগটা থেকে পানি ঢেলে এক গ্লাস পানি নিয়ে যেতে মেয়ের রুমের দিকে চোখ যায়। রুমের ভেতর ড্রিমলাইটের আলোতে অল্প আলো দেখা যাচ্ছে। দরজাটা খোলা দেখে মাজেদা বেগম মেয়ের রুমের দিকে চলে গেলো।
.
রুমের ভেতর গিয়ে দেখে যে নিশাত গুটি মেরে বিছানার এক পাশে আন মনে বসে আছে জানালার দিকে তাকিয়ে। জানার ফাঁক দিয়ে পূর্ণিমার চাঁদের আলো এসে সোজা নিশাতের চেহারায় এসে পড়েছে। দেখতে অসম্ভব দেখাচ্ছে নিশাতকে। জানালার পাশে কফির মগ।

মাজেদা বেগম মেয়ের পাশে বসে মাথায় হাত দিয়ে বলে,
---কি রে মা এখনও ঘুমাস নাই,,মন খারাপ নাকি,,,।
,
মাথায় হাত দেওয়াতে চমকে যায়। কথাটা শুনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে, চমকে উঠে পিঁছনে ফিরে তাকায়,,
---না আম্মু। এমনি ঘুম আসছে না। তাই বসে পূর্ণিমারাত অনুভব করছি।
---কফিটা তাও তো খাস নাই মনে হচ্ছে।
---আম্মু খেতে ভালো লাগছে না।
---আমি কি আবার কফি বানিয়ে আনবো,,?
---না আম্মু। আমার খেতে ভালো লাগছে না।
---আমি কি মাথায় হাত বুলিয়ে দেব।
---হুমম। (মাথা নাড়িয়ে)
---আচ্ছা তুই শুয়ে পর। আমি চাঁদর দিয়ে দিচ্ছি।
---আম্মু তোমার কোলে শুয়ে পড়ি।
.
মেয়ের কথাটা মৃধু হেসে দিল।
---আচ্ছা আমি জানালাটা বন্ধ করে দেই।
---আচ্ছা দাও।
.
মাজেদা বেগম বিছানা থেকে উঠে জানালাটা বন্ধ করে আবার বিছানায় চলে আসে।

নিশাত মায়ের কোলে মাথা রেখে গুটিসুটি হয়ে শুয়ে পড়লো। মাজেদা বেগম বিছানার চাঁদরটা নিশাতের গায়ে দিয়ে দেয়। মাজেদা বেগম মেয়ের মাথা বুলিয়ে দিচ্ছে। নিশাত একটু নড়েচড়ে আবার মায়ের কোলে গুটিসুটি মেরে শুয়ে পড়ে। মাজেদা বেগম মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
.
মাজেদা বেগম মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে নিজেও ঘুুমিয়ে যায়। নিশাত একটু নড়েচড়ে উঠতে মাজেদা বেগম ঝাঁকি দিয়ে উঠে। চোখ খুলে দেখে যে নিশাত ঘুম জগতে পারি দিছে।
মাজেদা বেগম তখন ঘড়ির দিকে তাকায়। ঘড়ি তখন ১২:০৩ মিনিট বাজে।

মাজেদা বেগম নিশাতের শরীরে ভালোভাবে চাঁদর দিয়ে দরজা আস্তে করে লাগিয়ে দিয়ে মাজেদা বেগম রুমে চলে যায়।
.
.
ফারহান দুপুরবেলা আজ ঘুুমিয়ে আছে।
বুকের উপর একটা বই। বই পড়তে পড়তে কখন যে ঘুুমিয়ে পড়েছে সেটা জানে না।
কারও ধাক্কাধাক্কিতে ঘুম ভেংগে যায় ফারহানের। ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখে চৈতী। আবার বালিশে মাথা রেখে ঘুুমিয়ে যায়।
---এই ভাইয়া,,,
---কি হয়ছে,,,যাতো,, একটু ঘুমাতে দে।
---অনেক ঘুম পারছিস। এখন ঘুম থেকে উঠে পড়।
---যা তো তুই। আমি ঘুম পারবো।
---একটু পর আছরের আজান দিবে তো। এই সময় ঘুম পাড়তে নেই ভাইয়া।
---ডিস্টার্ব করিস না তো তুই। আমি ঘুমাবো।
---ভাইয়া উঠ তো,,,
.
চৈতী ফারহানকে জোর করে ঘুম থেকে উঠিয়ে দেয়। কি আর করা। ফারহান ছোটবোনের জোরাজোরি করাতে উঠে পড়ে। তারপরে চৈতী চলে যায়।

ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে ৪:৪০ বাজে।
একটু ঘুমিয়েছে। শান্তিতে ঘুম পাড়া যায় না। কিছুক্ষণ মনে মনে বক বক করে বিছানা থেকে উঠে ওয়াশরুমে চলে যায়।
.
.
এদিকে নিশাত সন্ধ্যায় পড়তে বসেছিল।
তারপর পড়া শেষ করে রাতের খাবার খেয়ে নিশাত টিভি দেখছে।
পাশে থাকা ফোনটা বেজে উঠে। নিশাত ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখে টুম্পা ফোন দিয়েছে। ফোনটা রিসিভ করে নিশাত।
---হ্যালো,,
---কেমন আছিস দোস্ত,,?
---আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো আছি দোস্ত,,,তুই,,,?
---আমিও আল্লাহুর রহমতে ভালো আছি,,, আংকেল আন্টি কেমন আছে,,?
---আলহামদুলিল্লাহ্,, আল্লাহুর রহমতে ভালো আছে,, আংকেল আন্টি ও রিফাত (রিফাত টুম্পার ছোটভাই) কেমন আছে,,?
---আমারও আল্লাহুর রহমতে সবাই ভালো আছে। খাইছিস দোস্ত,,?
---হ্যাঁ দোস্ত। তুই,,?
---আমিও খেয়েছি আল্লাহুর রহমতে। কি করিস এখন,,,?
---টিভি দেখছি,,,। তুই,,,?
---টেবিলে বসে আছি,,?
---পড়ছিস নাকি রে দোস্ত,,,!
---আর বলিস না তুই,,,আমি পড়ার নামে টেবিলে বসে আছি,,। আজ পড়তে মন চাচ্ছে না। তাই তোকে ফোন দিলাম।
---ও,, তাহলে সুন্দর একটা ঘুুম দে। সকালে উঠে দেখবি মনটা ভালো লাগছে।
---হ্যাঁ রে দোস্ত,,, আর শোন,,
---বল,,,
---শনিবারে ভার্সিটিতে থেকে ফুঁচকা খেতে যাব লেকের পাড়ে।
---কাল শুক্রবার,,, মাঝখানে ১ দিন আছে। আল্লাহ্ তায়ালা বাঁচিয়ে রাখলে যাব।
---ওকে দোস্ত,,,ভালো থাক,, টিভি দেখ।
---আল্লাহ হাফেজ।
.
টুম্পা ফোন কেটে দেয়।
নিশাত ফোনটা সোফায় রেখে টিভি দেখতে মুগ্ধ হয়ে যায়।
.
.
চৈতী মায়ের কপালে জলপট্টি করছে। জ্বর এসেছে প্রচন্ড শরীরে। বিকালের দিকে জ্বর ছিল না। এখন গা ঝারা দিয়ে জ্বর এসেছে।
অনেক্ষন আগে চলে গেছে ফারহান মায়ের জন্য ঔষুধ কিনতে । এখনও আসছেনা দেখে চৈতী ফোন করে ফারহানের কাছে।
একটুখানি রিং বেজে ফারহান রিসিভ করে।
---হ্যালো,,,
---ভাইয়া কোথায় তুই,,,?
---এইতো বাসার কাছাকাছি। কোন রিক্সা ছিল না। তাই লেট হচ্ছিল।
---আম্মুর জ্বর তো কমছে না। একটু তাড়াতাড়ি আয়।
---তুই জলপট্টি করতে থাক। আমি দ্রুত আসতেছি।
---তাড়াতাড়ি আয় ভাইয়া।
.
ফোনটা রেখে দেয় ফারহান।
মমতা রহমান চোখ খুঁলতে পাড়ছেন না। চোখ বুঝে অনেক কষ্ট করে বলে উঠলো,
---ফারহান কোথায় মা। ( আস্তে করে)
---এই তো বাসার কাছে চলে এসেছে,, একটু পর চলে আসবে আম্মু।
---ও,,,
.
মমতা রহমান লম্বা লম্বা দম নিচ্ছে। মাথায় প্রচন্ড ব্যথা করছে। চোখ খুলতে পারছেনা।
.
একটুপর ফারহান ঔষুধ নিয়ে চলে এলো।

হালকা কিছু খেয়ে এন্টিভ্যাওটিক ঔষুধ খায় মমতা রহমান।
মায়ের পাশে বসে থাকে ফারহান, চৈতী। মিজান সাহেব গত দুদিন হলো বাসায় নেই । বাসায় না থাকায় আরও বেশি করে জ্বর বেধে যায় মমতা রহমানের।

জ্বরের সাথে ঘুমের ঔষুধ খাওয়ায়ে দেওয়াতে একটু পর মমতা রহমান ঘুমিয়ে যায়।
---ভাইয়া অনেক রাত হয়ছে তুই গিয়ে ঘুুমা । আমি আম্মুর কাছে শুয়ে থাকি।
---আমি আম্মুর কাছে ঘুমিয়ে থাকি। তুই তোর রুমে গিয়ে ঘুম পাড়।
---তুই তোর রুমে গিয়ে ঘুম পাড় ভাইয়া। আমি মায়ের সাথে শুয়ে থাকি। কোন সমস্যা হবে না।
---আচ্ছা যাচ্ছি,,,
.
ফারহান চলে গিয়ে কি ভেবে দরজার কাছ থেকে ফিরে এসে বলে,
---যদি আম্মুর আবারও জ্বর ওঠে। তাহলে আমাকে ফোন দিস। আর কোন সমস্যা হলে ফোন দিয়ে জানাস।
---ঠিক আছে ভাইয়া,,, তুই গিয়ে ঘুমা। কোন সমস্যা হলে ফোন দিব নি।
.
ফারহান রুম থেকে বের হয়ে নিজের রুমে চলে যায়। রুমে এসে পোশাক চেন্জ করে ঘুমিয়ে যায়।
.
.
সকালে মমতা রহমানকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে দেখিয়ে আনে ফারহান।
ডাক্তার থ্যামোমিটার দিয়ে জ্বর মেপে ঔষুধ দেয়। পরে তারা দুজনে বাসায় চলে আসে।
.
ফারহান ও মিজান সাহেব জুম্মার নামাজ পড়তে মসজিদে চলে যায়।
সারা সপ্তাহে নামাজ না পড়লেও জুম্মার নামাজ (শুক্রবারের নামাজ) নিয়মিত প্রতি সপ্তাহে জুম্মার নামাজ পড়ে।
.
নামাজ পড়ে এসে খেয়ে দেয়ে আরাম করার জন্য গা এলিয়ে দেয় খাটের সাথে ফারহান । সারাদিন খাওয়া দাওয়া আর বই পড়া ছাড়া কিচ্ছু কাজ নেই ফারহানের।
চাকরির জন্য কয়েক যায়গায় সিভি (CV) জমা দিয়েছে।
কিন্তু, চাকরি পছন্দমত হয় না ফারহানের। তাই ভালো স্যালারি চাকরি পেয়ে জয়েন করে না ফারহান।
কাল একটা সরকারি অফিসের জন্য CV জমা দিয়েছে। এটার ইন্টারভিউ ছাড়া কিছুই কাজ নেই এখন।

ফারহান বিছানা থেকে উঠে গিয়ে বুক সেল্ফের দিকে চলে যায় বই পড়বে বলে।
একটা বই নিয়ে এসে বিছানায় হেলান দিয়ে পড়তে থাকে।
.
.
নিশাত রুম থেকে বের হয়ে মায়ের রুমে চলে যায়।
মাজেদা বেগম বিছানায় শুয়ে আছে। আজ আব্বু নেই। আমজাত আলি জুম্মার নামাজ পড়ে এসে খেয়ে একটু আরাম করে বাহিরে চলে যায়। তাই মাজেদা বেগম শুয়ে আছে। এখন কোন কাজ নেই।
মেয়ের উপস্থিতি দেখে নিজেই বলে উঠলেন,
---কিছু বলবি মা,,?
---না মানে একটু ছাঁদে যেতাম।
---আচ্ছা যা। কিন্তু, সন্ধ্যা হওয়ার আগে চলে আসবি।
---ঠিক আছে আম্মু,,,
.
নিশাত চলে যায় ছাঁদের দিকে।

সিঁড়ি ভেয়ে ছাঁদে উঠে আসে নিশাত।
ছাঁদে উঠে এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলো কোথাও মানুষ আছে কিনা। যদি থাকে তাহলে গল্প করতে করতে বিকালটা কাটানো যাবে। হ্যাঁ, ছাঁদে একজন আছে। সে হলো চৈতী,,। এই বাড়িওয়ালার মেয়ে। নিশাতের গল্প করতে খুব ভালো লাগে।
.
নিশাত চলে গেলো চৈতীর কাছে। একি ভার্সিটিতে পড়াশোনা করে দুজন। ডিপার্টমেন্ট ভিন্ন। কিন্তু, পরিচয়টা হয়েছে আগের বাসা থাকার সময়। সেরকম কথা হয় না চৈতীর সাথে। দরকার ছাড়া কিছুই কেউ বলে না। নিশাত চৈতীর পাশে গিয়ে বলে,
---আমি কি এখানে বসতে পারি,,?
.
চৈতী পিঁছন ফিরে তাকিয়ে দেখে নিশাত। তখন চৈতী মিষ্টি হাসি দিয়ে বলে উঠে,
---এখানে বসার অনুমতি লাগবে নাকি। তাও আবার এই বাসার ভাড়াটিয়া। সমস্যা নেই তুমি বসতে পার।
,
নিশাত বসতে বসতে বলে উঠলো,
---হ্যাঁ, তা ঠিক। কিন্তু, আমাদের জন্য তো ছাঁদ ভাড়া দেওয়া হয় নাই।
---তুমি এসব কি বলছো। বাসা ভাড়া নিয়েছো। ছাঁদ কেনো ভাড়া দিতে হবে। প্রয়োজন হলে তারা আসবে সমস্যা কি তাতে,,,
---আর বলো না চৈতী। আমরা যে আগের বাসায় থাকতাম ওখানে বাড়িওয়ালার মেয়ে ছিল। সে যখন ছাঁদে থাকতো তখন কেউ ছাঁদে যেতে পারবেনা। মাঝে মাঝে কেউ ছাঁদে গেলে মেয়েটা রেগে গিয়ে বলে উঠতো "বাসা ভাড়া দেওয়া হয়েছে ছাঁদ ভাড়া দেওয়া হয় নাই। তাই বললাম,,।
---ও,, এই কথা।
---হুম।
---আমরা সেরকম না। যার প্রয়জোন তাকে তো ছাঁদে আসতে হবে। সবার জন্য ছাঁদ ফ্রি।
---ও।
---আচ্ছা বাদ দাও এসব কথা। পড়াশোনা কেমন চলছে,,,?
---এই তো আল্লাহুর রহমতে ভালো। তোমার,,,?
---আমারও আল্লাহুর রহমতে ভালো।
---কি করছিলে ছাঁদে একা একা বসে।
---নানুভাই ফোন দিয়েছিল। রুমের ভেতর আজ নেটওয়ার্ক ছিল না। তাই ছাঁদে এসে কথা বলছিলাম।
---ও,,,
---তুমি হঠাৎ করে আজ বিকালে ছাঁদে এলে।
---এমনি,,! আর আমি প্রায় ছাঁদে আসি।
---ও,,,
---তোমাকে একটা কথা বলি,,,?
---আবার ফোন দিয়েছে একটু কথা বলে নেই।
---ঠিক আছে কথা বল,,
.
চৈতী ফোন রিসিভ করে কথা বলছে।

নিশাত রেলিং ধরে শহর দেখছে আর মনে মনে ভাবতে থাকে ছেলেটা কি হয় জিজ্ঞেস করবো,,? না থাক জিজ্ঞেস করলে যদি মিন্ড করে। এর চাইতে না জিজ্ঞেস করা ভালো।
কিন্তু, নিশাতের মন মানছে না। জিজ্ঞেস করি একটু।
মন ব্যাকুল হয়ে আছে কয়দিন ধরে। ছেলেটাকে ভালোবেসে ফেলেছে নিশাত। কয়দিন ধরে না দেখা হওয়াতে বেশি ব্যাকুল হয়ে পড়েছে।
চৈতীর কথা শুনে এলোমেলো চিন্তা মাথা থেকর পালিয়ে যায়।
---নিশাত, আমি একটু আম্মুকে ফোন দিয়ে আসি,,! নানুভাই কথা বলবে আম্মুর সাথে,,।
---ঠিক আছে,,,
---আমি যাব আর আসব।
---ওকে,,,
.
চৈতী ফোন নিয়ে চলে যায়।
নিশাত আবার ভাবনায় জড়িয়ে যায়। একবার চৈতীকে বলে দেখি,,,? না,, থাক দরকার নেই। কি বলবো আর কি ভেবে আবার ভুল বুঝে ফেলে। এর চেয়ে না বলা ভালো।

সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে হেঁটে কে যেন আসছে। নিশাত পিঁছন ফিরে তাকায়। এখন দেখা যাচ্ছে না। তারমানে সিঁড়িতে আছে। ছাঁদে কেউ আসছে মনে হয়। আর যার দরকার সে আসবে। মনে মনে কথাগুলি বলে আবার শহর দেখতে থাকে রেলিং ধরে।

একটু পর মনে হলো কেউ তার দিকে আসছে। সেটা ভেবে নিশাত পিঁছন ফিরে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায়। বিশ্বাস করতে পারছেনা,,। তাই দুচোখের পলক ফেলে। না সত্যি সেই ছেলেটা।

আজকে ছেলেটাকে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। নীল কালারের একটা পান্জাবি পড়েছে। কালো প্যান্ট পড়া। পায়ে একটা স্যান্ডেল। । চুলগুলি বাতাসে উড়ছে। দেখতে খুব সুন্দর লাগছে।

সে আমার দিকে আসছে,,।
তার আসা দেখে মনে মনে বলে উঠি, ছেলেটা এই ছাঁদে কেনো,,,? এটাই কি তাহলে বাড়িওয়ালার ছেলে,,,? হুমম হতে পারে। আবারও নাও হতে পারে। কারণ, আমি যখন রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন তো নিচ থেকে দেখে ছাঁদে আসে,,? মাথায় বিভিন্ন প্রশ্ন নাড়াচাড়া করছে।

ছেলেটা আমার পাশে এসে দাঁড়ালো। আমি একবার ছেলেটার দিকে তাকালাম। আবার নিচের দিকে তাকালাম। এই ছেলে সামনে এলে তার দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারি না। ছেলেটার চোখে কি জেনো আছে,,?
ছেলেটা পাশ থেকে বলে উঠলো,
---আপনাকে একটা কথা বলবো,,!
.
আমি কিছু বলছিনা। চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি। মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছে না।
আমার নিরবতা দেখে ছেলেটা আবার বলে উঠলো,
---আপনাকে একটা কথা বলতে এসেছি,,,! জাষ্ট একটা কথা বলে চলে যাব।
.
আমার ভেতর থেকে কোন কথা বের হচ্ছে না। কেউ একজন গলা চেঁপে ধরে আছে। এরকম মনে হচ্ছে।
আমার নিরবতা দেখে ছেলেটা বোধহয় রেগে গেছে। তার দিকে একবার তাকিয়ে বুঝলাম।
---এই মেয়ে তোমাকে কি বলছি,,,! কথা কানে যায় না। নাকি বোবা হয়ে গেছো ,! সেদিন তো খুব তো বকবক করছিলে। (রেগে গিয়ে)
.
কথাটা শুনে মেজাজটা গরম হয়ে গেলো। তবুও কিছু বলছিনা। নিজেকে কন্ট্রোল করছি। কি থেকে কি বলবো আর ওমনি ঠাস করে লাগিয়ে দিবে। এটা কখনও করবো না।
---কি হলো কথা বলছো না কেনো,,? নাকি আরও কিছু বলবেন মনে মনে ভাবছেন।
---আমি মটেও সেসব কিছু ভাবছিনা। আপনি বেশি বোঝেন একটু ।
---কি বললি তুই ,,,
---ভদ্রভাবে কথা বলুন,,,
---না বললে কি করবি তুই,,,
---কিছু না,,
.
কথাটা বলে নিশাত চলে যেতে লাগলো পাশ কাঁটিয়ে। তখন ফারহান হাত ধরে ফেলে।
---হাত ছেঁড়ে দিন।
---ছাঁড়বো না।
---ছেঁড়ে দিন বলছি।
---আগে আমার কথাটা শুনে যাও।
---আপনার কোন কথা শুনতে আমার ইচ্ছে নেই।
---মেজাজটা গরম করবে না বলে দিচ্ছি।
---আপনার তো সব সময় মেজাজটা গরম থাকে মনে হচ্ছে। আপনি আমার হাত ছেঁড়ে দেন।
---আমার কথাটা না শোনা পর্যন্ত ছাঁড়বো না।
---ছেঁড়ে দিন বলছি,,,
---না,, আমার কথাটা শুনে যাও তারপর।
---ভালো হচ্ছে না কিন্তু,,,কেউ দেখে ফেলবে।
---দেখলে দেখুক। তাতে আমার কিচ্ছু আসে যাই না।
---দেখলে দেখুক মানে,,? লাষ্টবার বলছি হাঁত ছেঁড়ে দিন। (রেগে)
---না দেব না। না ছাঁড়লে কি করবি তুই,,,
---ঠাসসসসস,,,
.
চলবে.........

বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (৮ম পর্ব)

ঝির ঝির করে বৃষ্টি পড়ছে।এ বৃষ্টি কখন থামবে কে জানে।সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে।ক্ষণিক বাদেই নিচে নেমে এলো মেয়েটা। মাজেদা বেগম মেয়ের পাশে দাঁড়াতেই একধরনের ঘোর কেঁটে যায় নিশাতের। পাশে তাকিয়ে দেখে মা দাড়িয়ে আছে।

---কিছু বলবা আম্মু,,।
.
মাজেদা বেগম মেয়ের কথাটা শুনে ভালো করে তাকালো মেয়েটার দিকে। আজ কয় দিন ধরে কেমন মন মরা হয়ে আছে।
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে উঠলেন।
---হ্যাঁ রে মা।
.
মায়ের এমন দেখে একটু আশ্চর্য হয়ে গেলেন। এমন করে তো কখন মা কথা বলে নাই।
---আম্মু তোমার কিছু হয়েছে,,,?
---না রে মা। আমার কিছু হয় নাই। (মন মরা করে)
---মন খারাপ তোমার,,,
---না,,,
.
মায়ের কথাটা শুনে বুকের মাঝে মোচন দিয়ে উঠলো।
---কি হয়েছে একটু বলবা,,,
---আর বলিস না,,তোর বাবাকে আজ মেরে ফেলতে যদি বাড়িওয়ালার ছেলে না থাকতো,,,আল্লাহ তায়ালা বাড়িওয়ালার ছেলেকে উছিলা করে বাঁচিয়ে রেখেছে।
.
মায়ের কথাটা শুনে অবাক হয়ে যায়।
---আব্বুকে কে মেরে ফেলতো,,?
---আজ সন্ধ্যার সময় টোকাই তোর বাবাকে ধরে বলে যা কিছু আছে সব দিয়ে দিতে। তুই তো জানিস তোর বাবা কেমন। সে দিতে অমত করে। ফলে খুর - ছুরি বের করে মেরে দিবে, তখন পাশ থেকে বাড়িওয়ালার ছেলে এসে টোকাইদের হাত থেকে খুর ছুরি কেড়ে নিয়ে তাদের মারে। তারপরে নাকি ছেলেগুলা দৌড়ে পালিয়ে যাই।
---আব্বু এখন কোথায়,,,?
---ফোন দিয়ে বলে যে রাস্তায় আছে।
---আমার ফোনটা বিছানায় আছে নিয়ে এসো তো,,,আচ্ছা আমি নিয়ে আসছি।
.
নিশাত চলে গেলো রুমে।
তারপরে আব্বুকে ফোন দেয়।
একবার ফোন রিং হয়ে কেটে গেলো।
---কি রে ফোন ধরেছে,,?
---না আম্মু। ফোন রিং হয়ে কেটে গেলো। আমি আবার ট্রাই করছি।
---আমার খুব টেনশনে আছি,,
---কোন টেনশন করো না তো আম্মু। ফোন দিচ্ছি আবার।
.
আবার ফোন দেয় নিশাত তার বাবাকে।
একটু রিং হয়ে রিসিভ করে।
---হ্যালো,,,
---আব্বু,,, তুমি কি ঠিক আছো,, (কেঁদে দিয়ে)
---আরে পাগলি কাঁদছিস কেনো,,। আমার কিচ্ছু হয় নাই। আল্লাহ তায়ালা " ফারহানের উছিলা করে বাঁচিয়ে রেখেছে।
---তুমি কি সত্যি বলছো আব্বু,,?
---হ্যা রে মা। আমি সত্যি বলছি। আমার কিছুই হয় নাই। তাই বলে কাঁদতে হবে পাগলি।
.
পাশে থাকা জাবেদা বেগমের ভেতর কেমন করে উঠে মেয়ের কাঁন্না দেখে।
---নিশাত কি হয়েছে তোর আব্বুর,,? আর কাঁদছিস কেনো,,?
---কিছুই হয় নি আম্মু। আব্বু ঠিক আছে,,
---মিথ্যে বলছিস নাতো,,,
---না আম্মু,,
---না আমার মন মানছে না মা। দে আমি কথা বলবো একটু,,
---আচ্ছা দিচ্ছি,, আব্বু আম্মু তোমার সাথে কথা বলবে।
---আচ্ছা দে,,
---এই নাও কথা বল,,,
.
নিশাতের মা ফোনটা নিয়ে কাঁন্না কন্ঠে বলে উঠলো,
---হ্যালো,,
---তুমি কি কাঁদছো এখনও,,,?
---না,,
---আরে বলেছি তো কিচ্ছু হয় নাই।
---তুমি তাড়াতাড়ি চলে এসো।
---আমি তাড়াতাড়ি আসছি,,,
.
ফোনটা নিশাতের কাছে দিয়ে দেয় নিশাতের মা। তারপরে আঁচল দিয়ে চোখটা মুছে মাজেদা বেগম রুমে চলে গেলো। নিশাতও মায়ের পিঁছু পিঁছু চলে গেলো।
.
.
ফারহান বাইক চালাচ্ছে। পিছনে আমজাত আলি বসে আছে।
ফারহান বুঝতে পারলো চোখটা মুঁছে ফেললো।
---আংকেল, আন্টি কি কাঁন্না করছে এখনও।
---হ্যাঁ বাবা। খুব টেনশনে আছে আমাকে নিয়ে।
---আপনি কেনো বলতে গেলেন কথাটা।
---আমি তো বলতে চাই নাই। আমার কন্ঠ শুনে তোমার আন্টি বুঝে ফেলেছে কিছু একটা হয়েছে। আমি বলি কিছু হয় নাই। কিন্তু, সে কাঁন্না করে দিল। তাই আর লুকাতে পারি নাই।
---আন্টি কি একাই বাসায় আছে,,?
---না বাবা। আমার মেয়েও আছে। আমি যে কথা বললাম। হয়তো তুমি শুনতে পাও নাই। নিশাত খুব ভালোবাসে আমায়।
.
ফারহান মনে মনে ভাবতে থাকে "নিশাত মানে,,,? তাহলে কি সেই মেয়েটা,,,? সেই মেয়েটা হলে তো দেখা হতো,,,? আর আংকেলের মেয়েটা তো দেখি নাই। হতেও পারে।
---নিশাত,,,
---তুমি নিশাতকে চেনো নাকি বাবা,,,
---না তো আংকেল। তাকে তো কোনদিন দেখি নি।
---ও,,, নাম বললে তাই আমি মনে করেছি তুমি চেনো।
---না আংকেল,,,আচ্ছা আংকেল আব্বুর কাছে শুনেছি এই দিকে আপনার অফিস না। কিন্তু, এখানে কেনো এসেছিলেন,,?
---আর বল না বাবা। এক কলিগের বাসায় জোর করে নিয়ে যায়। পরে সেখানে হালকা নাস্তা করে বের হতে হতে সন্ধ্যা হয়ে যায়।
---ও,,,
---আচ্ছা তুমি গাড়ি চালাও। না হলে কথা বলতে বলতে এক্সিডেন্ট হতে পারে।
.
ফারহান আর কোন কথা না বলে গাড়ি চালাচ্ছে,,,
.
আধঘন্টা পর বাসায় এসে পড়ে।
---ফারহান ভেতরে আসো,,,চা খেয়ে যাও,,,
.
ফারহান মিষ্টি হাসি দিয়ে বললো,
---না আংকেল অন্যদিন এসে চা খেয়ে যাব।
---অন্যদিন এসে খেয়ে যেও কিন্তু,,,
---জ্বী আংকেল। (মৃধু হেসে)
.
আমজাত আলি সিঁড়ি দিয়ে উঠি চলে গেলো।

ফারহান গাড়ি রেখে রুমে চলে যায়।
.
.
আমজাত আলি রুমে বসে আছে। পাশে মাজেদা বেগম বসা। আর অপর পাশে নিশাত বসা।
আমজাত আলি সব কথা খুঁলে বলে।
---আব্বু বাড়িওয়ালার ছেলে কে নিয়ে আসতে পার নাই।
---না রে মা। ফারহানকে অনেক বলেছি। কিন্তু, ছেলেটা আসলো না।
.
ফারহান,,! কোন ফারহান,,? বাড়িওয়ালার ছেলে কি তাহলে সে,,? না না বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে বেটা খচ্চরের তুলনা করা ঠিক না।
---আব্বু এক চা খেয়ে যেতে বললে ভালো হতো।
---মারে আমি কি তাকে বলি নাই। সে আসবেই না। তারপরে বলেছি, অন্য দিন চা খেতে আসবে কিন্তু। পরে সিকার হয়।
---আম্মু তুমি কাঁন্না কেনো করছো বলো তো। আল্লাহ তায়ালা " বিপদ থেকে মুক্ত করেছে। এটাই আল্লাহুর কাছে লাক্ষ লাক্ষ শুকুরিয়া।
---তুই একটু বুঝা মা। বাসায় আসা মাত্র একদম পাগল হয়ে গিয়েছিল।
---ঠিক আছে আব্বু। তুমি ফ্রেশ হয়ে আসো। খুব ক্ষুধা লেগেছে।
---আচ্ছা যাচ্ছি।
.
আমজাত আলি পোশাক চেন্জ করে ওয়াশরুমে চলে যায়।
মাজেদা বেগম এখনও ধ্যান ধরে বসে আছে।
---আম্মু চল।
---হ্যাঁ চল,,
---দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে নিও।
.
নিশাত আর মাজেদা বেগম কথা বলতে বলতে টেবিলে চলে যায়।
.
এদিকে মিজান সাহেব খেতে বসেছে।
ফারহানের কথাটা শুনে মমতা রহমান ও মিজান সাহেব অবাক হয়ে যায়। চৈতী অবাক হয়ে যায় ভাইয়ার কথাটা শুনে।
মমতা রহমান বলে উঠলো,
---কি বলিস এসব,,,
---হ্যাঁ আম্মু। যা বলছি সব সত্যি।
মিজান সাহেব খেতে খেতে বলে উঠলেন,
---কি দিনকাল এলো রে বাবা। এখন সন্ধ্যার সময় টোকাই ছিনতাই করে।
---আব্বু টোকাদের আবার সকাল, সন্ধ্যা, কিংবা রাত দেখার টাইম নাই। সুজুক পেলে কাজকর্ম করে ফেলে। সে যেই হোক।
---তোর কথাটা শুনে একটা কথা মনে পড়ে গেলো ফারহান।
.
চৈতী মাঝখান থেকে বলে উঠলো,
---কি কথা,,? তোমাকে কি টোকাই ধরেছিল কখন।
---না রে মা। সেরকম কিছু ঘটনা না।
---তাহলে।
---কি ঘটনা তাহলে আব্বু,,? (ফারহান)
---একদিন নিউ মার্কেট থেকে পশ্চিম পাশে একটা রাস্তা চলে গেছে। আমরা তো ছদ্মবেশে গিয়েছি। আমরা দারগা ও কনেস্টবল সহ ৮ জন ছিলাম । রাস্তার মোড়ে গাড়ি রেখে যাচ্ছি। ৫ জন আগে চলে যায়। আমি আর একটা কনেস্টবল আছি। বড় স্যারের সাথে ফোনে কথা বলছি। গাড়ি থেকে বেশি দূর হবে না। প্রায় ২০ হাত দূরে এসেছি। হঠাৎ করে ২ টা বাঁচ্চা আমার এক কনেস্টবলকে দেখে রাস্তার কাছে দাঁড়িয়ে যায়। আমি ফোনে কথা বলছি তাই পাঁশে আছি। কিন্তু একটু ফাঁকাফাঁকি। আমি ছেলে দুইটার কর্মকান্ড দেখছি আর স্যারের সাথে কথা বলছি। ছেলেটা চিনতে পারে নাই এইগুলি পুলিশ। পরে, একজন ছুরি ও একজন খুর বের করে বলে যা আছে বের করে দে। না হলে এই তোর ভুড়িতে মেরে দেব। কনেস্টবল আমার দিকে তাকালো একবার। আমি বুঝতে পারলাম। পরে স্যারকে বললাম, একটু পরে কথা বলি স্যার। পরে ফোন রেখে এগিয়ে গেলাম। ছেলে দুইটা একটু ভয় খেলো। পরে গিয়ে বললাম, বাবারা কি হয়ছে,,? ওনারে যেতে দিচ্ছো না কেনো,, "তখন ছেলেটা বলে উঠলো,,
---আমনে কিডা,,? আর ওনারে ছারতে কন ক্যা,,?
---তোমরা কি চাও বল,,?
.
পরে কথাটা শুনে একটা ছেলে আমার কাছে এসে ছুরি দেখিয়ে বলে,
---আমনের কাচে যাহাই আইচে বাহির করেন। না হলে এই ছুরিটা ভুড়ির ভেতর ঢুকাইয়া দিমু,,,
---আচ্ছা, রতন সাহেব আপনার যা যা আছে দিয়া দেন ,,।
.
আমার কথা শুনে রতন সাহেব কেমন জেনো হয়ে গেলো। পরে ঘড়ি, একটা পুরানো ফোন, আর ম্যানিব্যাগ দিয়ে দেয়।
তখন আমার পাশে থাকা ছেলেটা বলে উঠলো,
---আপনারটা গুলা দিয়া দিন।
---আমার কিছু নাই,, শুধু ফোন আছে নিবে।
---হ তাই নিমু,, দেন ফোনটা।
.
পরে ফোনটা দেওয়ার সময় ছুরি অন্য হাতে নেয়। তখন থপ করে ছেলেটাকে ধরে ফেলি। আমার দেখা দেখি রতন সাহেব ওই ছেলেকে ধরে ফেলে।
---আপনারা কিডা,,,
.
রতন সাহেব বলে উঠলো,
---পুলিশ,,
.
কথাটা শুনে ছেলে দুইটার ছানা বড় বড় হয়ে গেলো। মুখ শুকিয়ে গেলো। ভয় খেয়ে যায় প্রচন্ড ।
তখন দুইজন পা ধরে বলে,
---স্যার আমাগো মাইরেন না। আপনের পায়ে পরি। আমরা চিনতে হারি নাই। আমাগো ভুল হয়ছে। আমারে ছাইরা দেন স্যার।
---তোদের গডফাদার কে,,?
অন্য ছেলেটা বলে উঠলো,
---স্যার আমাগো কোন গডফাদার নাইক্যা,,,
---তাহলে তো তোদের থানায় নিতে হবে।
---স্যার সত্যি কইতাচি,, আমাগো কোন গডফাদার নাইক্যা,,কসম কইরা কইতাচি।
---তাহলে বল কতদিন ধরে এই ব্যবসা করছিস,,?
---২ মাস হলো,,
---তুই,,,
---স্যার আমি ৩ মাস ধইরা,,
---তাহলে তুই বল,, তোদের গডফাদার কে,,?
---হত্যি কইতাচি স্যার,, আমাগো কোন গডফাদার নাইক্যা,,
---তাহলে বল,, কেনো এই কাজ করছিস,,?
---স্যার, আমার মাইয়ের হাডের অসুখ,, তাই এই কাম কইরা বেরাই,,,
---থাপ্পড় চিনিস। একটা কানের নিচে মেরে কান ফাঁটিয়ে দেব। লজ্জা করে না,, এসব করতে।
.
পাশে থেকে একজন বলে উঠলো,
---স্যার কেন লজ্জা করবো,,কত বাসায় বাসায় আমরা দুই ভাই কামের লাইগা ঘুরচি। কেউ দেই নাই। পরে একদিন এক টোকাইকে দেখে আমরা এই কাজটা করি।
.
রতন সাহেব বলে উঠলো,
---স্যার শুনছেন ছেলেগুলির কথা। এরকম করে তো একদিন সন্ত্রাস হয়। আজ এই কাজ, কাল ওই কাজ করে একদিন সন্ত্রাস হয়ে যাবে ।
---হুমম ঠিক বলেছো,, ওদের থানায় নিয়ে গিয়ে আচ্ছামত ধোলাই দিলে ঠিক হইবো।
---স্যার ওর মায়ের বলে হৃদরোগ। ছেড়ে দেনগা স্যার।
---কি বল এসব।
---ওদের মুখ দেখে খুব মায়া লাগছে। মনে হচ্ছে ওরা সত্যি বলছে।
---আচ্ছা তুমি যেহুতো বলছো ছেড়ে দিব। কিন্তু, ভয় দেখিয়ে। পরবর্তী জেনো এই কাজ না করে।
---হুম স্যার,,,
---ওই তোদের বাড়ি কোথায়?
---ক্যান স্যার,,
---তোদের বাড়ি যাব আমরা।
.
ছেলেগুলি চুপ হয়ে গেলো ।
---কি রে চুপ হয়ে গেলি কেনো। বল বাড়ি কোথায়,,?
---স্যার,,, সামনের বস্তিতে,,।
---বল তোদের ছেড়ে দেব নাকি থানায় নিয়ে আচ্ছা মত ধোলাই দেব।
,
কথাটা শুনে এবার কেঁদে দিল দুজন।
---স্যার আমাগো ছাইরা দেন।
---একটা সর্তে ছাড়ব।
---কি সর্ত স্যার,,
---যদি আজ থেকে তোরা এই ব্যবসা ছেড়ে দিস।
---হ স্যার ছাইরা দিমু যান,,, কতা দিতাচি,,
---সত্যি,, নাকি ভয়ে ভয়ে বলছিস।
---না স্যার হত্যি কইতাচি,,,
---এই নি ১০০০ টাকা। কালকে টাকাটা দিয়ে ম্যাগাজিন পেপারে কিনে বিক্রি করবি। আর যে টাকা বাঁচবে, সেই টাকা দিয়া তোর মায়ের জন্য ঔষুধ কিনে নিয়ে যাবি। আর এই দিলাম ৫০ টাকা। এইটা দিয়া কিছু কিনে খাবি।
---স্যার একটা সত্যি কথা কমু,,,
---তাহলে এতক্ষণ মিথ্যে কথা বলছিলি।
---হ স্যার,,,আমাগো মা মইরা গেচে। আব্বা বিয়া করতে আবার। সেই সৎমা দেখতে পারে না। ঠিকমত খাইতে দেইনা। পরে আমরা দুইভাই এই কাম করি এখন,,
.
কথাটা বলে কাঁদতে লাগে। তখন মায়া লেগে যায়। পরে সব টাকা দিয়ে বললাম,
---সব টাকা দিয়ে ম্যাগাজিন পেপারে বিক্রি করবি,,। আর ৫০ টাকা দিয়ে খাবি দুজনে। যদি কোন টাকার প্রয়জোন হয়। আমার কাছে আসবি। তবুও এই কাজ করিস না।
---ঠিক আচে স্যার,,
.
পরে টাকা দিয়ে দিলাম। ছেলেগুলি সত্যি কেঁদে দিয়ে পা ধরে ক্ষমা চায়। পরে ছেড়ে দিলাম।
ওদের তো বেশি দোষ নেই। একজন মা পারে সন্তানকে লালনপালন করতে। সুশিক্ষিত করতে। আদর্শবান করতে। ওদের মা বেঁচে থাকলে এমন হতো না।
.
ফারহান বাবার কথাটা শুনে অবাক হয়ে যায়।
---আব্বু ওরা কি সত্যি, সত্যি ভালো হয়ে যায়। নাকি, তোমাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য এমন করেছে।
---না রে বাবা। সত্যি, সত্যি, আল্লাহ্ তায়ালা ওদের ভালো করেছে। ৩ বছর পর একদিন দেখা হয়ে ছিল। পরে ছালাম করে। অনেক কিছু বলে। আমি প্রথমে চিনতাম না। পরে সেদিনের ঘটনা বললো। তখন চিনতে পারলাম। পরে বলে, যদি, সেদিন এমন করে মায়া না দেখাতেন। তাহলে আমরা ভালো হয়ে যেতাম না। আল্লাহ তায়ালা " আপনাদের উছিলায় খারাপ পথ থেকে ফিরিয়ে এনেছে।
---যাক তাহলে ভালো হয়ে গেছে। এটাই আল্লাহুর কাছে লাক্ষও কোটির শুকুরিয়া। জীবনে ভালো কাজ না করতে পারলে একটা করেছো।
.
কথাটা শুনে মমতা রহমান বলে উঠলো,
---আরও অনেক ঘটনা আছে। যা শুনলে অবাক হবি তোরা।
---তাহলে আব্বু বল শুনবো,,(চৈতী)
---এখন খাও পরে বলবো।
---ঠিক আছে আব্বু,,
.
খেয়ে যার যার রুমে চলে যায় সবাই।

ফারহান নিজেকে গর্ব করে মনে মনে বলে, একজন আদর্শ বাবা পেয়েছি আমি। তোমাকে সেলেট করলাম আব্বু।
তারপরে একসময় ঘুুমিয়ে যায় ফারহান।
.
.
.
চলবে,,,

বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (৭ম পর্ব)

সকাল ৯টা। কাঁথাটা গায়ে চড়িয়ে, ফুল স্পিডে ফ্যান ছেড়ে ঘুমাচ্ছি। ক্লান্ত চোখে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকালাম।

.
আম্মু ফোন দিয়েছে ! ফোনটা রিসিভ করে কানে নিলাম।
---হ্যালো,,,
---কি রে এখনও ঘুুমিয়ে আছিস,,!
---না আম্মু।
---থাক আর মিথ্যে বলতে হবে না। তাড়াতাড়ি উঠে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নি। পরে ফোন দিব।
---ঠিক আছে আম্মু,,,
.
তুত তুত করে ফোনটা কেটে গেলো।
নিশাত ঘুুমিয়ে ছিল এতক্ষণ। সকালে একবার রেখা বেগম (নিশাতের বড়আম্মু) ডেকে ছিল। কিন্তু, নিশাত উঠে নাই। তাই আর চেষ্টা না করে চলে যায়। কারণ, যখন নিশাত ঘুম পাড়বে যেদিন। সেদিন তার ইচ্ছে মত ছাড়া ঘুম থেকে উঠবে না।

যাক এবার তাহলে উঠে ফ্রেশ হয়ে খেতে হবে। একবার ফোনের স্ক্রিনে ঘড়ির টাইম দেখে ছিল। ঘড়ির কাটা তখন ৯:৫১ মিনিট। বিছানা থেকে উঠে ওয়াশ রুমে চলে গেলো নিশাত।
.
.
ফারহান সোফায় অর্ধশুয়ে বই পড়ছে। পাশে মমতা রহমান বসে আছে চৈতীকে মাথায় তেল দিয়ে দিচ্ছে।
মিজান সাহেব বাসায় নেই।
মমতা রহমান বলে উঠলো,
---ফারহান,,
.
ফারহান পাশে ছিল বলে মায়ের ডাকের সাথে সাথে মায়ের দিকে তাকালো বই রেখে। তারপর বলে উঠলো,
---জ্বী আম্মু,,কিছু বলবা,,?
---হুম।,,, আমার প্রেসারের ঔষুধ শেষ হয়ে গেছে।
---আচ্ছা আমি রাতে এনে দিব।
.
পাশ থেকে চৈতী বলে উঠলো,
---ভাইয়া আমার জন্য ক্যাটবেরী, চিপস্ আনিস।
---তুই কি এখনও ছোট আছিস।
---আম্মু তুমি বল আমি কি বড় হয়েগেছি।
---এমনি বলে,,,
---না না ভাইয়া আমাকে সত্যি সত্যি বলেছে। ওই দেখছো মুচকি মুচকি হাসতেছে।
---আচ্ছা ফারহান এনে দিস।
---আমি কোন বুড়িকে এগুলি এনে দিব না।
---দেখছো আম্মু আমাকে বুড়ি বললো আবার,,, (বাঁচ্চা মেয়েদের মত)
---বুড়ি বললে কি হয়।
---তুই তো বুড়ি,,,
---তুই বুড়ি,,,, ধ্যাত,, তোর বউ বুড়ি হবে দোয়া করলাম,,, আবার হাসোস তুই,,, আম্মু আমার কিন্তু রাগ উঠে গেছে।
.
ফারহান আর কিছু বলছে না। কিছু বললে পিঠের উপর সোফার ফর্ম দিয়ে বাড়ি দিবে। রেগে গেছে চৈতী। বুড়ি বললে রেগে যাবে চৈতী। তাই ফারহান মাঝে মাঝে বুড়ি বলে রাগায়।
---হয়ছে, হয়ছে আর রাগাতে হবে না। আর তুইও বুড়ি বললে রেগে যাওয়ার কিছু আছে,,,
---বলবে কেনো। আমি কি বুড়ি,,,
---হ তুই ৮০ বছরের বুড়ি, বুড়ি,,,
,
কথাটা বলে ফারহান দৌড়ে রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। না হলে ফারহানের অবস্থা ভয়াবহ করে দিবে কিল,গুসি মেরে। তাই সেই ভয়ে দৌড়ে পালায় ফারহান।
---তোর বউ ৮০ বছরের বুড়ি,,, পালাস ক্রে তুই। সাহস থাকলে সামনে এসে বুড়ি বল।
.
ফারহান জানালা দিয়ে বলে উঠলো,
---কি করবি বুড়ি তুই আমার,,,
---তুই বাইরে এসে বল ভিতুর ডিম।
---বুড়ি,,,,,
.
চৈতী তেলের বোতল দিয়ে জানালার দিকে ঢেল ছুঁড়ে। ততক্ষণে ফারহান জানালা বন্ধ করে দেয়।
.
.
ঝির ঝির করে বৃষ্টি পড়ছে।এ বৃষ্টি কখন থামবে কে জানে।সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে।ক্ষণিক বাদেই নিচে নেমে এলো ফারহান।

মেয়েটা আশেপাশে থাকলেই একধরনের সুবাস পাওয়া যায়।চন্দ্রগ্রস্থ রাতে হাসনাহেনার তীব্র নেশা ধরানো সুবাস।এটা সত্যি নাকি মিথ্যা জানেনা নিশাত।
---আজকের ওয়েদারটা খুব সুন্দর না?
---জী?আমাকে বলছেন?
---আপনি ছাড়া কেউ আছে নাকি এখানে?
---ফারহান অনুভব করছে হঠাৎ করেই হৃদস্পন্দনটা বেড়ে গেছে।তবু নিজেকে যথেষ্ট স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে বলল তা অবশ্য ঠিক।হ্যাঁ খুব সুন্দর লাগছে ওয়েদারটা।
---আপনার বৃষ্টি ভালো লাগে?
---অতটা খারাপ ও লাগে না।
---বৃষ্টিতে ভিজেছেন কখনো?
---না।
---ওমা!সেকি!বৃষ্টিতে ভিজেননি কখনো?ফুটবল খেলেননি কখনো বৃষ্টিতে?
---না।খেলিনি।
---আচ্ছা আপনি এরকম গাব গাছ কেন?আমিই বক বক করছি।
---আসলে কি বলব বুঝতে পারছিনা।
---লাইব্রেরীতে যেয়ে যখন বসে থাকেন?কিংবা ক্যাম্পাসে যখন আমাকে দেখে থমকে দাঁড়ান?তখন বলতে ইচ্ছা করে কিছু?
---না মানে…
---শুনুন আমি আপনার মত গাধা না।একটা মেয়ে ঠিক বুঝতে পারে তার চারপাশে কি হচ্ছে।তবু তাকে চুপ করে থাকতে হয়।সব বিষয় নিয়ে মাতামাতি করার স্বাধীনতা একটা মেয়েকে দেয়া হয়নি।
---তুমি খুব গুছিয়ে কথা বল।
---তুমি?আপনি থেকে তুমি হয়ে গেলো?
---ও সরি।কিছু মনে করবেন না।
---সরি বলতে হবে না।সন্ধ্যা হয়ে গেছে প্রায়।বৃষ্টি থামার লক্ষণ নেই কোনো।আমার বাসায় যাওয়াটা বেশ দরকার এখন।দেরী হলে সমস্যায় পড়তে হবে।একটা রিক্সা ঠিক করে দিনতো।
---এখানে তো রিক্সা নেই।
---রিক্সা নেই তা আমিও দেখতে পাচ্ছি।সে জন্যই আপনাকে বলছি।
---আমি ছাতা আনিনি।
---আপনাকে বৃষ্টিতে ভিজেই যেতে বলছি।যাবেন নাকি গাবগাছের মত দাঁড়িয়ে থাকবেন?
---আচ্ছা যাচ্ছি।
.
বৃষ্টিতে ভিজেই মেয়েটাকে রিক্সা ঠিক করে দিলো ফারহান।অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করছে ওর মাঝে।রিক্সা চলতে শুরু করেছে।রিক্সার চাকার গতিতে পিচঢালা পথে বৃষ্টির পানি ছিটকে পড়ছে।রাহাত তাকিয়ে আছে সেদিকে।একটু যেতেই রিক্সা থামিয়ে পেছন ফিরে তাকালো মেয়েটা।"আর বৃষ্টিতে ভিজে কাজ নেই।
হঠাৎই ঘুমের মাঝে ধাক্কা খেয়ে উঠে নিশাত। ইস কত সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখতেছিলাম। আর ধাক্কা দিয়ে দিল স্বপ্নের ১২ টা বাজিয়ে।
---কি হয়েছে বড়আম্মু,,? এভাবে ধাক্কা দিচ্ছো কেনো?
---তোর ফোন বাজে কখন থেকে,,,
---কই,,,
---এই মাত্র বেজে কেটে গেল।
---তাই এভাবে ঘুমটা ভেংগে দিলে ধাক্কা দিয়ে।
---কেনো,,,?
---ইস কত সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখতেছিলাম,,,
.
কথাটা বলে জিব্বাহ্ কামড় দেয় নিশাত।
---কি স্বপ্ন দেখছিলেন এই রাত ৮টার সময়,,,?
---কই নাতো,,,
---এই মাত্র তো বললেন ম্যাডাম।
---বড়আম্মু মুখ ফোঁসকে বের হয়ে গেছে।
---আচ্ছা ম্যাডাম, রাজকুমারটা কে ছিল,,,?
---বড়আম্মু,,,
---হ্যাঁ! আমি তো বড়আম্মু।
---সব শুনতে হয় না বুঝলা,,,।
---তা রাজকুমারটা কে সেটা কি শোনা যাবে না রাজকুমারী,,,!
---না,,, সেটা শুনে তুমি কি করবা শুনি।
---দেখতাম যে আমার রাজকুমারীর সাথে কে স্বপ্নে আসে,,,। (মুচকি হেসে)
---ধ্যাত তুমি না।
.
কিচিনে থেকে রহিজ আলি "রেখা বলে ডাক দিল।
তখন রেখা বেগম বলে উঠলো,
---আসতেছি,,,
.
কথাটা বলে রেখা বেগম চলে যেতে লাগলেন ।
কি মনে করে দরজার কাছ থেকে ফিরে এসে বললেন,
---ওহ্! তোর মাথা ব্যথা কমেছে।
---হুমম বড়আম্মু।
---আচ্ছা এখন আর ঘুমাতে হবেনা। উঠে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে টেবিলে চলে আয়। রান্না শেষ হয়ে যাবে ২-৩ মিনিটের মধ্যে।
.
কথাটা বলে রেখা বেগম চলে গেলো।
নিশাত বিছানায় বসে আছে। তিন দিন হলো বড়আম্মুর বাড়িতে এসেছে। কিন্তু, তিন ধরে কোন না কোন স্বপ্ন দেখেছে। সেটা আবার ওই ছেলেকে নিয়ে।

নিশাত মনে মনে ভাবতে থাকে "ওই ছেলের সাথে স্বপ্নের ছেলেটার সাথে কোন মিল নেই। আহ্! ছেলেটা কত সুন্দর। কথা বলার সময় কত সুন্দর করে কথা বলে। যে কেউ তার প্রেমে পড়ে যাবে। আর ওই ছেলে একটা খচ্চর বেটা। আমাকে সহ্য করতে পারে না।
সে কেনো আমার স্বপ্নঘরে আসে। নাকি এই তিন দিনে তার প্রেমে পড়েছি। দুর- আমি এসব কি ভাবছি।
কথাটা বলে মাথায় হাত দিয়ে থাপ্পড় দেয় নিশাত।
কিন্তু, আমি কি তার প্রেমে পড়ে গেছি,,? দুর, এভাবে কি প্রেম হয়,,? সিনেমাতে তো অন্যরকম ভাবে প্রেম হয়।
না, না এটা হতে পারে না। ছেলেটা আমাকে পাগল করে দিয়েছে। আমি পারছিনা কেনো তাকে ভুলতে,,! সে কি আমাকে মিস করেছে এই তিন দিনে,,? দুর,,আমাকে কেনো সে মিস করবে,,,।

আমি কি তাকে এই তিনদিনে ভালোবেসে ফেলেছি,,? কেনো এসব ভাবছি আমি। সেটাই তো বুঝতে পারছিনা। ভালোবাসা কি তাহলে এভাবে হয়,,? সেটাও জানি না,,,।

আমি কেনো এসব ভাবছি,,। কখন না সে আমাকে ভালোবাসবে। কিন্তু, চৈতী তার কে হয়,,? কাল বাসায় গিয়ে জিজ্ঞেস করবো,,। না, না, এসব জিজ্ঞেস করা যাবে না। সে কি ভাববে। আমি পারবো না।
আচ্ছা, এটা কি ভালোবাসা,,? নাকি ভালো লাগা,,! হতে পারে ভালো লাগা। যেরকম সবার আমার প্রতি ভালো লাগা ছিল।
দুর কিসব ভাবছি আমি,,,!

কথাটা বলে আবার নিশাত মাথায় হাত দিয়ে থাপ্পড় দিয়ে হেসে উঠে।
অন্যরুম থেকে শব্দ এসে নিশাতের এলোমেলো ভাবনায় ছেদ পড়লো,,
---কি রে নিশাত তোর কি হলো,,,! না এখনও ফ্রেশ হচ্ছিস,,!

নিশাত তাড়াতাড়ি করে বিছানা থেকে উঠে ওয়াশ রুমে ঢুকতে ঢুকতে বলে উঠলো,,
---এই তো হচ্ছি,, আর একটু ওয়েট কর,,
কথাটা বলে দৌড়ে চলে গেলো ওয়াশ রুমে,,,
.
.
রাস্তাটা এখনি কেমন খালি হয়ে গেছে | মানুষজন তেমন একটা নেই,আর কয়েকটা রিক্সার এদিক ওদিক ছুটে চলা | পিচঢালা পথটায় মানুষ,রিক্সায় সবকিছুর ছায়া পড়ছে | জোছনা দিয়ে গড়া একেকটা ছায়া | আকাশে যে আজ বিশাল একটা চাদঁ,তাইতো এত জোছনা ! সেসব ছায়ার উপর নিশ্চুপ হেটে চলেছে ফারহান।

ফারহানের এক হাতে ওষুধ আর অন্য হাতে চিপস্ আর ক্যাটবেরী চকোলেট,,,
সেগুলি নিয়ে হেঁটে হেঁটে চলে যাচ্ছে ফারহান।
মাঝে মাঝে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে ফারহান। কাকে যেনো খুঁজে বেড়াচ্ছে ফারহান। কিন্তু, কোথাও তার দেখা মেলছে না।
হ্যা এই দুই দিন ধরে মিস করেছে মেয়েটাকে। খুব মিস করেছে। কালতো সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বসে ছিল তিন রাস্তার মোড়ে। যদি দেখা হয় তাহলে কোন কথা না বলে ডাইরেক্ট স্যরি বলে কেটে পড়বে।
স্যরি না বলা পর্যন্ত ঘুমাতে পাড়ছেনা ফারহান । মেয়েটার চোখের অশ্রু ফারহানের চোখের সামনে ভেসে উঠছে।
দুইদিন নিজের সাথে বুঝে দেখেছে মেয়েটার কোন দোষ নেই। সব দোষ ফারহানের। আর যাই হোক স্যরি বলে তার সামনে আর কখনও আসবো না।
কথাগুলি মনে মনে বলতে বলতে কারও সাথে ধাক্কা খেয়ে ল্যাম্পপোস্টের সাথে কপালে ব্যথা পায়।
ভালো করে তাকিয়ে দেখে একটা লোক তার দিকে গরম চোখে তাকিয়ে আছে।
দেখে তো ভদ্রলোক মনে হচ্ছে। স্যুট, প্যান্ট, কোট টাই পড়া। কিন্তু, ভদ্রলোকটা এই রাতে এভাবে ফুঁটপাতের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে কেনো,,,?
বুঝতে না পেরে ফারহান চিপস্ আর ক্যাটবেরী চকোলেট মাটি থেকে কুঁড়িয়ে নেয়।
তারপর ভদ্রভাবে ভদ্রলোকটাকে ফারহান স্যরি বলে দেয়।
ভদ্রলোকটা ফারহানের কথাটা শুনে তিনগুণ রেগে গিয়ে বলে উঠে,,
---এই ছেলে রাস্তায় হেঁটে চলছে নাকি আঁকাশে হেঁটে চলছো,,,! চোখে দেখ না। রাস্তায় কি ঘুম পাড়ছো নাকি হাঁটছে,,
---জ্বী,, আপনি কি ঘুম পাড়েন আর হাঁটেন,, (ফিসফিস করে)
---এই ছেলে কি বললে তুমি,,,?
---কিছু না আংকেল,,।
---মিথ্যে বল কেনো,,,। নিশ্চয় কিছু বলেছো আমাকে,,,
---না মানে,, ওই আর কি,,
.
কথাটা বলে পাঁশ কাঁটিয়ে চলে এলাম। আসার সময় শুনতে পেলাম"" এখন কার ছেলেরা একদম বেয়াদব। কার সাথে কি রকম কথা বলতে হয় সেটাও জানে না। ইডিয়েট কথাকার।

পিছন ফিরে একবার তাকালাম। দেখি লোকটা খুব দ্রুত হেঁটে চলে যাচ্ছে । মনে হচ্ছে বাসায় যেতে হবে তাড়াতাড়ি। লোকটা কেমন জানি বেশি কথা বলে। কপালে ব্যথা করছে।
আমি আর কিছু না ভেবে দ্রুত হাঁটা দিলাম বাড়ির পথে।
.
.
আজ নিশাতের বাবা আমজাত আলি নিশাতকে নেওয়ার জন্য এসেছে।
রাতে ফোন করে নিশাতের মা নিশাতের বড়আম্মুর কাছে। রাতে কথা বলে ফোন রেখে দেয়।
তখন থেকে রেখা বেগমের মন খারাপ। তিনদিন নিশাত ছিল তারকাছে। খুব ভালো লেগেছে তার। একদম নিজের মেয়ের মত।
সকাল সকাল তাই আমজাত আলি চলে আসে বড় ভাইয়ের বাসায়।
নিশাত রেডি হয়ে বের হয় বাসায় যাওয়ার জন্য। আজ মনটা ব্যাকুল হয়ে গেছে।

নিশাত ব্যাগ গোছাচ্ছে আর পাশে রেখা বেগম মন খারাপ করে বসে আছে। চোখের কোণে এক চিলতে অশ্রু। হয়তো সন্তান নেই বলে অনেক কাঁদে মনে মনে। আল্লাহ তায়ালা তাকে সন্তান দান করে নাই। সব আল্লাহুর ইচ্ছা।
তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে সন্তান দিতে পারে। আবার যাকে ইচ্ছা তাকে সন্তান নাও দিতে পারে।
তবুও রেখা বেগম কখন আল্লাহুকে কিছু বলে না। সে বিশ্বাস করে "আল্লাহ তায়ালা তাকে ভালোবাসে। আর এইটা তার পরীক্ষা।
রেখা বেগম নামাজ পড়ে আল্লাহুর কাছে শুকুরিয়া করে।
.
প্রায় ব্যাগ গোছানো শেষ তখন নিশাত একবার রেখা বেগমের দিকে তাকালো। দেখে যে রেখা বেগম আঁচল দিয়ে চোখের অশ্রুটুকু মুঁছে ফেললো।
---আম্মু মন খারাপ কেনো করছো,, আমি তো আবার আসবো,,তুমি প্লিজ কেঁদো না।
.
রেখা বেগম কোন কথা বললো না। তার যে ভেতর থেকে কোন কথা বের হচ্ছে না।
---আম্মু প্লিজ,,,তাহলে আর কোন দিন কথাও বলবো না আর আসবো না কোন দিন। (ব্যাগ গোছানো বাদ দিয়ে)
---দুর পাগলি। এসব বলতে নাই। (বিষাধকন্ঠে)
---আম্মু তুমি চল আমাদের সাথে।
---না রে মা তোর আংকেলের একা একা অনেক কষ্ট হবে। ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করতে পারবে না।
---আমাদের ওখান থেকে পৌরসভায় যেতে পারবে।
---না রে মা। সেটা সম্ভবনা।
---তাহলে কবে যাবে বল।
---যাব একদিন।
---সত্যি।
---হুম।
.
ড্রয়িংরুমে থেকে রহিজ আলি বলে উঠলো,
---এই নিশাত,, তোর হল মা।
---এইতো আংকেল হয়েগেছে।
.
নিশাত আর রেখা বেগম রুম থেকে বের হলেন। রেখা বেগমের চোখে অশ্রুর কোণা।
---আংকেল আম্মুকে নিয়ে সামনে সপ্তাহে আমাদের নতুন বাসায় ঘুরে এসো।
---ঠিক আছে মা নিয়ে যাব।
---আম্মু ভালো থেকো। (চোখটা মুঁছে)
---তুইও ভালো থাকিস মা।
.
আমজাত আলি বড়ভাইকে আর ভাবিকে বলে রওনা দিল।
রেখা বেগম নিশাতকে বিদায়। যতক্ষণ নিশাতদের গাড়ি দেখা যাচ্ছে ততক্ষণ চাঁতক পাখির মত তাকিয়ে ছিল।
তারপরে দৌড়ে রেখা বেগম রুমে চলে যায়।
সেটা দেখে রহিজ আলি রেখা বেগমের পিঁছু পিঁছু চলে আসে।
জানে আজ খুব কাঁদবে খুব।
.
রহিজ আলির বুকে মাথা গুঁজে অঝরে কেঁদে যাচ্ছে রেখা বেগম। রহিজ আলি মাথায় হাঁত বুলিয়ে দিচ্ছে। কিছু বলছে না। কি বলবে কিছু বলার নেই তার।
.
.
.
.
চলবে,,,,